হুমায়ন আহমেদঃ
চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার কানাইনগর-শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অনেক আগেই জাতীয়করণ হলেও জরাজির্ন টিন ও চাটাই দিয়ে ঘেরা টিনসেডে চলে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম। তারই মধ্যে একটি সাইনবোর্ডে লেখা কানাইনগর শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত-১৯৯০।
সম্প্রতি বিদ্যালয়টিতে গিয়ে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষকদের বসার ছোট্ট একটি আধাপাকা ঘর থাকলেও ছাত্রছাত্রীদের বসার ক্লাসরুমটি উপরে টিন আর জরাজির্ন টিন ও চাটাই দিয়ে ঘেরা একটি ঘরে ৩ টি ক্লাসরুম। পুরো ঘরজুড়ে জির্নতার ছাপ। এর মধ্য দুটি রুমে একপাশে একটি চেয়ার ও ছোট একটি টেবিল পেতে বাকি জায়গায় ৭ থেকে ৮ টি বেঞ্চ রাখা শিক্ষার্থীদের জন্য। আর একটি রুমে মাদুর পেতে সেখানেই চলছে পাঠদান।
এছাড়াও ১৯৯০ সালে স্থাপিত পর অনেক আগেই জাতীয়করণ হলেও বিদ্যালয়টিতে নেয়কোন ভবন, চেয়ার, টেবিল বা স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা।
–
শিবপুর গ্রামের ইসরাইল হোসেন, ইকতিয়া হোসেন, ইয়াকুব আলী, বিপুল হোসেন বলেন এ বিদ্যালয়ে আমাদের দুই গ্রামের নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা পড়ে। শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ে তেমন কোনো খেলার মাঠ নেই। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। বর্ষাকালে স্কুলের মেঝে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। এমনকি নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও শৌচাগারও (টয়লেট) স্বাস্থ্য সম্মত নয়। কয়েক বছর আগে শিক্ষকেরা নিজস্ব উদ্যোগ ও এলাকাবাসীর সহায়তায় একটি টিউবয়েল ও শৌচাগার নির্মাণ করেন। এছাড়াও বর্ষাকালে স্কুল বাউন্ডারি সহ স্কুলে আসার রাস্তাটি কাদা-জলে একাকার হয়ে চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করে। এই দুর্ভোগের কারণে বর্ষাকালে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসতে চাইনা।
–
বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১২০ জন। শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন। সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে ৪ জন শিক্ষক উপস্থিত হলেও সব ক্লাস মিলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল ২০ থেকে ২৫ জন। যা দিয়েই চলছিল পাঠদান। দুপুরের সিপ্টে আবারো ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিতি হবেন বলে শিক্ষকরা জানান। দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পক্ষ থেকে এতো ছাত্রছাত্রী অনু-উপস্থিতির কারন জানতে চাইলে শিক্ষকগন বলেন বর্ষাকাল আসলেই কাদা-জলে এই সড়কের যে কি অবস্থা হয়। দুই গ্রামের কমলমতি শিশুরা রাস্তার এতো কাদা পানি পার হয়ে স্কুলে আসতে চাইনা যার কারনে স্কুলে উপস্থিত হার বর্ষার সময় খুবই কোম হয়। লেখাপড়াতেই পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
–
কানাইনগর শিবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর ও সহকারী শিক্ষক ইউনুস আলী বলেন, আলমডাঙ্গা উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত আমাদের বিদ্যালয়টি এবং আমাদের বিদ্যালয়ের আসা-যাওয়া রাস্তাটি। আমরা শুনেছি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে অনেক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান; বিভিন্ন দাঁতা সংস্থার সহায়তায় স্বাস্থ্য সম্মত শৌচাগারও (টয়লেট) ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থার সুযোগ সৃষ্টি করেন। আমরা দাবি জানাবো সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে তিনারা আমাদের অবহেলিত স্কুলটির দিকে যেন সু-নজর দেন। তিনারা আরো বলেন শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ভবনের আবেদন করা হয়েছে। ভবনটি নির্মান হলে অনেকাংশে সমস্যা কমবে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
হুমায়ন আহমেদ, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি 





















