আলিফ হোসেনঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মোহনপুরের ধুরইল ইউনিয়নের (ইউপি) বড় পালশা পুর্ব বিলে ফসলি জমিতে জোরপুর্বক অবৈধ পুকুর খননকে বাধা দেয়ায় এক্সেভেটর (ভেকু) মেশিনের চাকায় পিষ্ট করে আহমেদ জোবায়ের (২২) নামে এক যুবককে হত্যার মামলার অন্যতম আসামি ও পুকুর খননের মুলহোতা বিপ্লব হোসেনকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃত বিপ্লব হোসেন উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়নের (ইউপি) ভাতুড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আলিম খামারুর পুত্র। গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি উপজেলা থেকে র্যাব–৫ রাজশাহী ও র্যাব–১০ ফরিদপুরের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে মোহনপুর থানা পুলিশ।
এর আগে ঘটনার দিনই টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কদিম হামজানি গ্রামের এম এ সবুরের পুত্র আব্দুল হামিদকে (২৮) গ্রেপ্তার করে মোহনপুর থানা পুলিশ। তিনি ভেকু মেশিনের চালক ছিলেন। আব্দুল হামিদকে চার দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
গত ১৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোহনপুর উপজেলার বড় পালশা গ্রামের পালশা পূর্ব বিলে পুকুর খননকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত আহমেদ জোবায়েরের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০–১৫ জনকে আসামি করে থানায় হত্য মামলা করেন।
মামলার অন্য এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন মোনারুল ইসলাম ওরফে রুহুল আমিন (৩৩), জাকির হোসেন (৩০), রুবেল হোসেন (৩৮), আনিসুর রহমান বকুল (৪৬) ও গোলাম রাব্বি (২৬)।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আহমেদ জোবায়ের ওই রাতে ভেকু মেশিনে মাটি কাটতে নিষেধ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়। ভেকু মেশিনের চাকা তার শরীরের ওপর দিয়ে চালিয়ে দিলে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন জোবায়ের। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এবিষয়ে মোহনপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) ইয়ামিন আলী বলেন, “গ্রেপ্তার আসামি বিপ্লব হোসেনকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। মামলার তদন্ত দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
এবিষয়ে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, “এজাহারভুক্ত বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা জুড়েই একটি সিন্ডিকেট চক্র দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি নষ্ট করে অবৈধভাবে পুকুর খনন করছে। তাদের ‘ম্যানেজ’ করলে কেউ বাধা দিতে পারে না। নিহত জোবায়েরকে হত্যা করার সময়ও উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়নের (ইউপি) ভেটুপাড়া বিলে হেলাল নামের এক ব্যক্তি ছয় বিঘা জমিতে পুকুর খনন করছিলেন। এছাড়া জাহানাবাদ ইউনিয়ন (ইউপি) বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বিরহী বিলে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ভুট্টু মতিহার বিলে ১৪ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করছিলেন। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভুট্টুর ভেকুর ইঞ্জিন বিকল করে দেয়।
এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা জানান, “বর্তমানে উপজেলার সব পুকুর খনন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
এদিকে পুকুর খননকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ প্রভাবশালী মহলকে আইনের আওতায় না আনলে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।
অন্যদিকে তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের অনুমতি ব্যতিত এখানো পুকুর খনন ও ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বরা মাটি(টপসয়েল) কাটা হচ্ছে।
প্রিন্ট

সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 




















