আলিফ হোসেনঃ
ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ৬টি আসনেই বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবার সম্ভবনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ৬টি আসনেই বিএনপির বিজয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।কারণ বিজয় নিশ্চিত করতে বিএনপি কোন্দল মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
এতে বিএনপির সেই সম্ভনা আরো উজ্জ্বল হয়েছে। রাজশাহীর সবকটি আসনে বিএনপি এবার বিজয়ী হতে চাই। এজন্য নতুন-পুরনো মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে আদর্শিক ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ সম্পন্ন প্রার্থী। ইতোমধ্যে দল থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। একটা সময় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী মোকাবিলা করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ মনে করা হলেও, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আশার পর সেই চিত্র রাতারাতি পাল্টে গেছে। এদিকে বিএনপির অধিকাংশ বিদ্রোহী ভোটের মাঠে ভোটারদের কাছে থেকে সাড়া পেতে ব্যর্থ হয়েছে,কেউ যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছে।এতে বিদ্রোহীরা রণেভঙ্গ দিয়েছে।
অন্যদিকে ৬টি আসনে জয় পেতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামীরও। তবে জামায়াতে প্রকাশ্যে দলাদলির দেখা মিলেনি।কিন্ত্ত তাদের জনসমর্থন বিএনপির থেকে অনেক কম,তারা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট নিজেদের পক্ষে নিতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন বলে আলোচনা রয়েছে।কিন্ত্ত আওয়ামী মতাদর্শীদের ভোট বিএনপির পক্ষে যাবার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে।
জানা গেছে, রাজশাহীর ৬টি আসনে বড় দু’দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে। রাজশাহী-১ আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক সামরিক সচিব ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিনের সঙ্গে লড়বেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তারা দু’জনই কেন্দ্রীয় নেতা ও হেভিওয়েট প্রার্থী।মুজিবুর রহমান আসনটির সাবেক এমপি। আর শরীফ উদ্দিন সাবেক মন্ত্রী ও অপ্রতিদন্দী নেতৃত্ব প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ছোট ভাই।
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে স্বাধীনতার পর ১২টি সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা পাঁচবার করে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী একবার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একবার জয়ী হয়েছেন। ১৯৮৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এই আসনে জয়ী হন। তিনি এবারও প্রার্থী। বিএনপি প্রার্থী শরীফ উদ্দিনের বড় ভাই সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক এই আসনে একাধিকবার এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন।তিনি ছিলেন অপ্রতিদন্দী নেতৃত্ব।
এদিকে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপি পাঁচবার, আওয়ামী লীগ দুবার, ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টি তিনবার, জাতীয় পার্টি একবার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দুবার নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু।
আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন রাজশাহী মহানগর নায়েবে আমির ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এখানে মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী ডা. জাহাঙ্গীরের লড়াই হবে। তবে তিনবার মেয়র ও একবার এমপি থাকায় এখানে মিনুর রয়েছে পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও বিশাল পরিচিতি। অন্যদিকে, ডা. জাহাঙ্গীর দলের প্রথম মনোনয়ন পেয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
অন্যদিকে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে ছয়বার জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এ ছাড়া বিএনপি চারবার এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী দুবার নির্বাচিত হন। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সহসম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। জামায়াতের প্রার্থী দলটির মহানগর ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। তবে এই দুজনেরে তীব্র লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।ভোটারগণ এই দুই প্রার্থীকে নিয়েই তাদের হিসেব-নিকেশ কষছে।
ওদিকে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনটি ২০০৮ সালের নির্বাচনে গঠিত। এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডিএম জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান এর আগে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। এই আসনে জামায়াতের দলীয় প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার।এখানে বিএনপি-জামাতের মধ্যেই মুল প্রতিদন্দীতা হবে।
এদিকে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি পাঁচবার এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী একবার নির্বাচিত হয়েছেন। এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা কমিটির সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি নুরুজ্জামান লিটন। নজরুল ইসলাম মণ্ডল এই আসনে এর আগেও প্রার্থী হয়েছিলেন। নজরুল ইসলাম এবার বিজয়ী হবার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে তাকে নিয়ে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে।
অন্যদিকে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে পাঁচবার আওয়ামী লীগ, চারবার বিএনপি, দুইবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হন। বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ হাসিনাকে ‘কবরে পাঠানোর’ হুমকির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ২৮টি মামলা হয়।
আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছর এবং আগের আমলে তার বিরুদ্ধে ১০২টি মামলা হয়। এই আসনে জামায়াতের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলার সহকারী সেক্রেটারি নাজমুল হক। এদিকে সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মানসিকতা বিবেচনা করে সচেতন মহলের অভিমত, রাজশাহীর ৬টি আসনেই বিএনপির বিজয়ী হবার সম্ভবনা উজ্জ্বল।
প্রিন্ট

সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















