রনি আহমেদ রাজুঃ
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) সাবেক দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সংগঠনের উপজেলা শাখার সাবেক সদস্য নাফিস আহমেদ স্বাধীন (২২) ও সিজান মাহমুদ সানি (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ ফরিদপুরের একটি জুটমিলে চাকরি করেন। গত ৫ জানুয়ারি সোমবার রাত ১১টার দিকে ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে মহম্মদপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মেসবার ইটভাটার মোড়ে গাড়ি থেকে নামেন। এসময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা চার যুবক তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে পাশের একটি নির্জন মেহগনি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে অভিযুক্ত সিজান মাহমুদ সানি, নাফিস আহমেদ স্বাধীন, রুবেল ও সুমন তাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী বাড়ি ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানান। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে তিনি স্বজনদের সহায়তায় মহম্মদপুর থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশি অভিযানে প্রধান দুই অভিযুক্ত সানি ও স্বাধীনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতেই ভুক্তভোগীর অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের বুধবার (৭ জানুয়ারি) আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের সাংগঠনিক পরিচয়ের বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুসাইন জানান, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় মহম্মদপুর উপজেলা কমিটি অনেক আগেই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গত আট মাস ধরে সেখানে আর কোনো সাংগঠনিক কমিটি কার্যকর নেই।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, থানায় অভিযোগ দায়েরের পরপরই আমরা দুজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই এবং রাতে মামলা রুজু করা হয়। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম গুরুত্বের সাথে অব্যাহত রয়েছে। পলাতক অপর দুই আসামি রুবেল ও সুমনকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে এবং বিশেষ অভিযান চলছে।
এই পৈশাচিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রিন্ট

সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে 
রনি আহমেদ রাজু, নিজস্ব প্রতিনিধি 




















