ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কুষ্টিয়ায় দেড় বছর ধরে অচল ৬৪ সিসি ক্যামেরা, বাড়ছে অপরাধ

ইসমাইল হোসেন বাবু,সিনিয়ার রিপাের্টার :

কুষ্টিয়া শহরের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে বড় ভূমিকা রাখা ৬৪টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা দীর্ঘ দেড় বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ব্যাপক ভাঙচুর ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে এই আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। কোনো কোনো স্পট থেকে ক্যামেরা পুরোপুরি উধাও হয়ে গেছে।

 

ফলে শহরজুড়ে চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবার ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ বাড়ছে তেমনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।

 

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে অপরাধ প্রবণতা কমাতে জেলা পুলিশের বিশেষ উদ্যোগে প্রথম পর্যায়ে শহরের থানার মোড়, মজমপুর গেট, বড়বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সরাসরি তদারকিতে এই নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পর শহরে অপরাধের হার অনেকটাই কমে আসে। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ভাঙচুর- সংযোগ বিচ্ছিন্নের ফলে পুরো ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।

 

শহরের বাসিন্দা ও সচেতন মহলের অভিযোগ, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল না থাকায় অপরাধীরা এখন বেপরোয়া। দিনদুপুরে ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটছে। মাদক কারবারিরাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ক্যামেরার চোখ বন্ধ থাকায় অপরাধ করার পর সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। দ্রুত এসব ক্যামেরা পুনঃস্থাপন করে ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা না হলে, শহরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা আগামীতে আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলেও জানান তারা।

 

কুষ্টিয়া সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য মিজানুর রহমান লাকি বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা শুধু অপরাধীদের মনেই ভীতি তৈরি করে না, বরং কোনো অপরাধ ঘটে গেলে তার সুষ্ঠু তদন্তে এবং অপরাধী শনাক্তকরণে অকাট্য ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ক্যামেরা স্থাপন করা জরুরি।

 

দীর্ঘদিন অচল থাকা এই নজরদারি ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন বা মেরামতের জন্য এখনো কোনো সরকারি তহবিল বা বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে শহরের সার্বিক নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে জেলা পুলিশ বর্তমানে বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে।

 

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন জানান, সরকারিভাবে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া না গেলেও অপরাধের তদন্তে পুলিশ বসে নেই। শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির ব্যক্তিগত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধী শনাক্তের কাজ চালানো হচ্ছে। তবে পুরো শহরের কেন্দ্রীয় নজরদারি ব্যবস্থাটি পুনরায় সচল করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রুইথনপুর বাজারে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ায় দেড় বছর ধরে অচল ৬৪ সিসি ক্যামেরা, বাড়ছে অপরাধ

আপডেট টাইম : ১৪ ঘন্টা আগে
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়ার রিপাের্টার : :

ইসমাইল হোসেন বাবু,সিনিয়ার রিপাের্টার :

কুষ্টিয়া শহরের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে বড় ভূমিকা রাখা ৬৪টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা দীর্ঘ দেড় বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ব্যাপক ভাঙচুর ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে এই আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। কোনো কোনো স্পট থেকে ক্যামেরা পুরোপুরি উধাও হয়ে গেছে।

 

ফলে শহরজুড়ে চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবার ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ বাড়ছে তেমনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।

 

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে অপরাধ প্রবণতা কমাতে জেলা পুলিশের বিশেষ উদ্যোগে প্রথম পর্যায়ে শহরের থানার মোড়, মজমপুর গেট, বড়বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সরাসরি তদারকিতে এই নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পর শহরে অপরাধের হার অনেকটাই কমে আসে। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ভাঙচুর- সংযোগ বিচ্ছিন্নের ফলে পুরো ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।

 

শহরের বাসিন্দা ও সচেতন মহলের অভিযোগ, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল না থাকায় অপরাধীরা এখন বেপরোয়া। দিনদুপুরে ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটছে। মাদক কারবারিরাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ক্যামেরার চোখ বন্ধ থাকায় অপরাধ করার পর সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। দ্রুত এসব ক্যামেরা পুনঃস্থাপন করে ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা না হলে, শহরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা আগামীতে আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলেও জানান তারা।

 

কুষ্টিয়া সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য মিজানুর রহমান লাকি বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা শুধু অপরাধীদের মনেই ভীতি তৈরি করে না, বরং কোনো অপরাধ ঘটে গেলে তার সুষ্ঠু তদন্তে এবং অপরাধী শনাক্তকরণে অকাট্য ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ক্যামেরা স্থাপন করা জরুরি।

 

দীর্ঘদিন অচল থাকা এই নজরদারি ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন বা মেরামতের জন্য এখনো কোনো সরকারি তহবিল বা বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে শহরের সার্বিক নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে জেলা পুলিশ বর্তমানে বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে।

 

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন জানান, সরকারিভাবে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া না গেলেও অপরাধের তদন্তে পুলিশ বসে নেই। শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির ব্যক্তিগত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধী শনাক্তের কাজ চালানো হচ্ছে। তবে পুরো শহরের কেন্দ্রীয় নজরদারি ব্যবস্থাটি পুনরায় সচল করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।