ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

হরিপুরে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ উদ্যোগঃ মজুদ রয়েছে ৮৫টি অ্যান্টিভেনম

জসীমউদ্দীন ইতিঃ

শুরুতে এই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার খবরটি সাধারণ মানুষ তেমন জানতেন না, হয়তো হাতেগোনা কিছু মানুষ জানতেন। তবে আমরা এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই—সাপে কাটা রোগীদের জীবন বাঁচাতে আমাদের হাসপাতাল এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমুজ্জামান।

 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং ওষুধের বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ ও সীমান্ত এলাকায় সাপের উপদ্রব এবং সাপে কাটার ঝুঁকি অন্যান্য সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যায়। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ আগেভাগেই বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়মিত সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিশেষ নজরদারির কারণে এবার জরুরি ওষুধের সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ডা. শামীমুজ্জামান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মহোদয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) যৌথ উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই জীবনরক্ষাকারী ওষুধের জরুরি সরবরাহ দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

 

ডা. শামীমুজ্জামান জানান, বর্তমানে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান ৮৫টি অ্যান্টিভেনম (মেডিসিন) সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে মজুদ রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, সাপে কাটা একজন সংকটাপন্ন রোগীকে সুস্থ করে তুলতে সাধারণত ১০টি বা তার কম-বেশি অ্যান্টিভেনম ডোজের প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে, বর্তমানে মজুদ থাকা ওষুধ দিয়ে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা ৮ জন রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সাপে কাটার পর গ্রামীণ সমাজে এখনও ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের পেছনে মূল্যবান সময় নষ্ট করার প্রবণতা দেখা যায়। এর ফলে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়। আমরা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, সাপে কাটার পর কোনো ওঝা বা কবিরাজের কাছে গিয়ে সময় অপচয় না করে রোগীকে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে আসুন।”

 

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, হাসপাতালে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রয়েছেন এবং সরকারি এই জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগীকে প্রদান করা হবে।

 

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রশাসনের এই দূরদর্শী উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির খবরটি তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়া দরকার। এতে একদিকে যেমন মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়বে, অন্যদিকে সাপে কাটার মতো জরুরি মুহূর্তে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও মাদক প্রতিরোধে আলফাডাঙ্গায় আলোচনা সভা

error: Content is protected !!

হরিপুরে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ উদ্যোগঃ মজুদ রয়েছে ৮৫টি অ্যান্টিভেনম

আপডেট টাইম : ১২ ঘন্টা আগে
জসীমউদ্দীন ইতি, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :

জসীমউদ্দীন ইতিঃ

শুরুতে এই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার খবরটি সাধারণ মানুষ তেমন জানতেন না, হয়তো হাতেগোনা কিছু মানুষ জানতেন। তবে আমরা এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই—সাপে কাটা রোগীদের জীবন বাঁচাতে আমাদের হাসপাতাল এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমুজ্জামান।

 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং ওষুধের বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ ও সীমান্ত এলাকায় সাপের উপদ্রব এবং সাপে কাটার ঝুঁকি অন্যান্য সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যায়। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ আগেভাগেই বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়মিত সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিশেষ নজরদারির কারণে এবার জরুরি ওষুধের সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ডা. শামীমুজ্জামান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মহোদয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) যৌথ উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই জীবনরক্ষাকারী ওষুধের জরুরি সরবরাহ দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

 

ডা. শামীমুজ্জামান জানান, বর্তমানে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান ৮৫টি অ্যান্টিভেনম (মেডিসিন) সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে মজুদ রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, সাপে কাটা একজন সংকটাপন্ন রোগীকে সুস্থ করে তুলতে সাধারণত ১০টি বা তার কম-বেশি অ্যান্টিভেনম ডোজের প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে, বর্তমানে মজুদ থাকা ওষুধ দিয়ে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা ৮ জন রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সাপে কাটার পর গ্রামীণ সমাজে এখনও ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের পেছনে মূল্যবান সময় নষ্ট করার প্রবণতা দেখা যায়। এর ফলে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়। আমরা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, সাপে কাটার পর কোনো ওঝা বা কবিরাজের কাছে গিয়ে সময় অপচয় না করে রোগীকে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে আসুন।”

 

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, হাসপাতালে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রয়েছেন এবং সরকারি এই জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগীকে প্রদান করা হবে।

 

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রশাসনের এই দূরদর্শী উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির খবরটি তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়া দরকার। এতে একদিকে যেমন মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়বে, অন্যদিকে সাপে কাটার মতো জরুরি মুহূর্তে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।