ঢাকা , বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বোয়ালমারী মহিলা কলেজে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত

প্রত্যাশা ডেস্ক নিউজঃ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার “কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজে” সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অধ্যক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কলেজ ক্যাম্পাস। একদিকে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, অন্যদিকে অধ্যক্ষের সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কলেজ জুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

 

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষক, কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করেছেন। তারা বলেন, তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মানববন্ধন থেকে ৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা চুরি ও ডাকাতির মামলা প্রত্যাহার এবং কলেজে সুষ্ঠু ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

 

এ ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. হোসনেয়ারা বেগম বলেন, দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বহিষ্কৃত ফ্যাসিবাদের দোসর অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের, হেনস্থা ও সম্মানহানি করে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করছে।
অন্যদিকে পরদিন শুক্রবার (৩ জুলাই) বোয়ালমারী বাজারের একটি ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তাকে বিধি-বহির্ভূত ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তার বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কলেজের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর উসকানিতে বহিরাগত কিছু শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবি জানায়। পরে একই বছরের ২৮ নভেম্বর পরিচালনা পর্ষদ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। তার অভিযোগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অভিযোগ তদন্ত ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এমনকি কোনো তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি।

 

ফরিদ আহমেদ আরও দাবি করেন, উচ্চ আদালতের আদেশে চাকরি ও বেতন-ভাতার অধিকার ফিরে পেলেও কলেজে তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া অধ্যক্ষের সরকারি বাসভবন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোয় তার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনার জন্য কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোছা. হোসনেয়ারা বেগম, প্রভাষক দিল আশরাফী ও অফিস সহকারী কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটের দ্রুত ও নিরপেক্ষ সমাধান প্রয়োজন। তাদের দাবি, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন ও বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে কলেজে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় দুই শিশুকে সড়কের পাশে রেখে যাওয়ার অভিযোগ

error: Content is protected !!

বোয়ালমারী মহিলা কলেজে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত

আপডেট টাইম : ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
প্রত্যাশা ডেস্ক নিউজ :

প্রত্যাশা ডেস্ক নিউজঃ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার “কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজে” সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অধ্যক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কলেজ ক্যাম্পাস। একদিকে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, অন্যদিকে অধ্যক্ষের সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কলেজ জুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

 

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষক, কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করেছেন। তারা বলেন, তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মানববন্ধন থেকে ৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা চুরি ও ডাকাতির মামলা প্রত্যাহার এবং কলেজে সুষ্ঠু ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

 

এ ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. হোসনেয়ারা বেগম বলেন, দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বহিষ্কৃত ফ্যাসিবাদের দোসর অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের, হেনস্থা ও সম্মানহানি করে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করছে।
অন্যদিকে পরদিন শুক্রবার (৩ জুলাই) বোয়ালমারী বাজারের একটি ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তাকে বিধি-বহির্ভূত ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তার বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কলেজের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর উসকানিতে বহিরাগত কিছু শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবি জানায়। পরে একই বছরের ২৮ নভেম্বর পরিচালনা পর্ষদ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। তার অভিযোগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অভিযোগ তদন্ত ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এমনকি কোনো তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি।

 

ফরিদ আহমেদ আরও দাবি করেন, উচ্চ আদালতের আদেশে চাকরি ও বেতন-ভাতার অধিকার ফিরে পেলেও কলেজে তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া অধ্যক্ষের সরকারি বাসভবন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোয় তার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনার জন্য কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোছা. হোসনেয়ারা বেগম, প্রভাষক দিল আশরাফী ও অফিস সহকারী কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটের দ্রুত ও নিরপেক্ষ সমাধান প্রয়োজন। তাদের দাবি, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন ও বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে কলেজে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।