ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

জুট মিল লুটকাণ্ডে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য আটক

রাশিদুল ইসলাম রাশেদঃ

 

নাটোরের লালপুরে সাজিদ জুট মিলসে সংঘটিত প্রায় ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার হায়দারপুর (নতুনপাড়া) গ্রামের মৃত বেল্লাল মৃধার ছেলে মাহাতাব মৃধা (৩২), তারাপাশা গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে সেলিম হোসেন (৩২),পাবনা সদর উপজেলার দক্ষিণ মাছিমপুর গ্রামের মৃত আকুব্বর প্রামানিকের ছেলে লিটন প্রামানিক (৪৬), কোষাখালি গ্রামের আজগর হোসেনের ছেলে সাগর শেখ (২২), চরঘোষপুর গ্রামের মিঠু শেখের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩৫) ও মৃত মোফাজ্জল মণ্ডলের ছেলে আব্দুল খালেক (৩৪)।
থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২২ জুন ২০২৬) রাতে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শরীফুল হকের দিকনির্দেশনা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতেখায়ের আলমের তত্ত্বাবধানে পাবনার আটঘরিয়া ও সদর থানা এলাকায় ডিবি ও লালপুর থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অভিযান পরিচালনা করেন।

 

এ সময় পৃথক অভিযান চালিয়ে ডাকাত চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা সদর থানার বড় বাজার এলাকা থেকে লুণ্ঠিত ৩০০ কেজি তামার তার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মিনি পিকআপ, একটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রির ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ মে ২০২৬ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১২ থেকে ১৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উপজেলার অর্জনপুর-বরমহাটি ইউনিয়নের শ্রীরামগাড়ী এলাকায় সাজিদ জুট মিলে প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের এক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারসহ চারজন স্টাফের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে এবং হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে পৃথক কক্ষে আটকে রাখে। পরে রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত মিলের বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের মূল্য প্রায় ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে জানা যায়। প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় সাজিদ জুট মিলের মালিক সাজিদ মল্লিক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তে নামে পুলিশ।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী-৩ এ স্বচ্ছতা ফেরাতে কঠোর অবস্থান; দুর্নীতিবাজদের ছাড় নয়: এমপি মিলন

error: Content is protected !!

জুট মিল লুটকাণ্ডে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য আটক

আপডেট টাইম : ০৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি :

রাশিদুল ইসলাম রাশেদঃ

 

নাটোরের লালপুরে সাজিদ জুট মিলসে সংঘটিত প্রায় ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার হায়দারপুর (নতুনপাড়া) গ্রামের মৃত বেল্লাল মৃধার ছেলে মাহাতাব মৃধা (৩২), তারাপাশা গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে সেলিম হোসেন (৩২),পাবনা সদর উপজেলার দক্ষিণ মাছিমপুর গ্রামের মৃত আকুব্বর প্রামানিকের ছেলে লিটন প্রামানিক (৪৬), কোষাখালি গ্রামের আজগর হোসেনের ছেলে সাগর শেখ (২২), চরঘোষপুর গ্রামের মিঠু শেখের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩৫) ও মৃত মোফাজ্জল মণ্ডলের ছেলে আব্দুল খালেক (৩৪)।
থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২২ জুন ২০২৬) রাতে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শরীফুল হকের দিকনির্দেশনা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতেখায়ের আলমের তত্ত্বাবধানে পাবনার আটঘরিয়া ও সদর থানা এলাকায় ডিবি ও লালপুর থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অভিযান পরিচালনা করেন।

 

এ সময় পৃথক অভিযান চালিয়ে ডাকাত চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা সদর থানার বড় বাজার এলাকা থেকে লুণ্ঠিত ৩০০ কেজি তামার তার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মিনি পিকআপ, একটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রির ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ মে ২০২৬ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১২ থেকে ১৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উপজেলার অর্জনপুর-বরমহাটি ইউনিয়নের শ্রীরামগাড়ী এলাকায় সাজিদ জুট মিলে প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের এক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারসহ চারজন স্টাফের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে এবং হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে পৃথক কক্ষে আটকে রাখে। পরে রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত মিলের বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের মূল্য প্রায় ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে জানা যায়। প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় সাজিদ জুট মিলের মালিক সাজিদ মল্লিক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তে নামে পুলিশ।