ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি Logo নগরকান্দায় ৯৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক ১
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

দাঁড়াশ সাপ ভেবে কালাচ সাপ ধরতে গিয়ে সাপের দংশনে প্রাণ গেল ওঝার

নুরুল ইসলামঃ

 

ফরিদপুরের সদরপুরে সাপ ধরতে গিয়ে বিষধর কালাচের দংশনে আলমগীর ওঝা (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের সলেনামা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির আশপাশে একটি সাপ দেখতে পেয়ে আলমগীর সেটিকে দাঁড়াশ সাপ বলে মনে করেন। সাপটি ধরার চেষ্টা করলে হঠাৎ তাকে দংশন করে। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি হাসপাতালে যাওয়ার পরিবর্তে বাড়িতে তার বাবা সত্তার ওঝার কাছে যান।

 

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রথমে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিষ নামানোর চেষ্টা করা হয়। কিছু সময় পর আলমগীরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

 

সেখানে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

স্থানীয়রা জানান, আলমগীর নিজেও এলাকায় ওঝা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বাবা সত্তার ওঝাও দীর্ঘদিন ধরে এ পরিচয়ে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

 

সাপ চিনতে ভুল, হারাতে হলো প্রাণ

স্থানীয়দের মতে, যে সাপটিকে আলমগীর দাঁড়াশ ভেবেছিলেন, সেটি ছিল বিষধর কালাচ। সাপের প্রজাতি সম্পর্কে ভুল ধারণা এবং দংশনের পর হাসপাতালে যেতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে বলে তারা জানান।

 

সচেতন মহল বলছে, সাপের দংশনের পর সাপটি বিষধর কি না তা অনুমান করে বসে থাকা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। দংশনের পর আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

 

এ ঘটনায় এলাকায় সাপ দেখলে তা ধরার চেষ্টা না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং সাপে দংশনের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের এমপির ছেলে, ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

error: Content is protected !!

দাঁড়াশ সাপ ভেবে কালাচ সাপ ধরতে গিয়ে সাপের দংশনে প্রাণ গেল ওঝার

আপডেট টাইম : ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নুরুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি :

নুরুল ইসলামঃ

 

ফরিদপুরের সদরপুরে সাপ ধরতে গিয়ে বিষধর কালাচের দংশনে আলমগীর ওঝা (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের সলেনামা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির আশপাশে একটি সাপ দেখতে পেয়ে আলমগীর সেটিকে দাঁড়াশ সাপ বলে মনে করেন। সাপটি ধরার চেষ্টা করলে হঠাৎ তাকে দংশন করে। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি হাসপাতালে যাওয়ার পরিবর্তে বাড়িতে তার বাবা সত্তার ওঝার কাছে যান।

 

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রথমে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিষ নামানোর চেষ্টা করা হয়। কিছু সময় পর আলমগীরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

 

সেখানে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

স্থানীয়রা জানান, আলমগীর নিজেও এলাকায় ওঝা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বাবা সত্তার ওঝাও দীর্ঘদিন ধরে এ পরিচয়ে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

 

সাপ চিনতে ভুল, হারাতে হলো প্রাণ

স্থানীয়দের মতে, যে সাপটিকে আলমগীর দাঁড়াশ ভেবেছিলেন, সেটি ছিল বিষধর কালাচ। সাপের প্রজাতি সম্পর্কে ভুল ধারণা এবং দংশনের পর হাসপাতালে যেতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে বলে তারা জানান।

 

সচেতন মহল বলছে, সাপের দংশনের পর সাপটি বিষধর কি না তা অনুমান করে বসে থাকা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। দংশনের পর আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

 

এ ঘটনায় এলাকায় সাপ দেখলে তা ধরার চেষ্টা না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং সাপে দংশনের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।