ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

পানি নিয়ে বৈষম্য গোদাগাড়ীর মাটিতে মেনে নেওয়া হবে নাঃ -সাবেক চেয়ারম্যান হযরত

মোঃ মনোয়ার হোসেনঃ

 

পানি নিয়ে বৈষম্য গোদাগাড়ীর মাটিতে মেনে নেওয়া হবে না। গোদাগাড়ী স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারের এক মানববন্ধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক ও সাবেক গোগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হযরত আলী।

তিনি বলেন, গোদাগাড়ী থেকে ওয়াসা ট্রান্সপ্লান্ট ট্রিটমেন্ট পাইপ লাইনে করে পানি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শহরে। গোদাগাড়ীবাসী কে বঞ্চিত করে পানি নেওয়া যাবে না। আমরা গতকাল জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। পানি নিয়ে কোন বৈষম্য গোদাগাড়ীর মাটিতে মেনে নেওয়া হবে না। লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ার কারনে আমরা পানির অভাব বোধ করছি।

শহরের মানুষ যেমন মানুষ আমরা গ্রামের মানুষরাও মানুষ। মানুষে মানুষে কোন বৈষম্য চলবে না। আমাদের গোদাগাড়ী বাসীর হিস্যা পূরনের পর শহরের মানুষের চাহিদা পূরন করুন, এতে আমাদের কোন আপত্তি নেই।কিন্তু আমাদের গোদাগাড়ী বাসীকে বাদ দিয়ে কোন পানি যেতে দেওয়া হবে না। উপজেলার বরেন্দ্র অঞ্চলের সকল জায়গায় পানি সরবরাহ করতে হবে।

 

১৪ ( অক্টোবর) মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল জাতীর লোকেরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

 

মানববন্ধনে আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারীদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এতে “সম্পদ ব্যবহারে স্থানীয় সিদ্ধান্তের অধিকার চাই” ” গোদাগাড়ী বাসীর অঙ্গিকার পানির ন্যায্য অধিকার ” “গোদাগাড়ী বাসীকে বঞ্চিত করে পানি নেওয়া যাবে না” “গোদাগাড়ীতে পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ দিতে হবে” “আমাদের দোকান ভাঙ্গার ক্ষতিপূরণ দাও” ” আমার গাছ কেটেছো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে” ” আমাদের পানি আমাদের অধিকার ” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধনে দাড়ান তারা।

আদিবাসী নারী মুক্তা রাণী জানান, আমরা গ্রামের মানুষ খেটেখুটে খায়। আমরা ঠিকমত পানি পাই না।যা পাই তাতেও আর্সেনিক যুক্ত পানি।সব বাড়ির টিউবওয়েলে পানি ওঠে না।অন্যের বাড়ি থেকে পানি নিয়ে আসতে হয়।আমরা নিজেরাই পানি নিয়ে সমস্যায় আছি। এদিকে তারা শহরে পানি নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে।আমি বলতে চাই আমাদের আগে পানি ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তারপর শহরের মানুষকে পানি দেন।

 

গোদাগাড়ী স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদের আহবায়ক মোস্তারুজ্জামান লাভলু বলেন, বরেন্দ্রে আর্সেনিকের সমস্যা, পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এর ফলে আমাদের পানির সমস্যা তৈরী হয়েছে। সুলতানগঞ্জ থেকে লক্ষ লক্ষ লিটার পানি নিয়ে যাবে আর আমরা বসে থাকবো এটা হয় না। তানোর সহ গোদাগাড়ী উপজেলার সর্ব স্তরে এই বিশুদ্ধ পানি চাই।আমরা আর আয়রন যুক্ত পানি পান করতে চাই না।

 

ট্রিটমেন্টের পানু নিতে চাই। আমার পানি আমি আগে চাই তারপর অন্য জায়গায় যাবে। এছাড়াও আমাদের গোদাগাড়ী বাসীর জন্য পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। আমার ভায়ের ঘর ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে পাইপ লাইন নিতে গিয়ে এটার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

 

উল্লেখ, পদ্মা নদী থেকে উত্তোলিত বিশুদ্ধ পানির ন্যায্য অংশ গোদাগাড়ী উপজেলার জনগণের জন্য বরাদ্দ রাখার দাবিতে গতকাল রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে “গোদাগাড়ী স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ”।এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় গোদাগাড়ী উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করে ইউএনওকে অনুলিপি প্রদান করেন তারা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে প্রধানমন্ত্রীঃ -এম.পি বাবুল

error: Content is protected !!

