রাশিদুল ইসলাম রাশেদঃ
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে নাটোরের লালপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা, প্রতিমায় রঙের আঁচড় আর আলোকসজ্জার ঝলকানিতে যেন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। দেবী দুর্গাকে বরণ করার অপেক্ষায় এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ভক্তরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের ৮৫টি মন্দিরের মধ্যে ৪১টি মন্দিরে এ বছর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবার একটি মণ্ডপ বেড়েছে। প্রতিটি মন্দিরে সরকারিভাবে ৫০০ কেজি করে চাল অনুদান দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শেষ সময়ে রঙতুলির আঁচড়ে প্রাণ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা, সরস্বতী, কার্তিক, লক্ষ্মী, গণেশ, শিব ও অসুর। নাগশোষা গ্রামের প্রতিমাশিল্পী অসিত বিশ্বাস বলেন, ‘খরচ অনেক বেড়েছে, কিন্তু সে অনুপাতে মজুরি বাড়েনি। তবুও ধর্মীয় কাজের টানেই করি। প্রতিমা তৈরিতে ভালো লাগা কাজ করে।
একেকটি প্রতিমা তৈরিতে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাগে।’
পূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোছা. আরজু খাতুন জানান, ৩৭টি মন্দিরে দুইজন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ চার মন্দিরে চারজন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। মূল পূজা শুরু হলে প্রতিটি মন্দিরে চারজন পুরুষ ও দুইজন নারী আনসার মোতায়েন থাকবেন। পূজাকে ঘিরে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে বলে জানিয়েছেন লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মেহেদী হাসান জানান, পূজায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ মোতায়েন ও সেনাবাহিনীর টহলের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক মনিটরিং ডেস্ক চালু করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম। এছাড়া প্রতিটি মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের লালপুর উপজেলা শাখার সভাপতি দিপেন্দ্র নাথ সাহা বলেন, ‘আগামী রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) ষষ্ঠীপূজা অর্চনার মধ্য দিয়ে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি। এ বছর পদ্মা নদীতে সাতটি, ছোট নদীগুলোতে ছয়টি এবং মন্দিরের নিজস্ব পুকুরগুলোতে ২৮টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, ধুপইল কালীমাতা মন্দিরে পূজা শেষে একটি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
উপজেলার সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ চারটি মন্দির হলো গোপালপুর লক্ষী নারায়ণ সার্বজনীন পৌর কেন্দ্রীয় মন্দির, বুধপাড়া কালীমাতা মন্দির, বিলমাড়িয়া শতাব্দী প্রাচীন দূর্গা মন্দির ও ওয়ালিয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির। এ চারটি মন্দিরে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যান্য মন্দিরগুলোতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্চয় কুমার কর্মকার। তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা সন্তুষ্ট।
এদিকে উৎসবকে ঘিরে জমজমাট হয়ে উঠেছে স্থানীয় হাটবাজার। শাড়ি, অলংকার, মিষ্টি ও সাজসজ্জার দোকানে ভিড় বেড়েছে। হাসিমপুর গ্রামের সুশান্ত কুমার মদন বলেন, ‘দুর্গাপূজা আমাদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। পরিবারের সবাইকে নিয়ে নতুন পোশাক কেনার আনন্দটাই আলাদা।’ পূজার দিনগুলোতে কয়েক হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়, আর্থিক সহায়তা ও সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 





















