ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বন্ডবিল গ্রামে ‘জিন সাপের’ আতঙ্ক

এক সপ্তাহে ১০-১৫ জনের আক্রান্ত হওয়ার দাবি, তদন্তের আহ্বান

হুমায়ন আহমেদঃ

 

আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বন্ডবিল গ্রামে এক সপ্তাহ ধরে রহস্যজনক কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, তারা ‘অদৃশ্য জিন সাপের’ কামড়ের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ, গুজব ও নানা আলোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশু সাপের কামড়ের মতো ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পারভিনা খাতুন জানান, শুক্রবার রাতে টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গেলে হঠাৎ তার মুখে কিছু একটা কামড় দেয়। এরপর তিনি তীব্র জ্বালা-যন্ত্রণা অনুভব করেন। পরে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বন্ডবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী লিমন, মুন্না, খালেদা খাতুন ও মিলি খাতুনসহ আরও কয়েকজন।

স্থানীয় বাসিন্দা মিলন হোসেন বলেন, “গ্রামের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। অনেকেই রাতে স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারছেন না। আমার মেয়েও এমন ঘটনার শিকার হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ এটিকে অতিপ্রাকৃত ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার সচেতন মহল ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে মতবিরোধও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, স্বাস্থ্য বিভাগ, বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। সাপের কামড়, পোকামাকড়ের আক্রমণ নাকি অন্য কোনো কারণে এসব ঘটনা ঘটছে, তা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা জরুরি।

তবে এখন পর্যন্ত ‘জিন সাপ’ বা অতিপ্রাকৃত কোনো ঘটনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই গুজব না ছড়িয়ে সচেতন থাকার এবং শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মুকসুদপুরে সংবাদ সম্মেলন করে আ’লীগ নেতার পদত্যাগ

error: Content is protected !!

বন্ডবিল গ্রামে ‘জিন সাপের’ আতঙ্ক

আপডেট টাইম : ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
হুমায়ুন আহমেদ, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি :

হুমায়ন আহমেদঃ

 

আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বন্ডবিল গ্রামে এক সপ্তাহ ধরে রহস্যজনক কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, তারা ‘অদৃশ্য জিন সাপের’ কামড়ের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ, গুজব ও নানা আলোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশু সাপের কামড়ের মতো ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পারভিনা খাতুন জানান, শুক্রবার রাতে টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গেলে হঠাৎ তার মুখে কিছু একটা কামড় দেয়। এরপর তিনি তীব্র জ্বালা-যন্ত্রণা অনুভব করেন। পরে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বন্ডবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী লিমন, মুন্না, খালেদা খাতুন ও মিলি খাতুনসহ আরও কয়েকজন।

স্থানীয় বাসিন্দা মিলন হোসেন বলেন, “গ্রামের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। অনেকেই রাতে স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারছেন না। আমার মেয়েও এমন ঘটনার শিকার হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ এটিকে অতিপ্রাকৃত ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার সচেতন মহল ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে মতবিরোধও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, স্বাস্থ্য বিভাগ, বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। সাপের কামড়, পোকামাকড়ের আক্রমণ নাকি অন্য কোনো কারণে এসব ঘটনা ঘটছে, তা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা জরুরি।

তবে এখন পর্যন্ত ‘জিন সাপ’ বা অতিপ্রাকৃত কোনো ঘটনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই গুজব না ছড়িয়ে সচেতন থাকার এবং শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।