ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুঃসাহসিক চুরিঃ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ব্যাহত চিকিৎসা সেবা

 নুরুল ইসলামঃ

 

​ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হাসপাতালের প্রধান বিদ্যুৎ লাইনের তার কেটে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। এর ফলে দীর্ঘ সময় হাসপাতাল বিদ্যুৎহীন থাকায় চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ভোগে পড়েছেন ভর্তি থাকা রোগীরা।

 

​হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দিবাগত গভীর রাতে হাসপাতালের পেছনের দিকের মেইন লাইনের তার কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে হাসপাতালের কর্মীরা বিদ্যুৎ না থাকার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখেন, সংযোগকারী তারের বিশাল একটি অংশ গায়েব হয়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতের কোনো এক সময় পরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

 

​বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি বিভাগ এবং এক্স-রে সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড গরমে ওয়ার্ডে থাকা সাধারণ রোগী ও নবজাতকদের ভোগান্তি ছিল চরমে।

​হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ​”সরকারি হাসপাতালে যদি নিরাপত্তা না থাকে, তবে আমরা সাধারণ মানুষ যাব কোথায়? তার চুরির কারণে ফ্যান চলছে না, গরমে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”

​এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডঃ মোঃ মমিনুর রহমান সরকার জানান, “বিদ্যুতের তার চুরির বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমরা দ্রুত সংযোগ মেরামতের ব্যবস্থা করছি এবং বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।”

 

​সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল মামুন জানান, “হাসপাতালে চুরির খবর পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি।”

 

​একটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন চুরির ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, অনতিবিলম্বে হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী বাড়ানো হোক এবং সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা হোক যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ

error: Content is protected !!

সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুঃসাহসিক চুরিঃ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ব্যাহত চিকিৎসা সেবা

আপডেট টাইম : ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার :

 নুরুল ইসলামঃ

 

​ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হাসপাতালের প্রধান বিদ্যুৎ লাইনের তার কেটে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। এর ফলে দীর্ঘ সময় হাসপাতাল বিদ্যুৎহীন থাকায় চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ভোগে পড়েছেন ভর্তি থাকা রোগীরা।

 

​হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দিবাগত গভীর রাতে হাসপাতালের পেছনের দিকের মেইন লাইনের তার কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে হাসপাতালের কর্মীরা বিদ্যুৎ না থাকার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখেন, সংযোগকারী তারের বিশাল একটি অংশ গায়েব হয়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতের কোনো এক সময় পরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

 

​বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি বিভাগ এবং এক্স-রে সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড গরমে ওয়ার্ডে থাকা সাধারণ রোগী ও নবজাতকদের ভোগান্তি ছিল চরমে।

​হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ​”সরকারি হাসপাতালে যদি নিরাপত্তা না থাকে, তবে আমরা সাধারণ মানুষ যাব কোথায়? তার চুরির কারণে ফ্যান চলছে না, গরমে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”

​এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডঃ মোঃ মমিনুর রহমান সরকার জানান, “বিদ্যুতের তার চুরির বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমরা দ্রুত সংযোগ মেরামতের ব্যবস্থা করছি এবং বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।”

 

​সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল মামুন জানান, “হাসপাতালে চুরির খবর পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি।”

 

​একটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন চুরির ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, অনতিবিলম্বে হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী বাড়ানো হোক এবং সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা হোক যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।