ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ডা:মিহিরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভা ভবনে পরিচালিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দাতব্য হোমিওপ্যাথি মেডিকেল সেন্টারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিব্বির আহমেদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় চিকিৎসা কেন্দ্রে সংরক্ষিত এবং রোগীদের সরবরাহ করা ওষুধপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, ব্যবহৃত ও বিতরণকৃত ওষুধের প্রায় ৯৯ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব ওষুধ দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। পরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও মেডিকেল অফিসার ডা. মিহির কান্ত পাল উপস্থিত ছিলেন না।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিব্বির আহমেদ জানান, একটি দাতব্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে এভাবে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও রোগীদের সরবরাহ করা অত্যন্ত দায়িত্বহীনতার পরিচয়। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মেডিকেল অফিসার ডা. মিহির কান্ত পালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের কাছে সুপারিশ করা হবে।

এ ছাড়া চিকিৎসা কেন্দ্রের সহকারী চিকিৎসক ডা. সুনির্মল বসু এবং অফিস সহকারী প্রমিলা কর্মকারকে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে। পুনরায় একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও চিকিৎসা সেবার মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

e-Paper-29.06.2026

error: Content is protected !!

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ডা:মিহিরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

আপডেট টাইম : ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভা ভবনে পরিচালিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দাতব্য হোমিওপ্যাথি মেডিকেল সেন্টারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিব্বির আহমেদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় চিকিৎসা কেন্দ্রে সংরক্ষিত এবং রোগীদের সরবরাহ করা ওষুধপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, ব্যবহৃত ও বিতরণকৃত ওষুধের প্রায় ৯৯ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব ওষুধ দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। পরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও মেডিকেল অফিসার ডা. মিহির কান্ত পাল উপস্থিত ছিলেন না।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিব্বির আহমেদ জানান, একটি দাতব্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে এভাবে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও রোগীদের সরবরাহ করা অত্যন্ত দায়িত্বহীনতার পরিচয়। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মেডিকেল অফিসার ডা. মিহির কান্ত পালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের কাছে সুপারিশ করা হবে।

এ ছাড়া চিকিৎসা কেন্দ্রের সহকারী চিকিৎসক ডা. সুনির্মল বসু এবং অফিস সহকারী প্রমিলা কর্মকারকে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে। পুনরায় একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও চিকিৎসা সেবার মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।