ঢাকা , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি Logo নগরকান্দায় ৯৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক ১
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

পদ্মায় স্পিডবোটে ডাকাতি, যাত্রীকে কুপিয়ে ইঞ্জিন লুট

আসলাম বেপারীঃ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী স্পিডবোটে হামলা চালিয়ে এক যাত্রীকে আহত করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্পিডবোটের ইঞ্জিন লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের পদ্মা নদীর জলসীমার বালুর টেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

ডাকাতের হামলায় আহত হন সদর ইউনিয়নের নছরউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী গ্রামের কামরুল হাসানের ছেলে মো. লিটন (৩৫)। এ ঘটনায় স্পিডবোটচালক সঞ্জিব (২২) প্রাণে বাঁচতে চরে আশ্রয় নেন। তিনি সদর ইউনিয়নের খালাশিডাঙ্গী গ্রামের অভিমান্যুর ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে গোপালপুর ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে মৈনট ঘাটে যান স্পিডবোটচালক সঞ্জিব। সেখানে একজন যাত্রী নিয়ে ফের গোপালপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে পদ্মা নদীর বালুর টেক এলাকায় পৌঁছালে মাওয়ার দিক থেকে আসা ১০ থেকে ১৫ জন আরোহী নিয়ে একটি বড় স্পিডবোট তাদের ধাওয়া করে।

 

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সঞ্জিব স্পিডবোটটি কাছের একটি চরে ভিড়িয়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে চরের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সময় একমাত্র যাত্রী লিটন স্পিডবোটে অবস্থান করছিলেন।

 

বুধবার দুপুরে লিটনের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদান শেষে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। গোপালপুর ঘাটে সন্ধ্যার পর পৌঁছালে ফিরতি স্পিডবোটের চালক তার কাছে এক হাজার টাকা ভাড়া দাবি করেন। পরে ৬০০ টাকায় ভাড়া নির্ধারণ করে যাত্রা শুরু হয়।

 

লিটন জানান, কিছু দূর যাওয়ার পর একটি স্পিডবোট তাদের ধাওয়া করলে চালক নেমে যান। এরপর ডাকাতরা তাকে ঘিরে ফেলে। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরে গুরুতর জখম হয়। পরে তার কাছে থাকা ১২ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং প্রায় চার লাখ টাকা মূল্যের স্পিডবোটের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যায় ডাকাতরা।

 

তিনি আরও জানান, ডাকাতদের অনুরোধ করলে তারা তাকে একটি জেলে নৌকায় তুলে মৈনট ঘাটে পাঠিয়ে দেয়। পরে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দোহার নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন।

 

ভুক্তভোগী লিটন বলেন, “আমাদের এই নৌপথে নৌ পুলিশের তৎপরতা খুবই কম। নিয়মিত টহল ও নজরদারি থাকলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না।”

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় মাছ চাষের খাল থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

error: Content is protected !!

পদ্মায় স্পিডবোটে ডাকাতি, যাত্রীকে কুপিয়ে ইঞ্জিন লুট

আপডেট টাইম : ০৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আসলাম বেপারী, স্টাফ রিপোর্টার :

আসলাম বেপারীঃ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী স্পিডবোটে হামলা চালিয়ে এক যাত্রীকে আহত করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্পিডবোটের ইঞ্জিন লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের পদ্মা নদীর জলসীমার বালুর টেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

ডাকাতের হামলায় আহত হন সদর ইউনিয়নের নছরউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী গ্রামের কামরুল হাসানের ছেলে মো. লিটন (৩৫)। এ ঘটনায় স্পিডবোটচালক সঞ্জিব (২২) প্রাণে বাঁচতে চরে আশ্রয় নেন। তিনি সদর ইউনিয়নের খালাশিডাঙ্গী গ্রামের অভিমান্যুর ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে গোপালপুর ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে মৈনট ঘাটে যান স্পিডবোটচালক সঞ্জিব। সেখানে একজন যাত্রী নিয়ে ফের গোপালপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে পদ্মা নদীর বালুর টেক এলাকায় পৌঁছালে মাওয়ার দিক থেকে আসা ১০ থেকে ১৫ জন আরোহী নিয়ে একটি বড় স্পিডবোট তাদের ধাওয়া করে।

 

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সঞ্জিব স্পিডবোটটি কাছের একটি চরে ভিড়িয়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে চরের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সময় একমাত্র যাত্রী লিটন স্পিডবোটে অবস্থান করছিলেন।

 

বুধবার দুপুরে লিটনের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদান শেষে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। গোপালপুর ঘাটে সন্ধ্যার পর পৌঁছালে ফিরতি স্পিডবোটের চালক তার কাছে এক হাজার টাকা ভাড়া দাবি করেন। পরে ৬০০ টাকায় ভাড়া নির্ধারণ করে যাত্রা শুরু হয়।

 

লিটন জানান, কিছু দূর যাওয়ার পর একটি স্পিডবোট তাদের ধাওয়া করলে চালক নেমে যান। এরপর ডাকাতরা তাকে ঘিরে ফেলে। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরে গুরুতর জখম হয়। পরে তার কাছে থাকা ১২ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং প্রায় চার লাখ টাকা মূল্যের স্পিডবোটের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যায় ডাকাতরা।

 

তিনি আরও জানান, ডাকাতদের অনুরোধ করলে তারা তাকে একটি জেলে নৌকায় তুলে মৈনট ঘাটে পাঠিয়ে দেয়। পরে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দোহার নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন।

 

ভুক্তভোগী লিটন বলেন, “আমাদের এই নৌপথে নৌ পুলিশের তৎপরতা খুবই কম। নিয়মিত টহল ও নজরদারি থাকলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না।”