আনিসুর রহমানঃ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। স্থানীয় চাঁদপুর রাফাতুল্লাহ সোনার উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে গিয়ে ‘অপরাধী’ হয়ে পড়ে ১৪ বছরের আবু তালহা শাফিন। পরিণতিতে তাকে স্কুলের কেঁচি গেটের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানো হয়।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ডুমরাই সমজানপাড়া গ্রামে, স্কুল প্রাঙ্গণে এ ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী শাফিনের পরিবার জানায়, স্কুল বন্ধ থাকায় সকালে খেলতে মাঠে গিয়েছিল । এ সময় একই গ্রামের মোহাম্মদ লতিফ সোনার (৪৫), মোহাম্মদ হাবিল সোনার (২৮) এবং তাদের স্বজনরা মিলে তাকে স্কুলের গেটের সঙ্গে নাইলনের দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। শুধু বেঁধেই নয়, তারা শাফিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বেধড়ক মারধর করে।
প্রচণ্ড চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি ও লাথিতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, গ্লাস ভাঙার অজুহাতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয় শাফিনের পরিবারের কাছে। একপর্যায়ে গলাচিপে হত্যাচেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শাফিনের চিৎকারে আশপাশের কয়েকজন গ্রামবাসী—মোসাম্মৎ জাহানারা বেগম, মোসাম্মৎ হাসিনা বেগম ও শেখপাড়ার মোহাম্মদ জয় ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। তবে অভিযুক্তরা তখনই পালিয়ে যায় এবং পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়ে যায় বলে জানায় স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর ডুমরাইসহ আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, কিশোর শিক্ষার্থীর উপর এই বর্বরোচিত হামলার দায়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
আনিসুর রহমান, বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি 





















