মাহবুবুর রহমান সোহেলঃ
কালিয়াকৈর উপজেলার ০৬ নং ওয়ার্ডের কালামপুর কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে আজ এক ঐতিহাসিক ও আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো এলাকাবাসী। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত মন্দির উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মন্দিরের ছাদ ঢালাই কাজের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই শুভ কাজের উদ্বোধন করেন কালিয়াকৈরের জনপ্রিয় ও জনবান্ধব নেতা, মা-মাটি-মানুষের নেতা জনাব মোঃ সাইজুদ্দিন আহমেদ।
এদিন মন্দির প্রাঙ্গণ যেন পরিণত হয়েছিল এক আবেগঘন উৎসবস্থলে। ধর্মপ্রাণ মানুষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মন্দির পরিচালনা কমিটি এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে এই মহৎ কাজের সূচনায় অংশ নেন। আনন্দ, ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা আর ভক্তির মিলনমেলায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ।
একটি মন্দির, একটি বিশ্বাস, একটি ঐতিহ্য:
কালামপুর কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী সর্বজনীন দুর্গা মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়—এটি এই এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভক্তি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীক। বছরের বিভিন্ন সময় এই মন্দিরকে ঘিরে নানা ধর্মীয় আয়োজন, পূজা-পার্বণ ও সামাজিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
বিশেষ করে দুর্গাপূজার সময় মন্দির প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে মন্দিরের অবকাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাব দেখা দেয়। এলাকাবাসী ও মন্দির পরিচালনা কমিটির দীর্ঘদিনের দাবি ছিল—মন্দিরের ছাদ ঢালাই করে স্থাপনাটি আরও মজবুত ও নিরাপদ করা হোক, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মও নিরাপদভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
অবশেষে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল।
উন্নয়নের পথে এক বড় পদক্ষেপ
মন্দির উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে ছাদ ঢালাই কার্যক্রমকে এলাকাবাসী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। কারণ ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হলে মন্দিরটি হবে আরও শক্তিশালী, স্থায়ী ও সুরক্ষিত। এতে বৃষ্টি-ঝড় কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও মন্দিরের স্থাপনা নিরাপদ থাকবে এবং পূজা-অর্চনার পরিবেশ আরও সুন্দর ও আরামদায়ক হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই কাজ বাস্তবায়িত হলে শুধু মন্দিরের অবকাঠামোই উন্নত হবে না, বরং এলাকার ধর্মীয় চেতনা ও সামাজিক ঐক্যের ভিত আরও শক্তিশালী হবে।
শুভ উদ্বোধনী দিনে আবেগের ছোঁয়া
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় পূজা-অর্চনা ও মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে। মন্দিরের পুরোহিত ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ মন্ত্রপাঠ করেন এবং সকলের কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে ছাদ ঢালাই কাজের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মানুষদের চোখেমুখে ছিল এক ধরনের প্রশান্তি ও আবেগ। অনেকেই বলেন, “এটা শুধু উন্নয়ন কাজ নয়, এটা আমাদের বিশ্বাসের ঘরকে আরও শক্ত করার পদক্ষেপ।”
উদ্বোধনী মুহূর্তে উপস্থিতদের মধ্যে সৃষ্টি হয় এক অনন্য সম্প্রীতির পরিবেশ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার অনেক মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রমাণ করেন—বাংলাদেশের মাটিতে আজও সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা বেঁচে আছে।
মোঃ সাইজুদ্দিন আহমেদের উপস্থিতি ও বক্তব্য
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈরের মা-মাটি-মানুষের নেতা জনাব মোঃ সাইজুদ্দিন আহমেদ। তিনি মন্দির উন্নয়ন কাজের সূচনা করে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এই দেশের প্রতিটি মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডা আমাদের ঐতিহ্য। মানুষের বিশ্বাসের জায়গাগুলোকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “কালামপুর কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নয়, এই এলাকার সকল মানুষের ভালোবাসার জায়গা। মন্দিরের উন্নয়নে আমি সবসময় পাশে আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ।”
তার বক্তব্যে উপস্থিত জনতা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। অনেকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানান এবং বলেন, এমন নেতার উপস্থিতি এলাকাবাসীর জন্য আশীর্বাদ।
সম্প্রীতির বন্ধনে গড়া আয়োজন
এই অনুষ্ঠানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল—এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় আয়োজন নয়, বরং এটি ছিল একটি সম্প্রীতির মিলনমেলা। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যুবসমাজ, বয়স্ক ব্যক্তি, নারী-পুরুষ সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হন।
অনেকেই বলেন, “আজ আমরা বুঝতে পারছি, উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা-ঘাট নয়, উন্নয়ন মানে মানুষের বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে সম্মান করা।” এই মন্দিরের উন্নয়ন কাজ এলাকার মানুষের মাঝে এক নতুন আশার আলো তৈরি করেছে। বিশেষ করে সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষেরা বলছেন—এটি তাদের ধর্মীয় জীবনে বড় স্বস্তির খবর।
মন্দির পরিচালনা কমিটির বক্তব্য
মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, এই কাজ বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা চলছিল। অবশেষে এলাকাবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
তারা বলেন, “আমরা চাই এই মন্দিরকে আরও সুন্দর, পরিপাটি ও নিরাপদ করতে। ভবিষ্যতে মন্দিরের অন্যান্য উন্নয়ন কাজও ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।” তারা আরও বলেন, মোঃ সাইজুদ্দিন আহমেদ আজ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এতে আমরা অনুপ্রাণিত ও কৃতজ্ঞ।”
ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নতুন গতি
স্থানীয়দের মতে, মন্দিরের ছাদ ঢালাই কাজ শেষ হলে দুর্গাপূজা, কালীপূজা, সরস্বতী পূজা, লক্ষ্মী পূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন আরও সুন্দরভাবে করা যাবে। বর্তমানে অনেক সময় বর্ষাকালে কিংবা ঝড়-বৃষ্টির দিনে মন্দিরে ভক্তদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এই উন্নয়ন কাজ শেষ হলে সেসব সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
মাহবুবুর রহমান সোহেল, বিশেষ প্রতিনিধি 





















