ঢাকা , রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

দিনমজুর থেকে শত কোটি টাকার মালিক যুবলীগ নেতা বেলাল

“আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া” প্রবাদটি গল্পের মতো মনে হলেও, ঠাকুরগাঁওয়ের যুবলীগ নেতা বেলালের জীবন এই কথার এক জলন্ত উদাহরণ। দিনমজুর থেকে তিনি এখন শত কোটি টাকার মালিক। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার যুবলীগ নেতা বেলাল প্রায় ১৬ বছর আগে গঠন করা একটি সমবায় সমিতির সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে এই সম্পদ অর্জন করেছেন।

 

বেলাল ঠাকুরগাঁও উপজেলা যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক এবং ঠাকুরগাঁও গণ উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি। তিনি বিলাসবহুল বাড়ি এবং হেরিয়ারের মতো দামি গাড়িতে চলাফেরা করেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শুরু করেছেন। এই ঘটনার পর বালিয়াডাঙ্গী থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং ঠাকুরগাঁও জেলা সমবায় কার্যালয়ে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

 

নাম গোপন রাখার শর্তে গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতির এক কর্মচারী জানান, বেলাল মিথ্যা মামলা, চেক জালিয়াতি, জমি দখল, এবং সমিতির টাকা দিয়ে সুদের ব্যবসার মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তিনি এসব কর্মকাণ্ডে স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ নেতার সহায়তা পেয়েছেন।

 

বেলালের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধুপুর গ্রামে। এক সময় তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন গণ উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতির সভাপতি পদে তিনি কখনও নিজে, কখনও বাবাকে, আবার কখনও স্ত্রীকে বসিয়ে পরিচালনা করেছেন। নিজের পরিবারের সদস্য এবং পছন্দের লোকদের নিয়ে গঠন করেছেন ব্যবস্থাপনা কমিটি।

 

ভুক্তভোগীরা বলেন, “গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতি থেকে আমরা ঋণ নিই, কিন্তু জামানত হিসেবে ব্যাংক চেক দিতে হয়। ঋণ পরিশোধের পর চেক ফেরত চাইলে তারা বলেন, চেক হারিয়ে গেছে।” এর ফলে অনেককে চেক জালিয়াতির মামলায় হয়রানি করা হয়েছে।

 

ঠাকুরগাঁও জেলা সমবায় কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলার আওতায় ৮৬২টি সমবায় সমিতি রয়েছে, যার মধ্যে গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। সাম্প্রতিক অডিট প্রতিবেদনে সমিতির হিসাবের গড়মিলের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বেলাল উদ্দীন অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক কার্যক্রম চলছে। আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা।”

 

ঠাকুরগাঁও জেলা সমবায় কার্যালয়ের উপ-সহকারী নিবন্ধক এ কে এম জাহাঙ্গীর আলম জানান, “বেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

 

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঠাকুরগাঁও সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক তাহসীন মুনাবীল হক বলেন, “গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতি সম্পর্কে অভিযোগ এসেছে এবং আমরা বেলালের সম্পদের তালিকা নিয়ে কাজ শুরু করেছি।”

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্ত দিয়ে টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন—সরকারকে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

error: Content is protected !!

দিনমজুর থেকে শত কোটি টাকার মালিক যুবলীগ নেতা বেলাল

আপডেট টাইম : ০২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪
মোঃ জসীমউদ্দীন ইতি, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :

“আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া” প্রবাদটি গল্পের মতো মনে হলেও, ঠাকুরগাঁওয়ের যুবলীগ নেতা বেলালের জীবন এই কথার এক জলন্ত উদাহরণ। দিনমজুর থেকে তিনি এখন শত কোটি টাকার মালিক। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার যুবলীগ নেতা বেলাল প্রায় ১৬ বছর আগে গঠন করা একটি সমবায় সমিতির সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে এই সম্পদ অর্জন করেছেন।

 

বেলাল ঠাকুরগাঁও উপজেলা যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক এবং ঠাকুরগাঁও গণ উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি। তিনি বিলাসবহুল বাড়ি এবং হেরিয়ারের মতো দামি গাড়িতে চলাফেরা করেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শুরু করেছেন। এই ঘটনার পর বালিয়াডাঙ্গী থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং ঠাকুরগাঁও জেলা সমবায় কার্যালয়ে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

 

নাম গোপন রাখার শর্তে গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতির এক কর্মচারী জানান, বেলাল মিথ্যা মামলা, চেক জালিয়াতি, জমি দখল, এবং সমিতির টাকা দিয়ে সুদের ব্যবসার মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তিনি এসব কর্মকাণ্ডে স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ নেতার সহায়তা পেয়েছেন।

 

বেলালের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধুপুর গ্রামে। এক সময় তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন গণ উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতির সভাপতি পদে তিনি কখনও নিজে, কখনও বাবাকে, আবার কখনও স্ত্রীকে বসিয়ে পরিচালনা করেছেন। নিজের পরিবারের সদস্য এবং পছন্দের লোকদের নিয়ে গঠন করেছেন ব্যবস্থাপনা কমিটি।

 

ভুক্তভোগীরা বলেন, “গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতি থেকে আমরা ঋণ নিই, কিন্তু জামানত হিসেবে ব্যাংক চেক দিতে হয়। ঋণ পরিশোধের পর চেক ফেরত চাইলে তারা বলেন, চেক হারিয়ে গেছে।” এর ফলে অনেককে চেক জালিয়াতির মামলায় হয়রানি করা হয়েছে।

 

ঠাকুরগাঁও জেলা সমবায় কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলার আওতায় ৮৬২টি সমবায় সমিতি রয়েছে, যার মধ্যে গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। সাম্প্রতিক অডিট প্রতিবেদনে সমিতির হিসাবের গড়মিলের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বেলাল উদ্দীন অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক কার্যক্রম চলছে। আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা।”

 

ঠাকুরগাঁও জেলা সমবায় কার্যালয়ের উপ-সহকারী নিবন্ধক এ কে এম জাহাঙ্গীর আলম জানান, “বেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

 

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঠাকুরগাঁও সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক তাহসীন মুনাবীল হক বলেন, “গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতি সম্পর্কে অভিযোগ এসেছে এবং আমরা বেলালের সম্পদের তালিকা নিয়ে কাজ শুরু করেছি।”