জসিমউদ্দীন ইতিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী হরিপুর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে অনুমোদিত পদের বিপরীতে তীব্র জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএও) এবং দাপ্তরিক কর্মচারীদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হরিপুর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম গতিশীল রাখতে নির্ধারিত সাংগঠনিক কাঠামো থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে কোনো স্থায়ী কর্মকর্তা বা কর্মচারী নেই।
যেসব পদে রয়েছে শূন্যতা ও সংকট:
১) কৃষি প্রসার কর্মকর্তা (এইও) / অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা: উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে সার্বিক তদারকি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য নির্ধারিত পদ ফাঁকা থাকা বা পদায়নে সংকট থাকায় দাপ্তরিক কাজে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
২) উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএও): হরিপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ২৪টি ব্লকের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নেই। একাধিক পদ শূন্য থাকায় অনেক কর্মকর্তাকে একসঙ্গে ২ থেকে ৩টি ব্লকের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। ফলে মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
৩) উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা (এসএপিও): বালাইনাশক ও ফসলের পোকা-মাকড় দমনে সরাসরি দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পদেও সার্বক্ষণিক লোকবলের অভাবে কৃষকরা সঠিক সময়ে কারিগরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
৪) দাপ্তরিক ও অফিস সহকারী/কম্পিউটার অপারেটর: অফিসে কাগজপত্র প্রসেসিং, প্রণোদনার তালিকা তৈরি এবং দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষণের পদে জনবল সংকটের কারণে ফাইল প্রসেসিঙে বিলম্ব ঘটছে।
৫) অফিস সহায়ক ও অফিস গার্ড: প্রয়োজনীয় নিম্নপদস্থ কর্মচারীর অভাবে অফিসের দৈনন্দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার আমগাঁও, ডাঙ্গীপাড়া, বালিধার, গেদুড়া, হরিপুর ও ভাতুড়িয়া ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, বর্তমানে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, সমলয় চাষাবাদ এবং ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ঘটলেও কর্মকর্তার অভাবে তাঁরা যথাসম্যে পরামর্শ পাচ্ছেন না। জমিতে বালাই ছড়ালে অফিসে এসে অনেক সময় কর্মকর্তাদের দেখা মেলে না। ফলে স্থানীয় সার ও কীটনাশক বিক্রেতাদের পরামর্শের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে কৃষকরা আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন।
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম বলেন, আমাদের কার্যালয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় সীমিত জনবল নিয়ে পুরো উপজেলার সেবা চালু রাখতে হচ্ছে। অনেক সময় একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে একাধিক ব্লকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হয়। তবে এই সংকট থাকা সত্ত্বেও আমরা সাধ্যের সবটুকু দিয়ে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার্ভিস দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ ও পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এই উপজেলার কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারী পদায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী কৃষকরা।

সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত 
জসিমউদ্দীন ইতি, জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও 




















