ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

জেলা-উপজেলায় প্রথম হয়ে এবার জাতীয় মঞ্চে লড়বে ২৮ জুন

বাঘার শাহদৌলা সরকারি কলেজের তিন শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনে চমক

আব্দুল হামিদ মিঞা:

 

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এনামুল হক, আকাশ আহমেদ ও ইয়াসির ইকবাল মাহি তাদের উদ্ভাবিত ‘স্মার্ট প্রিন্টিং ভেন্ডিং মেশিন এবং ডিজিটাল এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ প্রজেক্ট নিয়ে আগামী ২৮ জুন ২০২৬ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে।

 

মাঠের কাদা মাখা বাবার ঘাম ঝরানো টাকায় কেনা খাতা-কলম দিয়েই স্বপ্ন বুনেছে দুই কৃষকের ছেলে ও এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সন্তান। তিনজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে এমন এক উদ্ভাবন, যা উপজেলা ও জেলা পর্যায় পেরিয়ে এখন জাতীয় মঞ্চে প্রতিযোগিতার অপেক্ষায়।

 

‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এ তারা বাঘা উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে। পরে গত রোববার (১৪ জুন) রাজশাহী জেলা পর্যায়ে জেলার ৯টি উপজেলার প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অধিকার করে।

 

জেলা পর্যায়ের বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা পর্যায়ের বাছাই ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব জায়েদুর রহমান। এর আগে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

 

এই তিন উদ্ভাবক হলেন— দুই প্রান্তিক কৃষকের ছেলে এনামুল হক ও আকাশ আহমেদ এবং একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ছেলে ইয়াসির ইকবাল মাহি। তারা সবাই শাহদৌলা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন কলেজের শিক্ষক মতিউর রহমান ও আব্দুল হানিফ মিয়া।

 

তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প

১. স্মার্ট প্রিন্টিং ভেন্ডিং মেশিন :
বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে পেমেন্ট করে শিক্ষার্থীরা মাত্র ১০ সেকেন্ডে অ্যাসাইনমেন্ট, ফরম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রিন্ট করতে পারবে। ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের প্রিন্টিং-সংক্রান্ত ভোগান্তি কমবে।

 

২. ডিজিটাল এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম :
শিক্ষার্থীর হাজিরা, ফলাফল, বেতন পরিশোধ এবং অভিভাবকদের এসএমএস নোটিফিকেশন—সবকিছু একটি অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালনা করা যাবে। এতে শিক্ষকদের কাগজভিত্তিক কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ কমে আসবে।

 

শিক্ষার্থীরা বলেন, “২৮ জুন আমাদের স্বপ্নপূরণের দিন। আমরা বাঘার সন্তান। ঢাকায় গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাবা-মা, শিক্ষক ও বাঘাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।”

 

তাদের অভিভাবকরা বলেন, “২৮ তারিখের জন্য দিন গুনছি। ছেলেদের পড়াশোনা করাতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে জয়ী হলে সব কষ্ট সার্থক হবে।”

 

শিক্ষক মতিউর রহমান ও আব্দুল হানিফ বলেন, “জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য এখন রাত-দিন প্রস্তুতি চলছে। ২৮ জুন ঢাকায় ওদের আত্মবিশ্বাসই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি।”

 

রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা পর্যায়ের বাছাই ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব জায়েদুর রহমান বলেন, “দুই কৃষকের ছেলে ও এক ব্যবসায়ীর ছেলে মিলে যে উদ্ভাবন দেখিয়েছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। ২৮ জুন তারা জাতীয় পর্যায়ে রাজশাহীর প্রতিনিধিত্ব করবে। আমার বিশ্বাস, তারা সফল হয়েই ফিরবে।”

 

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “২৮ জুন ঢাকার মঞ্চে বাঘার মাটির গন্ধ নিয়ে দাঁড়াবে আমাদের কলেজের তিন শিক্ষার্থী। বাঘাবাসীর দোয়া তাদের সঙ্গে আছে।”

 

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী এই শিক্ষার্থীদের জন্য উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

 

এছাড়া রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

 

উল্লেখ্য, গত রোববার রাজশাহীর রিভার ভিউ কালেক্টরেট স্কুলে জেলা শিক্ষা অফিস, রাজশাহীর সহযোগিতায় এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (এসইডিপি) প্রকল্পের উদ্যোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সবার আগে দেশ নয়, এখন সবার আগে বিএনপি’: আব্দুস সাত্তার এমপি

error: Content is protected !!

