ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

নড়াইলে প্রতিবন্ধী যুবককে চুরির অপবাদে নির্যাতনঃ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

খন্দকার সাইফুল্লা আল মাহমুদঃ

নড়াইল সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে নির্যাতন করা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। নড়াইল সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত ওই যুবকের নাম মো. আনোয়ার হোসেন (৩২)। তিনি সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে।

 

মৃতের স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পর নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রাম নিজ বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

 

এর আগে গত বুধবার (২৪ জুন) সদর উপজেলার গোবারা মালোপাড়া এলাকায় ওই যুবককে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত সোমবার (২৯ জুন) ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন নিহতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন।

 

এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত অভিযুক্তরা হলেন, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস ও পরান বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাস।

 

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার হোসেন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি গত বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়া নামে একজন তাদের বাড়িতে সংবাদ পাঠায়। আনোয়ার গুরুতর আহত অবস্থায় নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে সারারাত মারধর করে। এর একপর্যায়ে প্রসেনজিৎ আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরুতর জখমের সৃষ্টি হয়।

 

পরেদিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বিষয়টি পুলিশকে জানালে নড়াইল সদর থানার এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

মৃতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন বলেন, আমার ভাই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত। সেই সুযোগে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার ভাই মারা গেছে। আমি জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ঘটনায় পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। নড়াইল সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজাপুরে ২০ পিস ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি ‘পাইপ নাছির’ গ্রেপ্তার

error: Content is protected !!

নড়াইলে প্রতিবন্ধী যুবককে চুরির অপবাদে নির্যাতনঃ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
খন্দকার সাইফুল্লা আল মাহমুদ, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি :

খন্দকার সাইফুল্লা আল মাহমুদঃ

নড়াইল সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে নির্যাতন করা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। নড়াইল সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত ওই যুবকের নাম মো. আনোয়ার হোসেন (৩২)। তিনি সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে।

 

মৃতের স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পর নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রাম নিজ বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

 

এর আগে গত বুধবার (২৪ জুন) সদর উপজেলার গোবারা মালোপাড়া এলাকায় ওই যুবককে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত সোমবার (২৯ জুন) ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন নিহতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন।

 

এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত অভিযুক্তরা হলেন, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস ও পরান বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাস।

 

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার হোসেন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি গত বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়া নামে একজন তাদের বাড়িতে সংবাদ পাঠায়। আনোয়ার গুরুতর আহত অবস্থায় নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে সারারাত মারধর করে। এর একপর্যায়ে প্রসেনজিৎ আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরুতর জখমের সৃষ্টি হয়।

 

পরেদিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বিষয়টি পুলিশকে জানালে নড়াইল সদর থানার এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

মৃতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন বলেন, আমার ভাই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত। সেই সুযোগে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার ভাই মারা গেছে। আমি জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ঘটনায় পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। নড়াইল সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।