আলিফ হোসেনঃ
রাজশাহীর তানোরের বাধাইড় ইউনিয়নের (ইউপি) ভান্ডাইল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাস না করেও আবার নিজস্ব বসতবাড়ি থাকা সত্ত্বেও একাধিক নতুন ঘর পেয়েছেন বিভিন্ন ব্যক্তি। এ নিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে নতুন ঘর না পাওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। একই সঙ্গে আবাসন নিয়ে তারা এক রকম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছেন।
জানা গেছে,উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের (ইউপি) ভান্ডইল মৌজায় ৮০ নম্বর দাগে ৪ দশমিক ১১ একর আয়তনের একটি পুকুর ও ৮১ নম্বর দাগে প্রায় ৩৮বিঘা সরকারি খাস সম্পত্তি রয়েছে। ২০০৭ সালে ভান্ডইল গ্রামে টিনের বেড়া দিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫০টি ঘর তৈরী ও ভুমিহীনদের মাঝে বরাদ্দ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় দ্বিতীয় ধাপে ভান্ডইল পুরনো আশ্রয়ণ প্রকল্পের জরাজীর্ণ সিআইসিট ব্যারাকের স্থলে সেমিপাকা একক গৃহনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৪৩টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে এবং ৩৯টি ঘর বরাদ্দ করা হয়েছে ৪টি ঘর এখানো বরাদ্দ করা হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু এগুলোও হস্তান্তর করার পরপরই উঠে আসে এসব অনিয়মের তথ্য।
স্থানীয়রা জানান,নিজের ঘরবাড়ি থাকার পরেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি আতিকুল ইসলাম,তার স্ত্রী, পুত্র হৃদয়, দুভাই শফিকুল ও জহুরুল ইসালামের নামে ঘর রয়েছে।এছাড়াও আতিকুলের আরো প্রায় ১৫ জন আত্মীয়কে ঘর দেয়া হয়েছে।অথচ মৃত শমসের আলীর স্ত্রী সোনাভান (৫৫) ও মৃত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী মরিজান বেওয়ার নামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের রেজিস্ট্রি দলিল থাকলেও তাদের কোনো ঘর দেয়া হয়নি। আবার তালিকায় নাম রয়েছে আক্তার আলীর পুত্র শাকিল আলী, জামিলুরের পুত্র সারোয়ার, মৃত রহমানের পুত্র সেকেন্দার আলীর।কিন্ত্ত তাদের কোনো ঘর দেয়া হয়নি।
এছাড়াও পারুলের বিয়ে হয়েছে উচাডাঙা তার পরেও তার নামে ঘর আছে, আবার রাকিব ও তার মেয়ে রুনার নামে ঘর রয়েছে। অন্যদিকে আকতার বানুর নামের ঘর থাকলেও সেই ঘরে কেউ থাকে না।
আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করে আসা সোনাভান (৫৫) জানান,পুরনো ঘর ভেঙে নতুন ঘরনির্মাণ হওয়ার কারণে তিনি অন্যের জমিতে (কবরস্থান)
অস্থায়ীভাবে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন। তিনি আরও জানান, অন্যের জমিতে ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরেই রোদবৃষ্টিতে দিনযাপন করছেন। অন্যরা যখন একই পরিবারে অনেকগুলো ঘর পাচ্ছেন, সেখানে তার মতো বৃদ্ধার কথা একটি বারও কেউ চিন্তা করলো না।
এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় ৪ দশমিক ১১ একর আয়তনের বিশাল পুকুর নিয়ন্ত্রণ করতেই আতিকুল ইসলাম সভাপতি হয়েছেন। এবং তিনি নিজে,স্ত্রী-পুত্র ও দুই ভাইয়ের নামে ঘর বরাদ্দ নেয়ার পাশাপাশি আরো প্রয় ১৫ জন নিকট আত্মীয়র নামে ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন। যে পুকুর থেকে বছরে আয় হয় প্রায় ৬ লাখ টাকা।আতিকুল এ পুকুর নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের নামমাত্র সুবিধা দিয়ে পুরো টাকা নিজে আত্মসাৎ করে চলেছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে আতিকুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তার ঘরবাড়ি আছে সত্যি তবে সেটা সরকারি খাস জায়গায়।সরকার যদি কখানো তার ঘর ভেঙে দেয় তাহলে কোথায় যাবেন ? তাই তিনি আশ্রায়ণের ঘর নিয়েছেন।তিনি বলেন,আশ্রায়ণের ৩৯টি পরিবার মিলে তারা পুকুর চাষ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খাঁন বলেন, যাদের পূর্বের ঘরসহ ৯৯ বছরের লিজ দেওয়া থাকে তাদের নতুন ঘর পাওয়ার কথা। তিনি বলেন, এবিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 




