জেলা-উপজেলায় প্রথম হয়ে এবার জাতীয় মঞ্চে লড়বে ২৮ জুন

বাঘার শাহদৌলা সরকারি কলেজের তিন শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনে চমক

আপডেট টাইম : ০৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আব্দুল হামিদ মিঞা:

 

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এনামুল হক, আকাশ আহমেদ ও ইয়াসির ইকবাল মাহি তাদের উদ্ভাবিত ‘স্মার্ট প্রিন্টিং ভেন্ডিং মেশিন এবং ডিজিটাল এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ প্রজেক্ট নিয়ে আগামী ২৮ জুন ২০২৬ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে।

 

মাঠের কাদা মাখা বাবার ঘাম ঝরানো টাকায় কেনা খাতা-কলম দিয়েই স্বপ্ন বুনেছে দুই কৃষকের ছেলে ও এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সন্তান। তিনজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে এমন এক উদ্ভাবন, যা উপজেলা ও জেলা পর্যায় পেরিয়ে এখন জাতীয় মঞ্চে প্রতিযোগিতার অপেক্ষায়।

 

‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এ তারা বাঘা উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে। পরে গত রোববার (১৪ জুন) রাজশাহী জেলা পর্যায়ে জেলার ৯টি উপজেলার প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অধিকার করে।

 

জেলা পর্যায়ের বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা পর্যায়ের বাছাই ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব জায়েদুর রহমান। এর আগে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

 

এই তিন উদ্ভাবক হলেন— দুই প্রান্তিক কৃষকের ছেলে এনামুল হক ও আকাশ আহমেদ এবং একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ছেলে ইয়াসির ইকবাল মাহি। তারা সবাই শাহদৌলা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন কলেজের শিক্ষক মতিউর রহমান ও আব্দুল হানিফ মিয়া।

 

তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প

১. স্মার্ট প্রিন্টিং ভেন্ডিং মেশিন :
বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে পেমেন্ট করে শিক্ষার্থীরা মাত্র ১০ সেকেন্ডে অ্যাসাইনমেন্ট, ফরম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রিন্ট করতে পারবে। ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের প্রিন্টিং-সংক্রান্ত ভোগান্তি কমবে।

 

২. ডিজিটাল এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম :
শিক্ষার্থীর হাজিরা, ফলাফল, বেতন পরিশোধ এবং অভিভাবকদের এসএমএস নোটিফিকেশন—সবকিছু একটি অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালনা করা যাবে। এতে শিক্ষকদের কাগজভিত্তিক কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ কমে আসবে।

 

শিক্ষার্থীরা বলেন, “২৮ জুন আমাদের স্বপ্নপূরণের দিন। আমরা বাঘার সন্তান। ঢাকায় গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাবা-মা, শিক্ষক ও বাঘাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।”

 

তাদের অভিভাবকরা বলেন, “২৮ তারিখের জন্য দিন গুনছি। ছেলেদের পড়াশোনা করাতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে জয়ী হলে সব কষ্ট সার্থক হবে।”

 

শিক্ষক মতিউর রহমান ও আব্দুল হানিফ বলেন, “জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য এখন রাত-দিন প্রস্তুতি চলছে। ২৮ জুন ঢাকায় ওদের আত্মবিশ্বাসই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি।”

 

রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা পর্যায়ের বাছাই ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব জায়েদুর রহমান বলেন, “দুই কৃষকের ছেলে ও এক ব্যবসায়ীর ছেলে মিলে যে উদ্ভাবন দেখিয়েছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। ২৮ জুন তারা জাতীয় পর্যায়ে রাজশাহীর প্রতিনিধিত্ব করবে। আমার বিশ্বাস, তারা সফল হয়েই ফিরবে।”

 

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “২৮ জুন ঢাকার মঞ্চে বাঘার মাটির গন্ধ নিয়ে দাঁড়াবে আমাদের কলেজের তিন শিক্ষার্থী। বাঘাবাসীর দোয়া তাদের সঙ্গে আছে।”

 

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী এই শিক্ষার্থীদের জন্য উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

 

এছাড়া রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

 

উল্লেখ্য, গত রোববার রাজশাহীর রিভার ভিউ কালেক্টরেট স্কুলে জেলা শিক্ষা অফিস, রাজশাহীর সহযোগিতায় এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (এসইডিপি) প্রকল্পের উদ্যোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।