ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

৫ বছরের শিশুকে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ

শাকিল মিয়াঃ


‎বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ৭নং কাঠালতলী ইউনিয়নের চরদুয়ানী গ্রামে ৫ বছর বয়সী শিশু জাইমা কে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ‎মামলার বাদী ফাতিমা জোমাদ্দার অর্পা অভিযোগ করেন, তার কন্যা জাইমার ওপর এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আবুল বাসার আকন, মো. হারুন জোমাদ্দার ও হাচান আকন কে আসামি করা হয়েছে।

‎তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষে এসিড হামলা নয়। তাদের ভাষ্যমতে, শিশুর শরীরে আচিলের ওষুধ বা রাসায়নিক জাতীয় পদার্থ লাগিয়ে ঘটনাটিকে এসিড নিক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

‎এদিকে, বাদীর মা জাহানারা জানু বলেন, “আমার মেয়ে নিজের সন্তানের হাতে আচিলের পাউডার লাগিয়ে মিথ্যা মামলা করেছে বলে আমি মনে করি। এর মাধ্যমে নিরীহ মানুষদের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”  ‎তিনি আরও বলেন, “আমি নিজেও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (মেম্বার) ছিলাম। মেয়ের এমন কর্মকাণ্ডে আমি বিব্রত ও মর্মাহত।”

‎মো: খলিলুর রহমান ( ৩ নং চরধুয়ানী ইউপি সদস্য ১নং ওয়ার্ড), তিনি বলেন, অর্পার সাথে তার আম্মার একটি পারিবারিক দন্ধ। এখানে বাহিরের কোনো লোক দোষী না। তিনি আরও অর্পা এসিড নিক্ষেপের যে মামলাটি দিয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভূয়া এবং মিথ্যা মামলা।

ফাতিমা জোমাদ্দার অর্পার চাচা সবুর জোমাদ্দার বলেন, আবুল বাসার আকন, হাসান আকন এবং আমার ভাই হারুন জোমাদ্দার এদের নামে যে মামলাটি করেছে, এটি ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং হয়রানির করার জন্য মামলাটি করেছে।

 

‎সুনিল কুমার হালদার, ৩ নং চরধুয়ানী সাবেক ইউপি সদস্য ১নং ওয়ার্ড তিনি বলেন, ফাতিমা জোমাদ্দার অর্পা বলেছিলেন একটি কৌটার মধ্যে এসিড জাতীয় পাউডার রাখা ছিল, কৌটার মুখ খুলতেই ঐ পাউডার আমার মেয়ের হাতে লাগে, সেজন্য ফাতিমা জোমাদ্দার অর্পা তার মেয়েকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যায়, ২ দিন পরই শোনে অর্পা এসিড নিক্ষেপের মামলা দায়ের করেছে। তিনি আরও বলেন, এই এসিড নিক্ষেপের মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

 

‎স্থানীয়রা জানান, মামলার অন্যতম আসামি হারুন জোমাদ্দার এলাকায় তিনবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন এবং চরদুয়ানী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী। ‎তবে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। ‎সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে উচ্ছেদ অভিযানে দখলমুক্ত হলো চামারখালী খাল

error: Content is protected !!

৫ বছরের শিশুকে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
শাকিল মিয়া, জেলা প্রতিনিধি, বরগুনা :

শাকিল মিয়াঃ


‎বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ৭নং কাঠালতলী ইউনিয়নের চরদুয়ানী গ্রামে ৫ বছর বয়সী শিশু জাইমা কে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ‎মামলার বাদী ফাতিমা জোমাদ্দার অর্পা অভিযোগ করেন, তার কন্যা জাইমার ওপর এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আবুল বাসার আকন, মো. হারুন জোমাদ্দার ও হাচান আকন কে আসামি করা হয়েছে।

‎তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষে এসিড হামলা নয়। তাদের ভাষ্যমতে, শিশুর শরীরে আচিলের ওষুধ বা রাসায়নিক জাতীয় পদার্থ লাগিয়ে ঘটনাটিকে এসিড নিক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

‎এদিকে, বাদীর মা জাহানারা জানু বলেন, “আমার মেয়ে নিজের সন্তানের হাতে আচিলের পাউডার লাগিয়ে মিথ্যা মামলা করেছে বলে আমি মনে করি। এর মাধ্যমে নিরীহ মানুষদের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”  ‎তিনি আরও বলেন, “আমি নিজেও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (মেম্বার) ছিলাম। মেয়ের এমন কর্মকাণ্ডে আমি বিব্রত ও মর্মাহত।”

‎মো: খলিলুর রহমান ( ৩ নং চরধুয়ানী ইউপি সদস্য ১নং ওয়ার্ড), তিনি বলেন, অর্পার সাথে তার আম্মার একটি পারিবারিক দন্ধ। এখানে বাহিরের কোনো লোক দোষী না। তিনি আরও অর্পা এসিড নিক্ষেপের যে মামলাটি দিয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভূয়া এবং মিথ্যা মামলা।

ফাতিমা জোমাদ্দার অর্পার চাচা সবুর জোমাদ্দার বলেন, আবুল বাসার আকন, হাসান আকন এবং আমার ভাই হারুন জোমাদ্দার এদের নামে যে মামলাটি করেছে, এটি ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং হয়রানির করার জন্য মামলাটি করেছে।

 

‎সুনিল কুমার হালদার, ৩ নং চরধুয়ানী সাবেক ইউপি সদস্য ১নং ওয়ার্ড তিনি বলেন, ফাতিমা জোমাদ্দার অর্পা বলেছিলেন একটি কৌটার মধ্যে এসিড জাতীয় পাউডার রাখা ছিল, কৌটার মুখ খুলতেই ঐ পাউডার আমার মেয়ের হাতে লাগে, সেজন্য ফাতিমা জোমাদ্দার অর্পা তার মেয়েকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যায়, ২ দিন পরই শোনে অর্পা এসিড নিক্ষেপের মামলা দায়ের করেছে। তিনি আরও বলেন, এই এসিড নিক্ষেপের মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

 

‎স্থানীয়রা জানান, মামলার অন্যতম আসামি হারুন জোমাদ্দার এলাকায় তিনবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন এবং চরদুয়ানী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী। ‎তবে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। ‎সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।