মোক্তার হোসেনঃ
রাজবাড়ী জেলার পাংশায় কবি ও নাট্য অভিনেতা দেবাশীষ কুমার কুন্ডু রচিত ‘অতৃপ্ত বাসনা’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) এয়াকুব আলী চৌধুরী স্মৃতি পাঠাগারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পাংশা সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান হাজারী আবুল হাসিমের সভাপতিত্বে এবং লেখক ও গবেষক শেখ মুহাম্মদ সবুর উদ্দিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাংশা শাহজুই কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ, লেখক ও গবেষক ড. খন্দকার মাহবুবুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে কুমারখালী উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, কবি ও লেখক সুপ্রিয়া রানী বিশ^াস বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘অতৃপ্ত বাসনা’ কাব্যগ্রন্থের লেখক দেবাশীষ কুমার কুন্ডু। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পাংশা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান, মুক্তকলম সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি মো. সহিদুর রহমান, কবি মোল্লা মাজেদ, কবি মো. এবাদত আলী সেখ, শেখ মুন্নু (বাংলাভাষী), ষড়জিৎ বিষ্ণু শ্যাম, ফিরোজ মাহমুদ মুক্তার, উত্তম মিত্র, সন্ধ্যা রানী কুন্ডু, সুমী খোন্দকার, বিকর্ণ মন্ডল, রুহুল আমীন সজল ও সরদার আবু জালাল প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
লেখক সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দেবাশীষ কুন্ডুর পৈত্রিক বাড়ী পাংশা পৌর শহরের মাগুড়াডাঙ্গী গ্রামে। পৌরসভার নারায়নপুর গ্রামে মাতামহ স্বর্গীয় গোপাল চন্দ্র কুন্ডুর বাড়ীতে ১৯৬৮ সালে তার জন্ম। পিতামহ স্বর্গীয় কালীপদ কুন্ডু একজন সুনামধন্য অভিনেতা ছিলেন। দেবাশীষ কুন্ডুর লেখালেখির প্রতি অনুরাগ ছেলেবেলা থেকেই। কিন্তু প্রচার বিমুখ হবার কারণে অনেক লেখা হারিয়ে গেছে সংরক্ষণের অভাবে, উদাসীনতায়। পিতা-মাতার অনুপ্রেরণায় কবিতা, গান ও নাট্যচর্চা করে আসছেন ছেলেবেলা থেকেই।
৪র্থ শ্রেনী থেকেই শিশু কিশোর সংগঠন কচি কাঁচার মেলায় যুক্ত হন। শিশু শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন পাংশার গুণী মানুষের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত যাত্রা অনুষ্ঠানে। জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় বারবার পুরস্কৃত হয়েছেন। একজন নাট্য শিল্পী হিসেবে এখনো তিনি সমাদৃত। সব সময়ই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবাধ বিচরণ তার। সদাহাস্য, পরোপকারী ও বন্ধুবৎসল মানুষ তিনি। তার লেখায় জীবনের নানাদিক ও সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরা হয়েছে।
চাওয়া- পাওয়া, বঞ্চনা, অবজ্ঞা, আবেগ, অধিকার সবই তুলে ধরবার চেষ্টা করা হয়েছে তার লেখার মধ্য দিয়ে। এই ভোগ-ময় জীবনে কিছুতেই আমরা তৃপ্তি পাই না। পাবার আকাঙ্খা কিছুতেই যেনো মেটেনা আমাদের। এ আলোকেই নামকরণ ‘অতৃপ্ত বাসনা’ একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। দেবাশীষ কুন্ডু বর্তমানে পাংশা শহরের এস.এন. মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।
.
বাংলাদেশ ও ভারতের নির্বাচিত লেখকদের সমন্বয়ে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি যৌথগ্রন্থে তার লেখা প্রকাশ পেয়েছে। তার রচিত কবিতা সমূহের মধ্য থেকে বাছাইকৃত কবিতা দিয়ে প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ ‘অতৃপ্ত বাসনা’ প্রকাশিত হয়েছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
মোক্তার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 





















