দলীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার সবপর্যায়ের কমিটির শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের অনুসারী। শহিদুল ইসলামের বাইরে নেতা-কর্মীরা কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হলে শহিদুল ইসলামের অনুসারীদের মাঠে নামাতে হবে।
এমন অবস্থায় গতকাল সোমবার সকালে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া রাগীব রউফ চৌধুরী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারসহ শীর্ষ নেতাদের নিয়ে মিরপুর ও ভেড়ামারায় যান। তাঁরা শহিদুল ইসলামসহ দুটি উপজেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ রকম কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানতে চাইলে সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, এটা তেমন কিছু নয়। সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় হলো। সবাই একসঙ্গে মাঠে কাজ করার কথা হয়েছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে সবাই ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় নামবেন। যোগাযোগ করা হলে সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনিই তো (রাগীব রউফ চৌধুরী) দলের মধ্যে বিরোধ তৈরি করে রেখেছেন। দলের নেতা-কর্মীদের যদি সঠিক মূল্যায়ন করা হয়, তবে সবাই কাজ করবে। দিন শেষে আমরা সবাই ধানের শীষের।
এদিকে রবিবার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়। সেখানে সাবেক সংসদ সদস্য ও দলীয় প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলেও বাতিল হয় কুমারখালী উপজেলার বিএনপির আহবায়ক নুরুল ইসলাম আনছারের। তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। নুরুল ইসলাম কুমারখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। ঘরোয়া বৈঠকে কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মেহেদী আহমেদ রুমী ও নুরুল ইসলাম একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন।
রবিবার রাতেই নুরুল ইসলাম আনছারের বাড়িতে যান বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ। এ সময়ও তাঁর সঙ্গে দলটির জেলা কমিটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভাও হয়। কয়েকজন নেতাও বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে মেহেদী আহমেদ ও নুরুল ইসলাম একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। এ রকম ছবি রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই বৈঠকে থাকা এক নেতা বলেন, দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সবাই মিলে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অচিরেই সবাই মাঠে নামবেন। জানতে চাইলে সোমবার বিকেলে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের দলীয় প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার বলেন, কুষ্টিয়ার দুটি আসনের নির্বাচনী এলাকায় ঐক্যবদ্ধভাবে দলগত নির্বাচন পরিচালনার সংকল্প নিয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে নেতাদের বাড়ি যাওয়া হয়।
প্রার্থীদের নিয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে সফল বৈঠক হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলামের সঙ্গে সফল বৈঠক হয়েছে। সবাই নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
প্রিন্ট

সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে 
ইসমাইল হােসেন বাবু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপাের্টার 





















