ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মোবাইল চার্জ দিতে গিয়ে কিশোরীর মৃত্যু Logo ফরিদপুরে ওজোপাডিকোর উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo বাংলাদেশের আকাশে রহস্যময় আলোর ঝলকানি ঘিরে যা জানা যাচ্ছে Logo দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

সাংবাদিককে ‘সাংঘাতিক’ বলায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রত্যাহার

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোল্লা মোহা. রুহুল আমিনকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। তাঁকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়।

 

প্রজ্ঞাপনে জারি হওয়া সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফকে অধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ২০ মে তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে মোল্লা মোহা. রুহুল আমিনকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় নির্ধারিত তারিখের পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই অধ্যক্ষ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে কলেজের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে আসছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ গত ১১ মে বাজারে আসা একটি ডিজিটাল মিডিয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি সমালোচিত হন।

বক্তব্যে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আমির হামজার প্রসঙ্গ টেনে রুহুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘গত কয়েক দিন ধরে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের নিউজ নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় হয়ে গেল। অসংখ্য সাংবাদিকের সামনে আমাকে কথা বলতে হয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে সদর আসনের সংসদ সদস্য আমাদের এখানে এসেছেন। আমি তাঁকে গার্ড অব অনার দিয়েছি। মঞ্চে নিয়ে গেছি। সেখানে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। আমিও বক্তব্য দিয়েছি। আমরা খেলা উদ্বোধন করেছি। এত কিছু করলাম নিউজে আসল না। আপনাদের নিউজে আসল উনার সাথে কে, কি করেছে সেটা। এই যদি পত্রিকার অবস্থা হয়, এই যদি সাংবাদিকতার অবস্থা হয় তাহলে এটা জাতির জনক অত্যন্ত দুঃখের কারণ।’

 

এ সময় রুহুল আমিন বলেন, আমরা এক সময় সাঈদি সাহেবকে বলতে শুনেছি সাংবাদিকেরা সাংঘাতিক। এর আগে গত ৭ মে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে গিয়ে তুমুল হট্টগোলের মুখে পড়েন সংসদ সদস্য আমির হামজা।

 

মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী মঞ্চের সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের জন্য মাঠে প্রবেশ করলে ওই শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েও আমির হামজাকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তারা মাঠের মধ্যে বসে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে কলেজের অধ্যক্ষ আমির হামজাকে নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে চলে যান।

 

শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়েও একইভাবে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। এ সময় এমপি আমির হামজা পুলিশের সঙ্গে বেরিয়ে কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

 

এ ঘটনার পর আমির হামজার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে লেখা হয়, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শনকালীন সময়ে মাননীয় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা।

 

ওই দিন শিক্ষার্থীরা জানান, কুষ্টিয়ার সরকারি কলেজে আন্তঃবিভাগ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাঠ পরিষ্কার করতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বর্ধনে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিকার এবং জড়িতদের শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

 

জানতে চাইলে সত্যতা নিশ্চিত করে সদ্য ওএসডি হওয়া মোল্লা মোহা. রুহুল আমিন বলেন, এই ওএসডি করা মানে কোনো ডিপার্টমেন্টাল পানিশমেন্ট (শাস্তি) নয়। যেহেতু পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে কোনো অধ্যাপকের পদ আপাতত খালি নেই, তাই মাউশি থেকে আমার অর্থায়ন হবে। এই বদলি কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মনে করেন কিনা—এমন প্রশ্নে রুহুল আমিন বলেন, সরকারি চেয়ারে বসে বা দায়িত্ব পালনকালে এই নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গোমস্তাপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উদ্বোধন

error: Content is protected !!

সাংবাদিককে ‘সাংঘাতিক’ বলায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রত্যাহার

আপডেট টাইম : ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
ইসমাইল হােসেন বাবু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপাের্টার :

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোল্লা মোহা. রুহুল আমিনকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। তাঁকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়।

 

প্রজ্ঞাপনে জারি হওয়া সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফকে অধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ২০ মে তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে মোল্লা মোহা. রুহুল আমিনকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় নির্ধারিত তারিখের পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই অধ্যক্ষ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে কলেজের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে আসছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ গত ১১ মে বাজারে আসা একটি ডিজিটাল মিডিয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি সমালোচিত হন।

বক্তব্যে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আমির হামজার প্রসঙ্গ টেনে রুহুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘গত কয়েক দিন ধরে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের নিউজ নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় হয়ে গেল। অসংখ্য সাংবাদিকের সামনে আমাকে কথা বলতে হয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে সদর আসনের সংসদ সদস্য আমাদের এখানে এসেছেন। আমি তাঁকে গার্ড অব অনার দিয়েছি। মঞ্চে নিয়ে গেছি। সেখানে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। আমিও বক্তব্য দিয়েছি। আমরা খেলা উদ্বোধন করেছি। এত কিছু করলাম নিউজে আসল না। আপনাদের নিউজে আসল উনার সাথে কে, কি করেছে সেটা। এই যদি পত্রিকার অবস্থা হয়, এই যদি সাংবাদিকতার অবস্থা হয় তাহলে এটা জাতির জনক অত্যন্ত দুঃখের কারণ।’

 

এ সময় রুহুল আমিন বলেন, আমরা এক সময় সাঈদি সাহেবকে বলতে শুনেছি সাংবাদিকেরা সাংঘাতিক। এর আগে গত ৭ মে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে গিয়ে তুমুল হট্টগোলের মুখে পড়েন সংসদ সদস্য আমির হামজা।

 

মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী মঞ্চের সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের জন্য মাঠে প্রবেশ করলে ওই শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েও আমির হামজাকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তারা মাঠের মধ্যে বসে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে কলেজের অধ্যক্ষ আমির হামজাকে নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে চলে যান।

 

শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়েও একইভাবে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। এ সময় এমপি আমির হামজা পুলিশের সঙ্গে বেরিয়ে কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

 

এ ঘটনার পর আমির হামজার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে লেখা হয়, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শনকালীন সময়ে মাননীয় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা।

 

ওই দিন শিক্ষার্থীরা জানান, কুষ্টিয়ার সরকারি কলেজে আন্তঃবিভাগ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাঠ পরিষ্কার করতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বর্ধনে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিকার এবং জড়িতদের শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

 

জানতে চাইলে সত্যতা নিশ্চিত করে সদ্য ওএসডি হওয়া মোল্লা মোহা. রুহুল আমিন বলেন, এই ওএসডি করা মানে কোনো ডিপার্টমেন্টাল পানিশমেন্ট (শাস্তি) নয়। যেহেতু পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে কোনো অধ্যাপকের পদ আপাতত খালি নেই, তাই মাউশি থেকে আমার অর্থায়ন হবে। এই বদলি কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মনে করেন কিনা—এমন প্রশ্নে রুহুল আমিন বলেন, সরকারি চেয়ারে বসে বা দায়িত্ব পালনকালে এই নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।