ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭

-ছবিঃ প্রতীকী।

আরিফুল ইসলাম জয়:

 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দেশীয় অস্ত্রসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ২টার দিকে উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের রায়গঞ্জ ব্রিজসংলগ্ন খামার আন্ধারীঝাড় কানিপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুল ইসলাম ওই এলাকার আব্দুল শেখের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল শেখ ও শুক্কুর আলীর মধ্যে প্রায় ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে এর আগে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক এবং ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি।

 

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে শুক্কুর আলীসহ কয়েকজন বিরোধপূর্ণ জমিতে হালচাষ করে রোপা আমন চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় শহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্বজনরা সেখানে গিয়ে বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

 

সংঘর্ষের একপর্যায়ে শহিদুল ইসলামকে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত কোঁচ দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।

 

ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। এই বিরোধ আজ মারাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং একজন ব্যক্তি নিহত হন। আমরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

 

তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার পাওয়া গেলে মামলায় আসামির সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব হবে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, আরও দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

তদন্ত ও এজাহারের পর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

উপজেলায় পাসের হারে প্রথম ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়

error: Content is protected !!

ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭

আপডেট টাইম : ৭ ঘন্টা আগে
আরিফুল ইসলাম জয়, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :

আরিফুল ইসলাম জয়:

 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দেশীয় অস্ত্রসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ২টার দিকে উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের রায়গঞ্জ ব্রিজসংলগ্ন খামার আন্ধারীঝাড় কানিপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুল ইসলাম ওই এলাকার আব্দুল শেখের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল শেখ ও শুক্কুর আলীর মধ্যে প্রায় ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে এর আগে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক এবং ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি।

 

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে শুক্কুর আলীসহ কয়েকজন বিরোধপূর্ণ জমিতে হালচাষ করে রোপা আমন চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় শহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্বজনরা সেখানে গিয়ে বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

 

সংঘর্ষের একপর্যায়ে শহিদুল ইসলামকে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত কোঁচ দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।

 

ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। এই বিরোধ আজ মারাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং একজন ব্যক্তি নিহত হন। আমরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

 

তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার পাওয়া গেলে মামলায় আসামির সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব হবে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, আরও দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

তদন্ত ও এজাহারের পর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।