ঢাকা , রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বাজেটে চরম উপেক্ষিত রংপুর; তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও কৃষি হাবে নেই বরাদ্দ

নাঈমুল ইসলাম:

জাতীয় বাজেটে বরাবরের মতো এবারও বঞ্চনার শিকার হয়েছে রংপুর অঞ্চল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ কিংবা নদী ব্যবস্থাপনা—কোনো খাতেই এই জনপদের জন্য মেলেনি আশানুরূপ বরাদ্দ। এমনকি উন্নয়ন বরাদ্দের তালিকায় নাম পর্যন্ত ওঠেনি রংপুর সিটি কর্পোরেশনের। বৈষম্যের এই চিত্র প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছেন উত্তরের ১৬ জেলার মানুষ।

 

কৃষিতে বরাদ্দ আছে, নাম নেই রংপুরের:

প্রস্তাবিত বাজেটে উত্তরবঙ্গকে ‘কৃষি হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে তিন হাজার কোটি টাকার বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু এই বিশাল কর্মযজ্ঞে রংপুরের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। জিআই স্বীকৃত হাড়িভাঙ্গা আমের এই জনপদে দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা আধুনিক হিমাগারের দাবি জানিয়ে আসলেও তা উপেক্ষিত রয়ে গেছে। অথচ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কোল্ড চেইন সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উন্নয়ন গবেষক ড. উমর ফারুক বলেন, “এই অঞ্চলে সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর প্রচুর কৃষিপণ্য নষ্ট হয়। আমরা ভেবেছিলাম বাজেটে কৃষকদের এই দীর্ঘদিনের দুঃখ ঘুচবে, কিন্তু বরাদ্দের চিত্র আমাদের চরমভাবে হতাশ করেছে।”

 

যোগাযোগে দক্ষিণাঞ্চল অগ্রাধিকার, উপেক্ষিত উত্তর:

বাজেটে দেখা গেছে, সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের উন্নয়নে দক্ষিণাঞ্চলের জন্য একাধিক মেগা প্রকল্প নেওয়া হলেও রংপুরের ঝুলিতে নেই তেমন কিছুই। ঢাকা-রংপুর সরাসরি রেলপথ নির্মাণ, রংপুর-বুড়িমারী ছয় লেনের সড়ক এবং চিলমারী ও বালাশী ঘাট নদীবন্দর আধুনিকায়নের দাবিগুলো বরাবরের মতোই ফাইলবন্দি রয়ে গেছে। এমনকি দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও পরিত্যক্ত ছয়টি বিমানবন্দর সচল করার বিষয়ে বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা বা অর্থের সংস্থান রাখা হয়নি।

 

বন্ধ চিনিকল ও তিস্তা প্রকল্প: কেবলই দীর্ঘশ্বাস!

রংপুর অঞ্চলের মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস বন্ধ থাকা চারটি চিনিকল। এবারের বাজেটে এগুলো চালুর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। অন্যদিকে, দুই কোটি মানুষের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে পরিচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের বিষয়টি বাজেটে স্থান পেলেও এর জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। ফলে তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের অভিশাপ মোচনের স্বপ্ন এবারও ফিকে হতে চলেছে।

 

বাজেটে রংপুরের এই ধারাবাহিক অবহেলায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ এ অঞ্চলের বিশিষ্ট নাগরিকরা। উন্নয়ন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেট থেকে শুরু করে বানিজ্য—সবকিছুতেই উত্তরবঙ্গকে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে। অবিলম্বে বৈষম্য দূর করে রংপুরের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

 

রংপুরের সচেতন মহলের দাবি, একটি সুষম ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে উত্তরবঙ্গকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার কোনো সুযোগ নেই। অন্যথায় এই আঞ্চলিক বৈষম্য ভবিষ্যতে বড় ধরনের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চলে গেলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক জাহিদ মেম্বার

error: Content is protected !!

