আলিফ হোসেনঃ
রাজশাহীর তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নে (ইউপি) দুঃস্থ মাতা (ভিডাব্লিউভি) প্রকল্পের আওতায় খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহকৃত চালের বস্তায় দেড় থেকে তিন কেজি করে চাল কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।এদিকে চাল কম দেয়ার কারণ জানতে চেয়ে প্রতিবাদ করায় কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান সুফি কামাল মিন্টুকে গুদাম চত্ত্বরে আটকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসিএলএসডি) আতিকুর রহমান। গত ২৯ অক্টোবর বুধবার কামারগাঁ সরকারি খাদ্য গুদাম চত্ত্বরে এই ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে এঘটনায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে, গুদাম কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন,গুদাম থেকে চাল বুঝে নিয়ে যাবার পর চালের ওজন কমের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।কিন্ত্ত ইউপি চেয়ারম্যান গুদামে এসে চাল কমের অভিযোগ করে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।এসময় স্থানীয় মশু নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে চেয়ারম্যানের বাকবিতন্ডা হয়েছে।তিনি বলেন,চাল যদি কম থাকে সেটা গুদাম চত্ত্বরেই বলতে হবে, তাছাড়া তার বিরুদ্ধে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিরুদ্ধে নালিশ করতে পারেন,কিন্ত্ত তা না করে সংরক্ষিত এলাকায় তার এমন আচরণ সত্যিই খুব দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। এবং তাকে ৬ বস্তা চালও দিতে হয়েছে।
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান সুফি কামাল মিন্টু বলেন, প্রতিবার চাল কম দেয়া হয় সেই চাল তাকে নিজের টাকায় কিনে দিতে হয়। তিনি বলেন, এবারো চাল কম হওয়ায়।তিনি গুদামে গিয়ে তাকে অনুরোধ করেন পরিষদে গিয়ে চাল ওজন করে পুরুন করে দিতে।কিন্ত্ত তিনি পরিষদে না গিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,বুধবার সকালে চাল কম দেয়া নিয়ে,কামারগাঁ খাদ্য গুদামে ইউপি চেয়ারম্যান ও গুদাম কর্মকর্তার মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে, গুদাম কর্মকর্তা গুদামের মুল ফটকে তালা দিয়ে গুদাম চত্ত্বরে ইউপি চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করেন। এসময় মশিউর রহমান ইউপি চেয়ারম্যানকে জুতাপেটা করে। সে কামারগাঁ গ্রামের সিরাজ শেখের পুত্র।অন্যদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা খাদ্য গুদামের মুল গেটের সামনে অবস্থান নেয়। সংবাদ পেয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
এবিষয়ে কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান সুফি কামাল মিন্টু জানান, বুধবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদের ৯ ওয়ার্ডের দু:স্থ মাতা (ভিডাব্লিউভি) প্রকল্পের আওতায় ৪৫৪ জনকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। এজন্য সকাল নয় টার দিকে ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম রাজাসহ কয়েকজন মেম্বার ও দফাদারেরা কামারগাঁ খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে পরিষদে নিয়ে আসে। সেখানে বস্তা ওজন করে ৫০ কেজির বিপরীতে শতাধিক বস্তায় ৩-৪ কেজি করে চাল কম পাওয়া যায়। পরিষদ থেকে খাদ্য গুদামে গিয়ে ওসিএলএসডির কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া মাত্রই সে বলে আওয়ামী লীগ নেতা, আপনার কোন কথা চলবে না।
এসময় তার সঙ্গে থাকা মশিউর পায়ের স্যান্ডেল খুলে পিটানো শুরু করে মুল গেটে তালা মেরে আমাকে আটকে রাখে। আমি সাথে সাথে মোবাইলে বিষয়টি ইউএনও স্যারকে অবহিত করি। কিছুক্ষণের মধ্যেই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (টিসিএফ) কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে আমাকে মুক্ত করে পরিষদে নিয়ে আসেন। পরিষদে এসে চালের বস্তা ওজন করে ওজনে কমের সত্যতা পান। পুনরায় খাদ্য গুদাম থেকে ৬ বস্তা চাল জরিমানা দেয়। আপনি এবিষয়ে কোন আইনি পদক্ষেপ নিবেন কি না জানতে চাইলে তিনি জানান আমি ইউএনও স্যারকে বলেছি দেখা যাক স্যার কি করেন।
এবিষয়ে কামারগাঁ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসিএলএসডি আতিকুর রহমান আতিক জানান, খাদ্য গুদাম থেকে চাল বের হয়ে যাওয়ার পর আমার কিছুই করনীয় থাকে না। চেয়ারম্যান আমাকে লাঞ্ছিত করেছে। এ সময় আমাকে উদ্ধার করতে আসে মশিউর। ওই সময় চেয়ারম্যানকে স্যান্ডেল দিয়ে গালে আঘাত করে। আপনার গুদামে মশিউর কেন আর চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করে আটকে রেখেছিলেন কেন জানতে চাইলে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে দায় সারার চেষ্টা করেন তিনি। গুদাম থেকে চাল বের হওয়ার পর করনীয় নাই তাহলে ৬ বস্তা চাল জরিমানা দিলেন কেন প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন স্যার দিতে বলেছে এজন্য দেয়া হয়েছে। খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার এমন কথার প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা তার বদলির জন্য উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কাছে দাবি জানান।
এবিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) শেখ মলিউজ্জামান সজিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যাতে করে খাদ্য গুদামের ভিতরে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















