ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

৫৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে শার্শায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের সমাধিতে গার্ড অব অনার

সাজেদুর রহমানঃ

 

যশোরের শার্শায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের সাহসী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মাদ শেখের ৫৪তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে তার সমাধিস্থলে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে শার্শা পজেলার কাশিপুরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিস্থলে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার ও শ্রদ্ধাঞ্জালি অর্পণ করেন ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর নূর উদ্দিন আহমেদ, সহকারী পরিচালক সোহেল আল মুজাহিদ।

 

এ ছাড়া সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন- উপজেলা প্রশাসন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্যরা, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. কাজী নাজিব হাসান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.নিয়াজ মাখদুম ও শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠান শেষে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্নেল সাইফুল্লাহ্ সিদ্দিকী জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ এবং চিরস্মরনীয় করে রাখার জন্য প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্ম ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। তিনি ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে যোগদান করেন। প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষ করার পর ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তিনি আহত হন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে, শেখ তার গ্রামে ছুটি কাটাচ্ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ৮ নম্বর সেক্টরে যোগ দেন এবং যশোরের বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখেন।

 

১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটিতে সহকর্মী সৈন্যদের উদ্ধারের জন্য কভারিং ফায়ারিং প্রদানের সময় তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে শহিদ হন। পরে শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের মুক্ত এলাকায় তাকে সামরিক মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। তিনি বীরত্বের জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বীরশ্রেষ্ঠে ভূষিত হন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে প্রধানমন্ত্রীঃ -এম.পি বাবুল

error: Content is protected !!

৫৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে শার্শায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের সমাধিতে গার্ড অব অনার

আপডেট টাইম : ০৩:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সাজেদুর রহমান, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি :

সাজেদুর রহমানঃ

 

যশোরের শার্শায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের সাহসী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মাদ শেখের ৫৪তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে তার সমাধিস্থলে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে শার্শা পজেলার কাশিপুরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিস্থলে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার ও শ্রদ্ধাঞ্জালি অর্পণ করেন ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর নূর উদ্দিন আহমেদ, সহকারী পরিচালক সোহেল আল মুজাহিদ।

 

এ ছাড়া সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন- উপজেলা প্রশাসন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্যরা, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. কাজী নাজিব হাসান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.নিয়াজ মাখদুম ও শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠান শেষে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্নেল সাইফুল্লাহ্ সিদ্দিকী জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ এবং চিরস্মরনীয় করে রাখার জন্য প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্ম ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। তিনি ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে যোগদান করেন। প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষ করার পর ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তিনি আহত হন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে, শেখ তার গ্রামে ছুটি কাটাচ্ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ৮ নম্বর সেক্টরে যোগ দেন এবং যশোরের বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখেন।

 

১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটিতে সহকর্মী সৈন্যদের উদ্ধারের জন্য কভারিং ফায়ারিং প্রদানের সময় তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে শহিদ হন। পরে শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের মুক্ত এলাকায় তাকে সামরিক মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। তিনি বীরত্বের জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বীরশ্রেষ্ঠে ভূষিত হন।