ইসমাইল হোসেন বাবু:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সকলের সহযোগিতায় আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, যাতে আপনারা গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন—আমি বাংলাদেশি। আমরা দেশে বেকারত্ব রাখতে চাই না। প্রত্যেকের কর্মের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করতে চাই। শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমে মেধাসম্পন্ন জাতি গড়তে চাই। আমাদের শিক্ষা হবে কর্মমুখী ও মানবিক।
তিনি বলেন, আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি দেশসেবার সুযোগ পায়, সরকার গঠনের সুযোগ পায়, তাহলে আমরা অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে আশ্বস্ত করছি—সব ধরনের দুর্নীতি বন্ধ হবে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে বিচার অর্থের বিনিময়ে কেনা যায় না। যেখানে বিচার গরিব-ধনী, শিক্ষিত-স্বল্পশিক্ষিত কিংবা শিক্ষার আলোবঞ্চিত সবার জন্য সমান হবে। ওই বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মে ধর্মে আর কোনো সংঘাত হবে না।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ১১ দলের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “মায়েরা আমাদের সম্মানের জাতি। আমাদের জীবনের চেয়ে আমাদের মায়েদের সম্মানের মূল্য আমাদের কাছে অনেক বেশি। তাই আমরা কথা দিচ্ছি—হে বাংলাদেশ, আমরা তোমাদের এমন একটি মায়ের জাতি উপহার দেব ইনশা আল্লাহ, যাঁরা ঘরে, যাতায়াতে এবং কর্মস্থলে পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশ গড়ার কাজে অবদান রাখবেন। সেখানে তাঁরা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।”
জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলার ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল গফুরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন, গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের প্রার্থী মুফতি আমীর হামজা, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার, জামায়াতের কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলাল হোসাইন, কুষ্টিয়া-৪ খোকসা-কুমারখালী আসনের প্রার্থী আফজাল হুসাইন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক সিরাজুল হক, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুল ইসলাম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হুসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতিফ খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির ইমাম নোমানী রাজু, এবি পার্টির কুষ্টিয়া জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল মাহমুদ, শিবিরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ইউসুফ আলী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক কুষ্টিয়া সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান, শিবিরের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও শিবিরের কুষ্টিয়া শহর সভাপতি আবু ইউসুফ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জামায়াতের কুষ্টিয়া শহর আমির এনামুল হক।
সকাল ৮টায় সরেজমিনে দেখা যায়, জনসভাস্থলে প্রবেশে কুষ্টিয়া জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর স্বেচ্ছাসেবকরা নিয়মিত তদারকি করছেন। কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা বাস, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে সমাবেশস্থলে আসেন। অনেক নেতাকর্মী দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লাসহ দলীয় মনোগ্রাম সংবলিত ব্যাজ, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি ও মাফলার পরিধান করে অংশ নেন।
জনসভাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল। মঞ্চসহ পুরো এলাকাজুড়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি জামায়াতের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের আগমন উপলক্ষে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ভবনগুলোতে দলের প্রধানের ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়।
সকাল ১০টায় ডা. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারযোগে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে অবতরণ করেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জনসভায় উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে তিনি পুনরায় হেলিকপ্টারযোগে মেহেরপুরের নির্বাচনী জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 





















