ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

মরা খাল থেকে নদী, প্রাণ ফিরে পেল ভূবনেশ্বর

নুরুল ইসলামঃ

এক সময়ের খরস্রোতা ভূবনেশ্বর নদ দখল, দূষণ ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় প্রায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছিল। ধীরে ধীরে নদটি পরিণত হয়েছিল মরা খালে। তবে সরকারের নদী রক্ষা ও পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় নতুন করে খনন কাজ শুরু হওয়ায় আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই নদ।

 

স্থানীয়দের জানান, কয়েক বছর আগেও নদটির অনেক অংশ ভরাট হয়ে যায়। কোথাও কোথাও দখলদাররা স্থাপনা গড়ে তোলে, আবার কোথাও আবর্জনা ও পলিতে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে বর্ষা মৌসুমেও নদীতে পানি থাকত না বললেই চলে। এতে নদীপাড়ের হাজার হাজার একর কৃষি জমিতে সেচ সংকট দেখা দেয় এবং কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।

 

বর্তমানে নদটির কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন অংশে ৪ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ শুরু হওয়ায় আবারও পানি প্রবাহ সৃষ্টি হচ্ছে।এছাড়াও বন বিভাগ থেকে নদীর দুই ধারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, নদীটি পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হলে কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বাড়বে, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্যও ফিরবে।

 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ভূবনেশ্বর নদ খননের ফলে এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আগে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকলেও এখন চাষাবাদের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 

সদরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার জানান, ভূবনেশ্বর খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি সরকারের নদী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন অংশে প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় খনন কাজ চলমান রয়েছে। খনন কাজ শেষ হলে খালে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরে আসবে এবং কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও বলেন, দখল ও দূষণ রোধে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং খালটি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

মরা খাল থেকে নদী, প্রাণ ফিরে পেল ভূবনেশ্বর

আপডেট টাইম : ০১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
নুরুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি :

নুরুল ইসলামঃ

এক সময়ের খরস্রোতা ভূবনেশ্বর নদ দখল, দূষণ ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় প্রায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছিল। ধীরে ধীরে নদটি পরিণত হয়েছিল মরা খালে। তবে সরকারের নদী রক্ষা ও পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় নতুন করে খনন কাজ শুরু হওয়ায় আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই নদ।

 

স্থানীয়দের জানান, কয়েক বছর আগেও নদটির অনেক অংশ ভরাট হয়ে যায়। কোথাও কোথাও দখলদাররা স্থাপনা গড়ে তোলে, আবার কোথাও আবর্জনা ও পলিতে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে বর্ষা মৌসুমেও নদীতে পানি থাকত না বললেই চলে। এতে নদীপাড়ের হাজার হাজার একর কৃষি জমিতে সেচ সংকট দেখা দেয় এবং কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।

 

বর্তমানে নদটির কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন অংশে ৪ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ শুরু হওয়ায় আবারও পানি প্রবাহ সৃষ্টি হচ্ছে।এছাড়াও বন বিভাগ থেকে নদীর দুই ধারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, নদীটি পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হলে কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বাড়বে, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্যও ফিরবে।

 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ভূবনেশ্বর নদ খননের ফলে এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আগে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকলেও এখন চাষাবাদের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 

সদরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার জানান, ভূবনেশ্বর খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি সরকারের নদী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন অংশে প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় খনন কাজ চলমান রয়েছে। খনন কাজ শেষ হলে খালে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরে আসবে এবং কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও বলেন, দখল ও দূষণ রোধে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং খালটি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।