ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ফলোআপ নিউজ

গ্ৰামীণ প্রেক্ষাপট থেকে উঠে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিতে চীন মৈত্রী সম্মেলনে বাঘার তিন উদ্ভাবক

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ

 

গ্ৰামের ছেলে হলেও থেমে নেই স্বপ্ন। চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এ অংশ নিচ্ছে বাঘায় তিন মেধাবী শিক্ষার্থী। আগামী সোমবার (২৯ জুন ২০২৬ )ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বসবে এই জাতীয় মঞ্চ। জেলা জয় করে জাতীয় মঞ্চে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এনামুল হক, আকাশ আহমেদ ও ইয়াসির ইকবাল মাহি। মাঠের কাদা মাখা বাবার ঘাম ঝরানো টাকায় কেনা খাতা-কলম দিয়েই তারা বুনেছে বড় স্বপ্ন।

 

তাদের উদ্ভাবিত ‘স্মার্ট প্রিন্টিং ভেন্ডিং মেশিন এবং ডিজিটাল এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জনের পর জেলা পর্যায়ে জেলার ৯টি উপজেলাকে পেছনে ফেলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান তাদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন। উদ্ভাবকরা জানান, ‘স্মার্ট প্রিন্টিং ভেন্ডিং মেশিন’ দিয়ে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে মাত্র ১০ সেকেন্ডে অ্যাসাইনমেন্ট, আবেদনপত্র প্রিন্ট করা যাবে। এতে গ্রামের শিক্ষার্থীদের প্রিন্টিং ভোগান্তি কমবে। ‘ডিজিটাল এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ দিয়ে উপস্থিতি, ফলাফল, বেতন ও অভিভাবকদের এসএমএস এক প্ল্যাটফর্মে আসবে। এতে স্কুল-কলেজের প্রশাসনিক কাজ সহজ হবে।

 

শিক্ষক ,শিক্ষার্থীরা জানান,প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শিক্ষার্থী এনামুল, আকাশ ও মাহির সাথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষক মতিউর রহমান, আব্দুল হানিফ মিয়া। সেখানে অংশ গ্ৰহন করবেন বাঘা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু জাফর। তিনি জানান,শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো এই বৃহৎ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

 

জাতীয় মঞ্চে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু জাফর বলেন, “বাঘার এই তিন শিক্ষার্থী প্রমাণ করেছে, মেধার জন্য শহর-গ্রামের কোনো বাধা নেই। গ্রামীণ প্রেক্ষাপট থেকে উঠে এসে তারা জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটা আমাদের উপজেলার জন্য গর্বের। আমি দৃঢ়ভাবে আশা করি, তাদের উদ্ভাবন জাতীয় মঞ্চে সবার নজর কাড়বে এবং বাঘা বিজয়ের মুকুট নিয়েই ঘরে ফিরবে।”

 

শিক্ষার্থী এনামুল, আকাশ ও মাহি বলেন, আগামী সোমবার (২৯ জুন )আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমরা বাঘার প্রতিনিধিত্ব করব। জাতীয় পর্যায়ে ভালো ফল করে বাবা-মা, শিক্ষক এবং বাঘাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।’

শিক্ষক আব্দুল হানিফ মিয়া জানান,জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়া দলগুলো তাদের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করবে। সেখান থেকে নির্বাচিত হবে সেরা ১০টি দল। বিজয়ী শিক্ষার্থীরা পাবে ২০ হাজার টাকা ও সনদ। আর বিজয়ী শিক্ষকেরা পাবেন ৩০ হাজার টাকা ও সনদ।

শাহদৌলা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের কলেজের তিন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিচ্ছে, এটি প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্বের বিষয়।’

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে প্রধানমন্ত্রীঃ -এম.পি বাবুল

error: Content is protected !!

ফলোআপ নিউজ

গ্ৰামীণ প্রেক্ষাপট থেকে উঠে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিতে চীন মৈত্রী সম্মেলনে বাঘার তিন উদ্ভাবক

আপডেট টাইম : ৫ ঘন্টা আগে
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ

 

গ্ৰামের ছেলে হলেও থেমে নেই স্বপ্ন। চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এ অংশ নিচ্ছে বাঘায় তিন মেধাবী শিক্ষার্থী। আগামী সোমবার (২৯ জুন ২০২৬ )ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বসবে এই জাতীয় মঞ্চ। জেলা জয় করে জাতীয় মঞ্চে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এনামুল হক, আকাশ আহমেদ ও ইয়াসির ইকবাল মাহি। মাঠের কাদা মাখা বাবার ঘাম ঝরানো টাকায় কেনা খাতা-কলম দিয়েই তারা বুনেছে বড় স্বপ্ন।

 

তাদের উদ্ভাবিত ‘স্মার্ট প্রিন্টিং ভেন্ডিং মেশিন এবং ডিজিটাল এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জনের পর জেলা পর্যায়ে জেলার ৯টি উপজেলাকে পেছনে ফেলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান তাদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন। উদ্ভাবকরা জানান, ‘স্মার্ট প্রিন্টিং ভেন্ডিং মেশিন’ দিয়ে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে মাত্র ১০ সেকেন্ডে অ্যাসাইনমেন্ট, আবেদনপত্র প্রিন্ট করা যাবে। এতে গ্রামের শিক্ষার্থীদের প্রিন্টিং ভোগান্তি কমবে। ‘ডিজিটাল এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ দিয়ে উপস্থিতি, ফলাফল, বেতন ও অভিভাবকদের এসএমএস এক প্ল্যাটফর্মে আসবে। এতে স্কুল-কলেজের প্রশাসনিক কাজ সহজ হবে।

 

শিক্ষক ,শিক্ষার্থীরা জানান,প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শিক্ষার্থী এনামুল, আকাশ ও মাহির সাথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষক মতিউর রহমান, আব্দুল হানিফ মিয়া। সেখানে অংশ গ্ৰহন করবেন বাঘা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু জাফর। তিনি জানান,শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো এই বৃহৎ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

 

জাতীয় মঞ্চে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু জাফর বলেন, “বাঘার এই তিন শিক্ষার্থী প্রমাণ করেছে, মেধার জন্য শহর-গ্রামের কোনো বাধা নেই। গ্রামীণ প্রেক্ষাপট থেকে উঠে এসে তারা জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটা আমাদের উপজেলার জন্য গর্বের। আমি দৃঢ়ভাবে আশা করি, তাদের উদ্ভাবন জাতীয় মঞ্চে সবার নজর কাড়বে এবং বাঘা বিজয়ের মুকুট নিয়েই ঘরে ফিরবে।”

 

শিক্ষার্থী এনামুল, আকাশ ও মাহি বলেন, আগামী সোমবার (২৯ জুন )আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমরা বাঘার প্রতিনিধিত্ব করব। জাতীয় পর্যায়ে ভালো ফল করে বাবা-মা, শিক্ষক এবং বাঘাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।’

শিক্ষক আব্দুল হানিফ মিয়া জানান,জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়া দলগুলো তাদের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করবে। সেখান থেকে নির্বাচিত হবে সেরা ১০টি দল। বিজয়ী শিক্ষার্থীরা পাবে ২০ হাজার টাকা ও সনদ। আর বিজয়ী শিক্ষকেরা পাবেন ৩০ হাজার টাকা ও সনদ।

শাহদৌলা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের কলেজের তিন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিচ্ছে, এটি প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্বের বিষয়।’