ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

তানোরে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে আমণখেতে ব্যাপক ক্ষতি

আলিফ হোসেনঃ

বৈরী আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে রাজশাহীর তানোরে আমনের পাকা ধানগাছ নুয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়েছে শীতকালীন আগাম শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের রবিশস্য। ঘরে তোলার সময় ধানগাছ নুয়ে পড়ায় কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে,গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে হঠাৎ করেই ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে অনেক আমণখেতের পাকা ও আধা পাকা ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এছাড়াও শীতকালীন আগাম শাক-সবজির খেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

এদিকে ঝড়ো-বৃষ্টির পর অনেক এলাকায় আমণখেতে পচন ও পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টি-ঝড়ো হাওয়ায় কি পরিমাণ আমণখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই তথ্য কৃষি বিভাগ দিতে পারেনি।উপজেলার কামারগাঁ ইউপির কৃষক সুমন আলী বলেন গত দুই দিন ঝড় হাওয়া ও বৃষ্টি হওয়ায় ধানগাছ মাটিতে শুইয়ে পড়েছে ফলন নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছি। অন্যদিকে কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, “গত বছর ধানের ভালো দাম পাননি। এ নিয়ে হতাশায় ছিলেন। আগামি সপ্তাহ থেকে তার ১০ বিঘা জমির ধান কাটা শুরু হবে। কিন্তু হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে বেশিরভাগ ধান গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে।

 

এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’।” কৃষক আয়ুব আলী ও আব্দুল আলী বলেন, “বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে ইতিমধ্যে চরম ক্ষতি হয়ে গেছে। এক একর জমিতে আগে প্রায় ৫০ মণ ধান পাওয়া যেত, এখন সেখানে ৩০ মণ আসতে পারে। এছাড়াও শিব নদীর পাড় ও নিচু এলাকায় আমণখেতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর। এর মধ্য হাইব্রিড ২৮ হেক্টর, উফশী জাত ২২ হাজার ১১৭ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের চাষ হয়েছে ৫৫০ হেক্টর। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ২৯৮ মেট্রিক টন।

 

উপজেলার স্বর্ণপদক প্রাপ্ত স্বশিক্ষিত কৃষি বিজ্ঞানী নুর মোহাম্মাদ জানান, রোপা-আমণ রোপণের শুরুর দিকে কৃষকদের প্রচুর বেগ পেতে হয়েছে। অতি বৃষ্টি ও সার নিয়ে ছিল অসহীয় সিন্ডিকেট। আর শেষ মুহুর্তে বৃষ্টি-ঝড়ো হাওয়ায় নুয়ে পড়া আমণের উৎপাদন কিছু হ্রাস পাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি কল গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে প্রধানমন্ত্রীঃ -এম.পি বাবুল

error: Content is protected !!

তানোরে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে আমণখেতে ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট টাইম : ০১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেনঃ

বৈরী আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে রাজশাহীর তানোরে আমনের পাকা ধানগাছ নুয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়েছে শীতকালীন আগাম শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের রবিশস্য। ঘরে তোলার সময় ধানগাছ নুয়ে পড়ায় কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে,গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে হঠাৎ করেই ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে অনেক আমণখেতের পাকা ও আধা পাকা ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এছাড়াও শীতকালীন আগাম শাক-সবজির খেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

এদিকে ঝড়ো-বৃষ্টির পর অনেক এলাকায় আমণখেতে পচন ও পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টি-ঝড়ো হাওয়ায় কি পরিমাণ আমণখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই তথ্য কৃষি বিভাগ দিতে পারেনি।উপজেলার কামারগাঁ ইউপির কৃষক সুমন আলী বলেন গত দুই দিন ঝড় হাওয়া ও বৃষ্টি হওয়ায় ধানগাছ মাটিতে শুইয়ে পড়েছে ফলন নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছি। অন্যদিকে কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, “গত বছর ধানের ভালো দাম পাননি। এ নিয়ে হতাশায় ছিলেন। আগামি সপ্তাহ থেকে তার ১০ বিঘা জমির ধান কাটা শুরু হবে। কিন্তু হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে বেশিরভাগ ধান গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে।

 

এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’।” কৃষক আয়ুব আলী ও আব্দুল আলী বলেন, “বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে ইতিমধ্যে চরম ক্ষতি হয়ে গেছে। এক একর জমিতে আগে প্রায় ৫০ মণ ধান পাওয়া যেত, এখন সেখানে ৩০ মণ আসতে পারে। এছাড়াও শিব নদীর পাড় ও নিচু এলাকায় আমণখেতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর। এর মধ্য হাইব্রিড ২৮ হেক্টর, উফশী জাত ২২ হাজার ১১৭ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের চাষ হয়েছে ৫৫০ হেক্টর। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ২৯৮ মেট্রিক টন।

 

উপজেলার স্বর্ণপদক প্রাপ্ত স্বশিক্ষিত কৃষি বিজ্ঞানী নুর মোহাম্মাদ জানান, রোপা-আমণ রোপণের শুরুর দিকে কৃষকদের প্রচুর বেগ পেতে হয়েছে। অতি বৃষ্টি ও সার নিয়ে ছিল অসহীয় সিন্ডিকেট। আর শেষ মুহুর্তে বৃষ্টি-ঝড়ো হাওয়ায় নুয়ে পড়া আমণের উৎপাদন কিছু হ্রাস পাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি কল গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।