নাঈমুল ইসলামঃ
গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, দুর্নীতি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নসহ ৮ দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে বিশাল লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এক উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই লংমার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এরপর হাজার হাজার গাড়ি ও নেতাকর্মীদের বহর নিয়ে লংমার্চটি ঢাকার সীমানা ছাড়িয়ে উত্তরবঙ্গের পথে যাত্রা করে।
পথিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় পথসভা:
ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া লংমার্চের গাড়ি বহরটি পথিমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নির্ধারিত পথসভাগুলো সম্পন্ন করে। এর মধ্যে ছিল- গাজীপুরের ভোগড়া; টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ; সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা; বগুড়ার চারমাথা ও
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী।

প্রতিটি পথসভাতেই স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। বর্তমান সরকারের আমলের জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কঠোর সমালোচনা করেন জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা।
রংপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সমাপনী জনসভা:
দিনব্যাপী এই লংমার্চের সমাপনীকে কেন্দ্র করে রংপুরজুড়ে ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। রংপুর মহানগরীর জিলা স্কুল মাঠে মূল সমাপনী জনসভার আয়োজন করা হয়। এই জনসভায় ৫ লাখ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করেছিল আয়োজকরা। জনসভাকে ঘিরে রংপুর শহরজুড়ে প্রায় ৩০০টি মাইক, ৩৫টি স্থানে বড় এলইডি স্ক্রিন এবং আগত গাড়িগুলোর জন্য ৩০টি আলাদা পার্কিং পয়েন্ট প্রস্তুত করা হয়েছিল। এছাড়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জোটের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরাও তৎপর ছিলেন।
শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য:
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্বোধনী ও রংপুরের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জাতির প্রয়োজনে এই আট দফা দাবি এক দফায়ও রূপ নিতে পারে।” তিনি উত্তরাঞ্চলের মানুষের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এই অঞ্চলের মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন, তাই এর কোনো বিকল্প নেই।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ ১১-দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। নেতারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের নায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজপথের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। 
নাঈমুল ইসলাম, রংপুর সদর উপজেলা প্রতিনিধি 




















