আলিফ হোসেনঃ
রাজশাহীর টি-বাঁধ এলাকায় পদ্মা নদীতে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া জলোচ্ছ্বাসের মতো বড় ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তীরবর্তী মাঝি ও জেলেরা। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে কারও একমাত্র জীবিকার অবলম্বন নৌকা তলিয়ে গেছে, আবার নৌকা বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন কেউ। দিশেহারা এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গতদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।
জানা গেছে, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে রাজশাহীর টি-বাঁধ এলাকার পদ্মায় হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সমুদ্রের মতো বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকে তীরে। এতে বাঁধা নৌকাগুলো প্রচণ্ডভাবে দুলতে শুরু করে। এ সময় একটি নৌকা ভেসে যায় এবং অপর একটি তলিয়ে যায়। নষ্ট হয় নৌকায় থাকা মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম।
জলোচ্ছ্বাসের রাতে প্রতিবেশী শাহজামাল মাঝির নৌকা ভেসে যাওয়া ঠেকাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন রিমোন হোসেন ও তাঁর স্ত্রী। নৌকার ধাক্কায় রিমোনের পা ভেঙে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। বর্তমানে কাজ করতে অক্ষম রিমোন বলেন, ‘পায়ের এই অবস্থায় কোনো কাজ করতে পারছি না। সংসার কীভাবে চলবে বুঝতে পারছিলাম না।তবে,ডিসি স্যার নিজে এসে পরিবারের জন্য এক মাসের খাবার ও চিকিৎসার নগদ টাকা দিয়েছেন। এই বিপদে এটি আমাদের বড় ভরসা।’
শাহজামাল মাঝি তাঁর নৌকা রক্ষার জন্য রিমোন দম্পতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ এত বড় ঢেউ উঠবে, কল্পনাও করিনি। ডিসি স্যার এসে আমাদের কষ্টের কথা শুনেছেন, দুঃসময়ে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’
অন্যদিকে, আকস্মিক এই ঢেউয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন জারজিস মাঝি। তাঁর একমাত্র নৌকাটি জাল ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ পানিতে পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতির শিকার জারজিস আক্ষেপ করে বলেন, ‘সর্বনাশা পদ্মার ঢেউ এক রাতেই আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এই নৌকাই ছিল পরিবারের আয়ের একমাত্র পথ। তবে ডিসি স্যার খোঁজ নিয়ে খাবার ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ায় অনেক উপকার হয়েছে।’
শনিবার সকালে টি-বাঁধের বটতলা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলা শেষে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার রাতের হঠাৎ জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক খোঁজখবর নিতে এসেছি। তাদের খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও চরাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পবা উপজেলার মধ্যচরে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় দু’শ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাঃ সবুর আলী এবং নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আরিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 




