বাজেটে চরম উপেক্ষিত রংপুর; তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও কৃষি হাবে নেই বরাদ্দ

আপডেট টাইম : ১৩ ঘন্টা আগে
নাঈমুল ইসলাম, রংপুর সদর (রংপুর) প্রতিনিধি :

নাঈমুল ইসলাম:

জাতীয় বাজেটে বরাবরের মতো এবারও বঞ্চনার শিকার হয়েছে রংপুর অঞ্চল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ কিংবা নদী ব্যবস্থাপনা—কোনো খাতেই এই জনপদের জন্য মেলেনি আশানুরূপ বরাদ্দ। এমনকি উন্নয়ন বরাদ্দের তালিকায় নাম পর্যন্ত ওঠেনি রংপুর সিটি কর্পোরেশনের। বৈষম্যের এই চিত্র প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছেন উত্তরের ১৬ জেলার মানুষ।

 

কৃষিতে বরাদ্দ আছে, নাম নেই রংপুরের:

প্রস্তাবিত বাজেটে উত্তরবঙ্গকে ‘কৃষি হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে তিন হাজার কোটি টাকার বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু এই বিশাল কর্মযজ্ঞে রংপুরের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। জিআই স্বীকৃত হাড়িভাঙ্গা আমের এই জনপদে দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা আধুনিক হিমাগারের দাবি জানিয়ে আসলেও তা উপেক্ষিত রয়ে গেছে। অথচ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কোল্ড চেইন সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উন্নয়ন গবেষক ড. উমর ফারুক বলেন, “এই অঞ্চলে সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর প্রচুর কৃষিপণ্য নষ্ট হয়। আমরা ভেবেছিলাম বাজেটে কৃষকদের এই দীর্ঘদিনের দুঃখ ঘুচবে, কিন্তু বরাদ্দের চিত্র আমাদের চরমভাবে হতাশ করেছে।”

 

যোগাযোগে দক্ষিণাঞ্চল অগ্রাধিকার, উপেক্ষিত উত্তর:

বাজেটে দেখা গেছে, সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের উন্নয়নে দক্ষিণাঞ্চলের জন্য একাধিক মেগা প্রকল্প নেওয়া হলেও রংপুরের ঝুলিতে নেই তেমন কিছুই। ঢাকা-রংপুর সরাসরি রেলপথ নির্মাণ, রংপুর-বুড়িমারী ছয় লেনের সড়ক এবং চিলমারী ও বালাশী ঘাট নদীবন্দর আধুনিকায়নের দাবিগুলো বরাবরের মতোই ফাইলবন্দি রয়ে গেছে। এমনকি দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও পরিত্যক্ত ছয়টি বিমানবন্দর সচল করার বিষয়ে বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা বা অর্থের সংস্থান রাখা হয়নি।

 

বন্ধ চিনিকল ও তিস্তা প্রকল্প: কেবলই দীর্ঘশ্বাস!

রংপুর অঞ্চলের মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস বন্ধ থাকা চারটি চিনিকল। এবারের বাজেটে এগুলো চালুর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। অন্যদিকে, দুই কোটি মানুষের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে পরিচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের বিষয়টি বাজেটে স্থান পেলেও এর জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। ফলে তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের অভিশাপ মোচনের স্বপ্ন এবারও ফিকে হতে চলেছে।

 

বাজেটে রংপুরের এই ধারাবাহিক অবহেলায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ এ অঞ্চলের বিশিষ্ট নাগরিকরা। উন্নয়ন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেট থেকে শুরু করে বানিজ্য—সবকিছুতেই উত্তরবঙ্গকে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে। অবিলম্বে বৈষম্য দূর করে রংপুরের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

 

রংপুরের সচেতন মহলের দাবি, একটি সুষম ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে উত্তরবঙ্গকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার কোনো সুযোগ নেই। অন্যথায় এই আঞ্চলিক বৈষম্য ভবিষ্যতে বড় ধরনের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।