ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

গরু বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ গৃহবধূ, রাতেই সহায়তা নিয়ে ছুটলেন ইউএনও

সকালে গিয়ে আর্থিক সহায়তা দিলেন এমপি চাঁদ

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ 

 

রাজশাহীর বাঘায় গোয়াল ঘরে লাগা আগুন থেকে গরু বাঁচাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন এক গৃহবধূ। অগ্নিদগ্ধ চার গরুর মধ্যে একটি বাচুর গরু আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায়। এসময়  ২০মন ধান ১৬ মন গম পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৮লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

সোমবার (১১ মে) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের মহদীপুর সবজি পাড়া গ্রামের মামুনের বাড়িতে অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার রাতেই শুকনা খাবার ও কম্বল নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি দগ্ধ গৃহবধূর চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা ও পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

 

মঙ্গলবার সকালে যান রাজশাহী ৬ বাঘা-চারঘাটের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাদ। তিনি ক্ষতিগস্থ পরিবারের পাশে থাকার কথা জানান এবং আর্থিক সহায়তা দেন।
স্থানীয়রা জানান, বাড়ির রান্না ঘরে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসত বাড়ির ৩কক্ষ,১টি গোয়াল ঘর পুড়ে ভস্মিভ’ত হয়। এ সময় গোয়ালে বাঁধা গরুগুলো বের করতে গিয়ে শরীরে আগুন লেগে দগ্ধ হন মামুনের স্ত্রী এলিচ বেগম।

 

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে দগ্ধ গৃহবধূকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছে।

 

চাচাতো দেবর অধ্যাপক চন্দন কবীর বলেন, আগুন লাগার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। ভাই বাইরে কাজে গেছেন। ভাবী তার বড় ছেলেকে বাইরে কাজের জন্য বাসে তুলে দিয়ে পার্শ্ববর্তী হাব্বুরের মোড়ে ছিল। সেখান থেকে লোক মুখে জানতে পারে তার বাড়িতে আগুন লেগেছে।
“রান্না ঘরের চুলার আগুন থেকে নাকি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বুঝতে পারছি না। ভাবি গরুগুলার মায়ায় ভেতরে ঢুকেছিল। না হলে এত বড় দুর্ঘটনা হতো না।”

 

বাঘা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম চৌধুরি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানো হয়। প্রায় ৮ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।
ইউএনও শাম্মী আক্তার বলেন, “গরু বাঁচাতে গিয়ে মা-বোনেরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নেন। ওনার দ্রুত সুস্থতার জন্য উপজেলা প্রশাসন পাশে আছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ

error: Content is protected !!

গরু বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ গৃহবধূ, রাতেই সহায়তা নিয়ে ছুটলেন ইউএনও

আপডেট টাইম : ০৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ 

 

রাজশাহীর বাঘায় গোয়াল ঘরে লাগা আগুন থেকে গরু বাঁচাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন এক গৃহবধূ। অগ্নিদগ্ধ চার গরুর মধ্যে একটি বাচুর গরু আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায়। এসময়  ২০মন ধান ১৬ মন গম পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৮লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

সোমবার (১১ মে) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের মহদীপুর সবজি পাড়া গ্রামের মামুনের বাড়িতে অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার রাতেই শুকনা খাবার ও কম্বল নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি দগ্ধ গৃহবধূর চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা ও পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

 

মঙ্গলবার সকালে যান রাজশাহী ৬ বাঘা-চারঘাটের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাদ। তিনি ক্ষতিগস্থ পরিবারের পাশে থাকার কথা জানান এবং আর্থিক সহায়তা দেন।
স্থানীয়রা জানান, বাড়ির রান্না ঘরে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসত বাড়ির ৩কক্ষ,১টি গোয়াল ঘর পুড়ে ভস্মিভ’ত হয়। এ সময় গোয়ালে বাঁধা গরুগুলো বের করতে গিয়ে শরীরে আগুন লেগে দগ্ধ হন মামুনের স্ত্রী এলিচ বেগম।

 

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে দগ্ধ গৃহবধূকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছে।

 

চাচাতো দেবর অধ্যাপক চন্দন কবীর বলেন, আগুন লাগার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। ভাই বাইরে কাজে গেছেন। ভাবী তার বড় ছেলেকে বাইরে কাজের জন্য বাসে তুলে দিয়ে পার্শ্ববর্তী হাব্বুরের মোড়ে ছিল। সেখান থেকে লোক মুখে জানতে পারে তার বাড়িতে আগুন লেগেছে।
“রান্না ঘরের চুলার আগুন থেকে নাকি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বুঝতে পারছি না। ভাবি গরুগুলার মায়ায় ভেতরে ঢুকেছিল। না হলে এত বড় দুর্ঘটনা হতো না।”

 

বাঘা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম চৌধুরি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানো হয়। প্রায় ৮ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।
ইউএনও শাম্মী আক্তার বলেন, “গরু বাঁচাতে গিয়ে মা-বোনেরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নেন। ওনার দ্রুত সুস্থতার জন্য উপজেলা প্রশাসন পাশে আছে।