ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

আনন্দ-উচ্ছ্বাসে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

মনোয়ার হোসেন:

 

শীতের স্নিগ্ধ সকালে কুয়াশার চাদর ভেদ করে ছুটে চলা—গন্তব্য উত্তরের পুণ্যভূমি বগুড়া। উদ্দেশ্য ছিল পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা কিছুক্ষণ স্থগিত রেখে সহকর্মী ও পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানো।

 

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বগুড়ার ‘মম ইন’ পার্কে অনুষ্ঠিত হলো রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের বার্ষিক পারিবারিক মিলনমেলা-২০২৬।

 

দিনভর নানা আয়োজন, হাসি-ঠাট্টা আর বনভোজনের আমেজে মুখরিত ছিল পার্ক প্রাঙ্গণ। ১০২ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এই ক্লাবটি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আয়োজন করে তাদের ঐক্য ও পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখার লক্ষ্যে। প্রেসক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আনন্দে অংশগ্রহণ করেন।

 

সকাল থেকেই শুরু হয় উৎসবের আমেজ। পার্কের মনোরম পরিবেশে শিশুদের জন্য ছিল বিভিন্ন রাইডে চড়ার সুযোগ, আর বড়রা মেতে উঠেন আড্ডা ও স্মৃতিচারণে।

 

দুপুরের খাবারের পর বিকেলে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। সারাক্ষণ খবরের পেছনে ছুটতে গিয়ে পরিবারকে সময় দেওয়া কঠিন হয়। এ ধরনের আয়োজন সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক হৃদ্যতা বাড়াতে এবং ক্লান্তি দূর করতে একটি টনিক হিসেবে কাজ করে।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক কাজী শাহেদ, যিনি বলেন,
“রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের কর্মপদ্ধতি ও সদস্যদের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এই ক্লাবের প্রতিটি সদস্য একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, যা অন্য অনেক সংগঠনের জন্য অনুকরণীয়। তাদের পারিবারিক আবহ সত্যিই বিরল এবং প্রশংসার দাবি রাখে।”

 

প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম জানান, এ ধরনের আয়োজন কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি সহকর্মীদের মধ্যে পেশাগত দূরত্ব বা বিদ্বেষ দূর করে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে। এক ঐক্যবদ্ধ প্রেসক্লাবই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ সদস্য ও তাদের পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্তের সঙ্গে শেষ হয় আনন্দযাত্রা। ফেরার পথে সবার চোখে-মুখে ছিল প্রশান্তি আর একরাশ রঙিন স্মৃতি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

আনন্দ-উচ্ছ্বাসে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

আপডেট টাইম : ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :

মনোয়ার হোসেন:

 

শীতের স্নিগ্ধ সকালে কুয়াশার চাদর ভেদ করে ছুটে চলা—গন্তব্য উত্তরের পুণ্যভূমি বগুড়া। উদ্দেশ্য ছিল পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা কিছুক্ষণ স্থগিত রেখে সহকর্মী ও পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানো।

 

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বগুড়ার ‘মম ইন’ পার্কে অনুষ্ঠিত হলো রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের বার্ষিক পারিবারিক মিলনমেলা-২০২৬।

 

দিনভর নানা আয়োজন, হাসি-ঠাট্টা আর বনভোজনের আমেজে মুখরিত ছিল পার্ক প্রাঙ্গণ। ১০২ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এই ক্লাবটি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আয়োজন করে তাদের ঐক্য ও পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখার লক্ষ্যে। প্রেসক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আনন্দে অংশগ্রহণ করেন।

 

সকাল থেকেই শুরু হয় উৎসবের আমেজ। পার্কের মনোরম পরিবেশে শিশুদের জন্য ছিল বিভিন্ন রাইডে চড়ার সুযোগ, আর বড়রা মেতে উঠেন আড্ডা ও স্মৃতিচারণে।

 

দুপুরের খাবারের পর বিকেলে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। সারাক্ষণ খবরের পেছনে ছুটতে গিয়ে পরিবারকে সময় দেওয়া কঠিন হয়। এ ধরনের আয়োজন সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক হৃদ্যতা বাড়াতে এবং ক্লান্তি দূর করতে একটি টনিক হিসেবে কাজ করে।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক কাজী শাহেদ, যিনি বলেন,
“রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের কর্মপদ্ধতি ও সদস্যদের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এই ক্লাবের প্রতিটি সদস্য একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, যা অন্য অনেক সংগঠনের জন্য অনুকরণীয়। তাদের পারিবারিক আবহ সত্যিই বিরল এবং প্রশংসার দাবি রাখে।”

 

প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম জানান, এ ধরনের আয়োজন কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি সহকর্মীদের মধ্যে পেশাগত দূরত্ব বা বিদ্বেষ দূর করে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে। এক ঐক্যবদ্ধ প্রেসক্লাবই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ সদস্য ও তাদের পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্তের সঙ্গে শেষ হয় আনন্দযাত্রা। ফেরার পথে সবার চোখে-মুখে ছিল প্রশান্তি আর একরাশ রঙিন স্মৃতি।