ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে Logo মধুখালীর রায়পুর ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু Logo মধুখালীতে দোয়া মাহফিল ও গণমাধ্যম কর্মিদের সাথে মতবিনিময় Logo বাঘায় মুক্তিযোদ্ধার সাথে সংসদ সদস্য প্রার্থী চাঁদের মতবিনিময় Logo শিবগঞ্জে চোখ উপড়ে পাহারাদারকে হত্যা Logo মধুখালীতে সাংবাদিক সাগর চক্রবর্তীর মোটরসাইকেল চুরি Logo বালিয়াকান্দিতে মোবাইলকোট পরিচালনায় দুই ট্রলি চালককে জরিমানা  Logo বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য পালশা ডে নাইট শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত Logo তানোর বিএনপির রাজনীতিতে জাহাঙ্গীরকে দায়িত্বশীল পদে দেখতে চায় তৃণমুল Logo কালুখালীতে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

নোয়াখালীতে ১৭ মাস পর তোলা হলো ইমতিয়াজের লাশ

মোহাম্মদ আবু নাছেরঃ

 

নোয়াখালীর চাটখিলে ইমতিয়াজ হোসেন (২২) নামে এক তরুণের লাশ (হাড়গোড়) সতের মাস পর কবর থেকে তোলা হয়েছে।

 

বুধবার ( ৭ জানুয়ারি ) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার হাট পুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এ লাশ উত্তোলনের করা হয়। এর আগে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমতিয়াজ ঢাকায় মারা যান। পরে সেদিন রাতেই তাকে দাফন করা হয়েছিল।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর ইমতিয়াজ চাটখিল পৌরবাজারের জনতার আনন্দ মিছিলে অংশ নেন। ওই সময় চাটখিল থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। থানার অস্ত্র লুটের কিছু সময় পর গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকার একটি হাসপাতালে সে মারা যায়। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইমতিয়াজ নিহত হয়েছেন।

 

এমন অভিযোগে গত ২২ মে নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নোয়াখালী-১ আসনের সাবেক এমপি এইচ এম ইব্রাহীম, সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন মোহাম্মদ উল্ল্যাহসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ৭০-৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এই মামলার তদন্তের প্রয়োজনেই আদালতের আদেশে আজ মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

 

লাশ তোলার সময় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদত হোসেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চাটখিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

 

ইমতিয়াজের বাবা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার ছেলে জুলাই যোদ্ধা। সে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে। আমার ছেলে ৫ আগস্ট আমার সাথে বিজয় মিছিলে যায়। আমার ছেলেকে সেদিন গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।

 

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোনাফ বলেন, আদলতের নির্দেশে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। পরে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের প্রায় ২ মাস পর ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হাবিবুর রহমান ছেলেকে জুলাই শহীদের স্বীকৃতির জন্য প্রশাসন আবেদন করেন এবং পরবর্তীতে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। পরবর্তীতে আবার তার জুলাই শহীদের স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গণধর্ষণের অভিযোগে মহম্মদপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক ২ নেতা গ্রেফতার

error: Content is protected !!

নোয়াখালীতে ১৭ মাস পর তোলা হলো ইমতিয়াজের লাশ

আপডেট টাইম : ৬ ঘন্টা আগে
মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :

মোহাম্মদ আবু নাছেরঃ

 

নোয়াখালীর চাটখিলে ইমতিয়াজ হোসেন (২২) নামে এক তরুণের লাশ (হাড়গোড়) সতের মাস পর কবর থেকে তোলা হয়েছে।

 

বুধবার ( ৭ জানুয়ারি ) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার হাট পুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এ লাশ উত্তোলনের করা হয়। এর আগে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমতিয়াজ ঢাকায় মারা যান। পরে সেদিন রাতেই তাকে দাফন করা হয়েছিল।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর ইমতিয়াজ চাটখিল পৌরবাজারের জনতার আনন্দ মিছিলে অংশ নেন। ওই সময় চাটখিল থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। থানার অস্ত্র লুটের কিছু সময় পর গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকার একটি হাসপাতালে সে মারা যায়। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইমতিয়াজ নিহত হয়েছেন।

 

এমন অভিযোগে গত ২২ মে নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নোয়াখালী-১ আসনের সাবেক এমপি এইচ এম ইব্রাহীম, সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন মোহাম্মদ উল্ল্যাহসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ৭০-৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এই মামলার তদন্তের প্রয়োজনেই আদালতের আদেশে আজ মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

 

লাশ তোলার সময় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদত হোসেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চাটখিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

 

ইমতিয়াজের বাবা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার ছেলে জুলাই যোদ্ধা। সে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে। আমার ছেলে ৫ আগস্ট আমার সাথে বিজয় মিছিলে যায়। আমার ছেলেকে সেদিন গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।

 

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোনাফ বলেন, আদলতের নির্দেশে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। পরে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের প্রায় ২ মাস পর ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হাবিবুর রহমান ছেলেকে জুলাই শহীদের স্বীকৃতির জন্য প্রশাসন আবেদন করেন এবং পরবর্তীতে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। পরবর্তীতে আবার তার জুলাই শহীদের স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়।


প্রিন্ট