রাশিদুল ইসলাম রাশেদ:
শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজে প্রতারণার শিকার ৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থী অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র তুলে দেওয়া হবে। শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি *সময়ের প্রত্যাশা*কে নিশ্চিত করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষকে দ্রুত প্রবেশপত্র বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম পরীক্ষাটি গ্রহণের বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে এক টেলিকনফারেন্সে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক এবং আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরপরই শিক্ষা বোর্ড প্রবেশপত্র প্রস্তুত করে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী *সময়ের প্রত্যাশা*কে বলেন, “বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই আমরা প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ ও প্রবেশপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছিলাম। পরে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
এছাড়া একই দিন সন্ধ্যার দিকে অভিযুক্ত অমিত কুমার সরকারকে পুলিশ আটক করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার কলেজ প্রশাসন রসায়ন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান।
প্রসঙ্গত, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, তানভীর হোসেন, শিমুল আলী, সাব্বির হোসেন ও শাওন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভারজনিত জটিলতায় পড়েন। পরে গত ১২ মার্চ বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার তাদের ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু তিনি সেই অর্থ যথাযথভাবে জমা দেননি। ফলে আট শিক্ষার্থীর কারও ফরম পূরণ হয়নি এবং প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অংশ নিতে পারেননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ার খবরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযুক্ত অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে *সময়ের প্রত্যাশা*কে বলেছিলেন, তিনি ফরম পূরণের চেষ্টা করেছিলেন, তবে সফল হননি। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং সকলের কাছে ক্ষমা চান।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 




















