ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

উপজেলায় পাসের হারে প্রথম ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়

নেপথ্যে স্টুডেন্ট সাকসেস প্রজেক্ট

মোহাম্মদ আবু নাছেরঃ

 

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মধ্যে পাসের হারে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এই অর্জনের পেছনে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের কার্যকর নেতৃত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরলস পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং পরিকল্পিত শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন পরিচালিত “এসএসসি স্টুডেন্ট সাকসেস প্রজেক্ট-২০২৬”।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোট ১০৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে নির্বাচনী পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমে ফলাফলের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষভাবে নির্বাচন করা হয়। এরপর সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে তাদের নিয়ে শুরু করা হয় “এসএসসি স্টুডেন্ট সাকসেস প্রজেক্ট-২০২৬”।

 

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে তাদের দুর্বলতা কাটিয়ে পরীক্ষায় ভালো করার উপযোগী করে গড়ে তোলা। সে লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের জন্য ধারাবাহিক শিক্ষা কার্যক্রম, নিয়মিত অনুশীলন, পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতি, বিশেষ তত্ত্বাবধান এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার ব্যবস্থা করা হয়।

 

নিয়মিত পড়াশোনা ও অনুশীলনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, কোন বিষয়ে বেশি সহযোগিতা প্রয়োজন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়—এসব বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে প্রকল্পের আওতায় থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয় আত্মবিশ্বাস ও পরীক্ষামুখী প্রস্তুতির নতুন গতি।

 

প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত ৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জন সফলভাবে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পটির সফলতার হার দাঁড়িয়েছে- ৩১ ÷ ৪০ × ১০০ = ৭৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

 

এই পরিসংখ্যান শুধু একটি প্রকল্পের সাফল্যের হিসাব নয়; বরং পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের যথাযথ পরিচর্যা, নিয়মিত অনুশীলন ও পরিকল্পিত দিকনির্দেশনা দিলে তারাও ভালো ফলাফল করতে পারে-তার একটি বাস্তব উদাহরণ।

 

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাধারণত একাডেমিক ফলাফলে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেই একসময় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। কিন্তু তাদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে আলাদা মনোযোগ, নিয়মিত অনুশীলন এবং উৎসাহ দেওয়া গেলে তাদের মধ্যেও সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ সেই সম্ভাবনাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

 

বিদ্যালয়ের উপজেলায় পাসের হারে প্রথম হওয়ার পেছনে শুধুমাত্র একটি প্রকল্পের অবদান নয়; বরং এটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের কার্যকর নেতৃত্বে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ও প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। অভিভাবকরাও সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন।

 

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের ‘এসএসসি স্টুডেন্ট সাকসেস প্রজেক্ট-২০২৬’। বিশেষ করে ফলাফলের দিক থেকে পিছিয়ে থাকা ৪০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করার উদ্যোগটি এই সাফল্যের গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-এখানে লক্ষ্য ছিল শুধু ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের আরও এগিয়ে নেওয়া নয়; বরং যারা পিছিয়ে রয়েছে, তাদের সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে সাফল্যের পথে ফিরিয়ে আনা।

 

৪০ জনের মধ্যে ৩১ জন শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি যেন সেই বার্তাই দিয়েছে-পিছিয়ে থাকা মানেই ব্যর্থতা নয়; প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত অনুশীলন ও পাশে থাকার মানুষ।

 

ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের এবারের ফলাফল তাই শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান নয়; এটি পরিকল্পিত উদ্যোগ, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও শিক্ষার্থীবান্ধব সহযোগিতার একটি অনুপ্রেরণাদায়ী উদাহরণ।

 

সাফল্যের এই ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকুক-এমন প্রত্যাশা বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের। পিছিয়ে থাকা প্রতিটি শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা বিকশিত হোক-শিক্ষার আলোয়, সাফল্যের পথে।

 

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

উপজেলায় পাসের হারে প্রথম ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়

error: Content is protected !!

উপজেলায় পাসের হারে প্রথম ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়

আপডেট টাইম : ৫১ মিনিট আগে
মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :

মোহাম্মদ আবু নাছেরঃ

 

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মধ্যে পাসের হারে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এই অর্জনের পেছনে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের কার্যকর নেতৃত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরলস পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং পরিকল্পিত শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন পরিচালিত “এসএসসি স্টুডেন্ট সাকসেস প্রজেক্ট-২০২৬”।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোট ১০৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে নির্বাচনী পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমে ফলাফলের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষভাবে নির্বাচন করা হয়। এরপর সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে তাদের নিয়ে শুরু করা হয় “এসএসসি স্টুডেন্ট সাকসেস প্রজেক্ট-২০২৬”।

 

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে তাদের দুর্বলতা কাটিয়ে পরীক্ষায় ভালো করার উপযোগী করে গড়ে তোলা। সে লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের জন্য ধারাবাহিক শিক্ষা কার্যক্রম, নিয়মিত অনুশীলন, পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতি, বিশেষ তত্ত্বাবধান এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার ব্যবস্থা করা হয়।

 

নিয়মিত পড়াশোনা ও অনুশীলনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, কোন বিষয়ে বেশি সহযোগিতা প্রয়োজন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়—এসব বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে প্রকল্পের আওতায় থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয় আত্মবিশ্বাস ও পরীক্ষামুখী প্রস্তুতির নতুন গতি।

 

প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত ৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জন সফলভাবে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পটির সফলতার হার দাঁড়িয়েছে- ৩১ ÷ ৪০ × ১০০ = ৭৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

 

এই পরিসংখ্যান শুধু একটি প্রকল্পের সাফল্যের হিসাব নয়; বরং পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের যথাযথ পরিচর্যা, নিয়মিত অনুশীলন ও পরিকল্পিত দিকনির্দেশনা দিলে তারাও ভালো ফলাফল করতে পারে-তার একটি বাস্তব উদাহরণ।

 

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাধারণত একাডেমিক ফলাফলে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেই একসময় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। কিন্তু তাদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে আলাদা মনোযোগ, নিয়মিত অনুশীলন এবং উৎসাহ দেওয়া গেলে তাদের মধ্যেও সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ সেই সম্ভাবনাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

 

বিদ্যালয়ের উপজেলায় পাসের হারে প্রথম হওয়ার পেছনে শুধুমাত্র একটি প্রকল্পের অবদান নয়; বরং এটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের কার্যকর নেতৃত্বে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ও প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। অভিভাবকরাও সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন।

 

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের ‘এসএসসি স্টুডেন্ট সাকসেস প্রজেক্ট-২০২৬’। বিশেষ করে ফলাফলের দিক থেকে পিছিয়ে থাকা ৪০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করার উদ্যোগটি এই সাফল্যের গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-এখানে লক্ষ্য ছিল শুধু ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের আরও এগিয়ে নেওয়া নয়; বরং যারা পিছিয়ে রয়েছে, তাদের সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে সাফল্যের পথে ফিরিয়ে আনা।

 

৪০ জনের মধ্যে ৩১ জন শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি যেন সেই বার্তাই দিয়েছে-পিছিয়ে থাকা মানেই ব্যর্থতা নয়; প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত অনুশীলন ও পাশে থাকার মানুষ।

 

ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের এবারের ফলাফল তাই শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান নয়; এটি পরিকল্পিত উদ্যোগ, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও শিক্ষার্থীবান্ধব সহযোগিতার একটি অনুপ্রেরণাদায়ী উদাহরণ।

 

সাফল্যের এই ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকুক-এমন প্রত্যাশা বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের। পিছিয়ে থাকা প্রতিটি শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা বিকশিত হোক-শিক্ষার আলোয়, সাফল্যের পথে।