ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে ভাঙন, রায়টা বেড়িবাঁধ হুমিকর মুখে

ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

দিনদিন পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। ফলে ভেড়ামারা উপজেলার রায়টা বেড়িবাঁধ এখন হুমকির মুখে। ভাঙন থেকে মাত্র ১শ’ মিটার দূরে ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার পরিবারের বাড়িঘর। ইতোমধ্যে বেশ কয়েক একর ফসলি জমি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

 

বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়টা বেড়িবাঁধের পাশেই রাইটা পাথরঘাট। ভেড়ামারা থানার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এখানে রয়েছে পিকনিক স্পট। প্রতিদিন পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাঁধের কাছে এসে পানির ধাক্কা লাগছে। পানি ঘুরপাক ও পানির তীব স্রোতে ভাঙতে শুরু করেছে রায়টা বেড়িবাঁধ। এই বাঁধ ভেঙে গেলে রায়টা নতুনপাড়া ও ফয়জুল্লাপুর এই দুই গ্রাম পানিতে ডুবে যাবে। পানিবন্দি হয়ে পড়বে প্রায় ৩ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি।

 

বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল রানা পবন জানান, প্রতিবছর পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রায়টা বেড়িবাঁধে পানির আঘাত হানে। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই এলাকার মানুষ। এবারও তাই হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকলে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক গ্রাম ডুবে যাবে।

 

উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো: জাম্মদ কবিরাজ জানান, গত বছর নদীভাঙনের সময় থেকেই আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছিলাম। তারা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে জি ও ব্যাগ ফেলে ভাঙন কিচ্ছুটা রোধ করেছিলো। এইবার ফয়জুল্লাপুর কবিরাজ পাড়া ভয়াবহ পদ্মার ভাঙনের মুখে। এইবার পদ্মার ধারে ব্লক ফেলা জরুরী হয়ে পরেছে।

 

কবিরাজপাড়া গ্রামের ফরিদা পারভিন ও ময়না খাতুন কান্নায় ভেঙে পরেন। তারা জানান,প্রতিদিন পদ্মার পাড় ভাঙছে। বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে ভাঙন। রাতে ঘুম আসেনা। ছেলে-মেয়ে নিয়ে চরম বিপদে পরেছি। না জানি কখন ফয়জুল্লাপুর কবিরাজ পাড়ার বাড়িঘর পদ্মায় বিলিন হয়ে যায়। সরকার আমাদের কে নদী ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাক।

 

এই এলাকার আপতাবুল,টিক্কা,নাজিম.মজনু,বজু,হান্নান,খোকন ও কালু প্রমানিক জানান, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতায় ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। আউশ ধান, কলাবাগান, নানা প্রকার শাকসবজির খেত নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনরোধ করা না হলে বাড়িঘরসহ সবকিছু নদীতে চলে যাবে।

 

কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা গবেষণা সম্পাদক অধ্যাপক নূরুল আমিন জসিম জানান,উপজেলার জুনিয়াদহ ফয়জুল্লাপুর কবিরাজ পাড়া ভাঙনের মুখে। এই এলাকা ভাঙ্গনের ফলে সাধারন জনগন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেড়শ” পরিবার হুমকির মুখে। বাড়িঘর ভাঙনের মুখে। নদী এখন ২শ’ মিটার দুরে রয়েছে। রোধ করা না হলে এই এলাকার বাড়িঘর সব নদী গর্ভে চলে যাবে। তাই ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

 

কুষ্টিয়া ২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের একটি প্রতিনিধি দল আজ ১৪ জুলাই মঙ্গলবার সকালে ভেড়ামারা উপজেলার রায়টা ফয়জুল্লাপুর নদী ভাঙন এলাকা পরির্দশন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়েতের আমির জালালউদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সহ সাধারণ সম্পাদক তারিক হোসেন প্রমূখ।

 

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মানদী থেকে নিয়ম না মেনে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। ভাঙন রোধে গত বছর ছোট জি ও ব্যাগ ফেলানো হয়। তার পর ও পদ্মার পাড় ভাঙা থামেনি। এই খানে প্রয়োজন এখন দ্রুত বড় বড় বালু ভর্তি জি ও ব্যঠস কিংবা ব্লক।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও মাদক প্রতিরোধে আলফাডাঙ্গায় আলোচনা সভা

error: Content is protected !!

ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে ভাঙন, রায়টা বেড়িবাঁধ হুমিকর মুখে

আপডেট টাইম : ১০ ঘন্টা আগে
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

দিনদিন পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। ফলে ভেড়ামারা উপজেলার রায়টা বেড়িবাঁধ এখন হুমকির মুখে। ভাঙন থেকে মাত্র ১শ’ মিটার দূরে ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার পরিবারের বাড়িঘর। ইতোমধ্যে বেশ কয়েক একর ফসলি জমি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

 

বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়টা বেড়িবাঁধের পাশেই রাইটা পাথরঘাট। ভেড়ামারা থানার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এখানে রয়েছে পিকনিক স্পট। প্রতিদিন পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাঁধের কাছে এসে পানির ধাক্কা লাগছে। পানি ঘুরপাক ও পানির তীব স্রোতে ভাঙতে শুরু করেছে রায়টা বেড়িবাঁধ। এই বাঁধ ভেঙে গেলে রায়টা নতুনপাড়া ও ফয়জুল্লাপুর এই দুই গ্রাম পানিতে ডুবে যাবে। পানিবন্দি হয়ে পড়বে প্রায় ৩ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি।

 

বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল রানা পবন জানান, প্রতিবছর পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রায়টা বেড়িবাঁধে পানির আঘাত হানে। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই এলাকার মানুষ। এবারও তাই হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকলে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক গ্রাম ডুবে যাবে।

 

উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো: জাম্মদ কবিরাজ জানান, গত বছর নদীভাঙনের সময় থেকেই আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছিলাম। তারা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে জি ও ব্যাগ ফেলে ভাঙন কিচ্ছুটা রোধ করেছিলো। এইবার ফয়জুল্লাপুর কবিরাজ পাড়া ভয়াবহ পদ্মার ভাঙনের মুখে। এইবার পদ্মার ধারে ব্লক ফেলা জরুরী হয়ে পরেছে।

 

কবিরাজপাড়া গ্রামের ফরিদা পারভিন ও ময়না খাতুন কান্নায় ভেঙে পরেন। তারা জানান,প্রতিদিন পদ্মার পাড় ভাঙছে। বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে ভাঙন। রাতে ঘুম আসেনা। ছেলে-মেয়ে নিয়ে চরম বিপদে পরেছি। না জানি কখন ফয়জুল্লাপুর কবিরাজ পাড়ার বাড়িঘর পদ্মায় বিলিন হয়ে যায়। সরকার আমাদের কে নদী ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাক।

 

এই এলাকার আপতাবুল,টিক্কা,নাজিম.মজনু,বজু,হান্নান,খোকন ও কালু প্রমানিক জানান, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতায় ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। আউশ ধান, কলাবাগান, নানা প্রকার শাকসবজির খেত নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনরোধ করা না হলে বাড়িঘরসহ সবকিছু নদীতে চলে যাবে।

 

কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা গবেষণা সম্পাদক অধ্যাপক নূরুল আমিন জসিম জানান,উপজেলার জুনিয়াদহ ফয়জুল্লাপুর কবিরাজ পাড়া ভাঙনের মুখে। এই এলাকা ভাঙ্গনের ফলে সাধারন জনগন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেড়শ” পরিবার হুমকির মুখে। বাড়িঘর ভাঙনের মুখে। নদী এখন ২শ’ মিটার দুরে রয়েছে। রোধ করা না হলে এই এলাকার বাড়িঘর সব নদী গর্ভে চলে যাবে। তাই ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

 

কুষ্টিয়া ২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের একটি প্রতিনিধি দল আজ ১৪ জুলাই মঙ্গলবার সকালে ভেড়ামারা উপজেলার রায়টা ফয়জুল্লাপুর নদী ভাঙন এলাকা পরির্দশন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়েতের আমির জালালউদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সহ সাধারণ সম্পাদক তারিক হোসেন প্রমূখ।

 

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মানদী থেকে নিয়ম না মেনে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। ভাঙন রোধে গত বছর ছোট জি ও ব্যাগ ফেলানো হয়। তার পর ও পদ্মার পাড় ভাঙা থামেনি। এই খানে প্রয়োজন এখন দ্রুত বড় বড় বালু ভর্তি জি ও ব্যঠস কিংবা ব্লক।