পানি নিয়ে বৈষম্য গোদাগাড়ীর মাটিতে মেনে নেওয়া হবে নাঃ -সাবেক চেয়ারম্যান হযরত

আপডেট টাইম : ০৪:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
মোঃ মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :

মোঃ মনোয়ার হোসেনঃ

 

পানি নিয়ে বৈষম্য গোদাগাড়ীর মাটিতে মেনে নেওয়া হবে না। গোদাগাড়ী স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারের এক মানববন্ধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক ও সাবেক গোগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হযরত আলী।

তিনি বলেন, গোদাগাড়ী থেকে ওয়াসা ট্রান্সপ্লান্ট ট্রিটমেন্ট পাইপ লাইনে করে পানি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শহরে। গোদাগাড়ীবাসী কে বঞ্চিত করে পানি নেওয়া যাবে না। আমরা গতকাল জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। পানি নিয়ে কোন বৈষম্য গোদাগাড়ীর মাটিতে মেনে নেওয়া হবে না। লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ার কারনে আমরা পানির অভাব বোধ করছি।

শহরের মানুষ যেমন মানুষ আমরা গ্রামের মানুষরাও মানুষ। মানুষে মানুষে কোন বৈষম্য চলবে না। আমাদের গোদাগাড়ী বাসীর হিস্যা পূরনের পর শহরের মানুষের চাহিদা পূরন করুন, এতে আমাদের কোন আপত্তি নেই।কিন্তু আমাদের গোদাগাড়ী বাসীকে বাদ দিয়ে কোন পানি যেতে দেওয়া হবে না। উপজেলার বরেন্দ্র অঞ্চলের সকল জায়গায় পানি সরবরাহ করতে হবে।

 

১৪ ( অক্টোবর) মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল জাতীর লোকেরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

 

মানববন্ধনে আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারীদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এতে “সম্পদ ব্যবহারে স্থানীয় সিদ্ধান্তের অধিকার চাই” ” গোদাগাড়ী বাসীর অঙ্গিকার পানির ন্যায্য অধিকার ” “গোদাগাড়ী বাসীকে বঞ্চিত করে পানি নেওয়া যাবে না” “গোদাগাড়ীতে পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ দিতে হবে” “আমাদের দোকান ভাঙ্গার ক্ষতিপূরণ দাও” ” আমার গাছ কেটেছো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে” ” আমাদের পানি আমাদের অধিকার ” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধনে দাড়ান তারা।

আদিবাসী নারী মুক্তা রাণী জানান, আমরা গ্রামের মানুষ খেটেখুটে খায়। আমরা ঠিকমত পানি পাই না।যা পাই তাতেও আর্সেনিক যুক্ত পানি।সব বাড়ির টিউবওয়েলে পানি ওঠে না।অন্যের বাড়ি থেকে পানি নিয়ে আসতে হয়।আমরা নিজেরাই পানি নিয়ে সমস্যায় আছি। এদিকে তারা শহরে পানি নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে।আমি বলতে চাই আমাদের আগে পানি ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তারপর শহরের মানুষকে পানি দেন।

 

গোদাগাড়ী স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদের আহবায়ক মোস্তারুজ্জামান লাভলু বলেন, বরেন্দ্রে আর্সেনিকের সমস্যা, পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এর ফলে আমাদের পানির সমস্যা তৈরী হয়েছে। সুলতানগঞ্জ থেকে লক্ষ লক্ষ লিটার পানি নিয়ে যাবে আর আমরা বসে থাকবো এটা হয় না। তানোর সহ গোদাগাড়ী উপজেলার সর্ব স্তরে এই বিশুদ্ধ পানি চাই।আমরা আর আয়রন যুক্ত পানি পান করতে চাই না।

 

ট্রিটমেন্টের পানু নিতে চাই। আমার পানি আমি আগে চাই তারপর অন্য জায়গায় যাবে। এছাড়াও আমাদের গোদাগাড়ী বাসীর জন্য পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। আমার ভায়ের ঘর ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে পাইপ লাইন নিতে গিয়ে এটার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

 

উল্লেখ, পদ্মা নদী থেকে উত্তোলিত বিশুদ্ধ পানির ন্যায্য অংশ গোদাগাড়ী উপজেলার জনগণের জন্য বরাদ্দ রাখার দাবিতে গতকাল রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে “গোদাগাড়ী স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ”।এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় গোদাগাড়ী উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করে ইউএনওকে অনুলিপি প্রদান করেন তারা।