গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার জনপদ এখন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জসিম দেওয়ানের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জমি দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জসিম দেওয়ান তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রবিন দেওয়ানকে সামনে রেখে এসব অপকর্ম পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ এখন প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। কেউ মুখ খুললেই হুমকি, ভয় দেখানো, এমনকি মারধরের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে এলাকায় এক ধরনের নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জসিম দেওয়ান বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব বিস্তার করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে সম্পত্তি ছাড়তে কিংবা আপস করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, তাদের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাসিক চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। কেউ দিতে না চাইলে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার শান্ত পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মানুষজন ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।
স্থানীয়রা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “জসিম দেওয়ান বাহিনীর দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর জোর দাবি—অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা হোক।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
মোঃ মাহবুবুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি 





















