হুমায়ন আহমেদ:
কালের আবর্তনে প্রায় বিলুপ্তির পথে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঝাপান বা সাপ খেলা। তবে এই প্রাচীন লোকসংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বড় গাংনী ক্লাব মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ঝাপান সাপ খেলা। এ আয়োজনে শত শত উৎসুক দর্শকের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে অংশ নেয় চারটি সাপুড়ে দল। স্থানীয় কয়েকজন সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তি গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা এই লোকজ বিনোদনকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে আয়োজনটি করেন।
খেলায় বিষধরসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ নিয়ে মাঠে নামেন সাপুড়েরা। বাদ্যের তালে তালে গান, নৃত্য ও সাপ প্রদর্শনের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তারা। সাপুড়ের ইশারায় ফণা তোলা সাপের দৃশ্য উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
একজন সাপুড়ের পরিবেশনা শেষ হলে আরেকজন সাপুড়ে মঞ্চে এসে খেলা প্রদর্শন করেন। এভাবে পালাক্রমে দিনব্যাপী চলে ঝাপান খেলা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এদিন অন্তত ৩০টি বিভিন্ন প্রজাতির সাপ দিয়ে খেলা প্রদর্শন করা হয়। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ ভিড় করে উপভোগ করেন গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই অনন্য আয়োজন।
সাপুড়েদের একজন শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিভিন্ন এলাকায় সাপ খেলা দেখিয়ে আমরা যেমন আনন্দ পাই, তেমনি দর্শকদেরও আনন্দ দিয়ে থাকি। এটি আমাদের পেশা ও ঐতিহ্যের অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “সাপে কামড়ালে কোনো ধরনের কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।”
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের আয়োজন গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে বিলুপ্তপ্রায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পরিচিত করারও একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
হুমায়ন আহমেদ, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি 





















