ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

নির্মাণাধীন ড্রেনেজে জমে থাকা পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রায় এক বছর আগে করা হয়েছে খনন। তবে এতদিনেও সেখানে শুরুই হয়নি ড্রেন নির্মাণের কাজ। আর সেখানে জমে থাকা পানিতে পড়ে এক শিশু মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিকেলের দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলংগী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত শিশুর নাম মো. ইফাত (৬)। সে ওই এলাকার লুঙ্গি ব্যবসায়ী কামরুল হাসানের ছোট ছেলে ও স্থানীয় বায়তুল উলুম ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

 

এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আর আদরের সন্তান হারিয়ে মা শারমিন আক্তার পাগলপ্রায়। অসুস্থ হয়ে শিশুটির বাবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

 

পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী পৌরসভার ৩ নং নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০০ মিটার ড্রেন নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। গত বর্ষা মৌসুমে ড্রেন নির্মাণের উদ্দেশে মাটি ভেকু দিয়ে সরু খাল সৃষ্টি করেছে ঠিকাদার। তবে এক বছরেরও নির্মাণ কাজ শুরু না হওয়ায় কয়েকটি স্থানে খাদ সৃষ্টি হয়েছে।

 

সোমবার বিকেল ৩টার দিকে শিশু ইফাত তার চাচাতো ভাই সামাদের (১১) সঙ্গে ছাগল চড়ানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। ঘণ্টাখানেক পরে সামাদ বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু রিফাত বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এরপর বিকেল ৪টার দিকে মানিকের নির্মাণাধীন ড্রেন থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শোকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে তার বাবা।

 

স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এক বছরের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। কোথাও আবার খনন করা হলেও কাজ শুরুই হয়নি। খনন করা অংশে পানি জমে মৃত্য কূপে পরিণত হয়েছে। ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় অকালেই ঝরলো এই শিশুর প্রাণ। দোষীদের শাস্তির দাবি জানান তারা।

 

এ বিষয়ে মুঠোফোনে ঠিকাদার লিটন আলী বলেন, এলংগী এলাকায় ড্রেন কাজ চলছে তার। কাগজপত্রাদি দেখে বিস্তারিত বলা যাবে। পরে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে লিটন বলেন, তিনি কিছুই জানেন না। বাইরে গাড়িতে আছেন। পরে কথা বলবেন বলে ফোনটি কেটে দেন।

 

মর্মান্তিক এঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ইউএনও ও পৌরসভার প্রশাসক ফারজানা আখতার বলেন, ঠিকাদারের অবহেলা আছে কি না? তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এ ব্যাপারে,কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, নির্মাণাধীন ড্রেনেজে জমে থাকা পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিমার পতাকা অপসারণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মোটরসাইকেল শো-ডাউন

error: Content is protected !!

নির্মাণাধীন ড্রেনেজে জমে থাকা পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু

আপডেট টাইম : ১১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রায় এক বছর আগে করা হয়েছে খনন। তবে এতদিনেও সেখানে শুরুই হয়নি ড্রেন নির্মাণের কাজ। আর সেখানে জমে থাকা পানিতে পড়ে এক শিশু মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিকেলের দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলংগী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত শিশুর নাম মো. ইফাত (৬)। সে ওই এলাকার লুঙ্গি ব্যবসায়ী কামরুল হাসানের ছোট ছেলে ও স্থানীয় বায়তুল উলুম ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

 

এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আর আদরের সন্তান হারিয়ে মা শারমিন আক্তার পাগলপ্রায়। অসুস্থ হয়ে শিশুটির বাবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

 

পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী পৌরসভার ৩ নং নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০০ মিটার ড্রেন নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। গত বর্ষা মৌসুমে ড্রেন নির্মাণের উদ্দেশে মাটি ভেকু দিয়ে সরু খাল সৃষ্টি করেছে ঠিকাদার। তবে এক বছরেরও নির্মাণ কাজ শুরু না হওয়ায় কয়েকটি স্থানে খাদ সৃষ্টি হয়েছে।

 

সোমবার বিকেল ৩টার দিকে শিশু ইফাত তার চাচাতো ভাই সামাদের (১১) সঙ্গে ছাগল চড়ানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। ঘণ্টাখানেক পরে সামাদ বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু রিফাত বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এরপর বিকেল ৪টার দিকে মানিকের নির্মাণাধীন ড্রেন থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শোকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে তার বাবা।

 

স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এক বছরের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। কোথাও আবার খনন করা হলেও কাজ শুরুই হয়নি। খনন করা অংশে পানি জমে মৃত্য কূপে পরিণত হয়েছে। ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় অকালেই ঝরলো এই শিশুর প্রাণ। দোষীদের শাস্তির দাবি জানান তারা।

 

এ বিষয়ে মুঠোফোনে ঠিকাদার লিটন আলী বলেন, এলংগী এলাকায় ড্রেন কাজ চলছে তার। কাগজপত্রাদি দেখে বিস্তারিত বলা যাবে। পরে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে লিটন বলেন, তিনি কিছুই জানেন না। বাইরে গাড়িতে আছেন। পরে কথা বলবেন বলে ফোনটি কেটে দেন।

 

মর্মান্তিক এঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ইউএনও ও পৌরসভার প্রশাসক ফারজানা আখতার বলেন, ঠিকাদারের অবহেলা আছে কি না? তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এ ব্যাপারে,কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, নির্মাণাধীন ড্রেনেজে জমে থাকা পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।