ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

স্কুলের পাশে ইটভাটা; স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

আলিফ হোসেনঃ

রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মান্দা উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের (ইউপি) সাবাইহাট ঝাঁঝরের মোড়ে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন ও লোকালয় হুমকিতে ফেলে গড়ে উঠেছে “যমুনা ব্রিকস”নামের অবৈধ ইটভাটা বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান,দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটা পরিচালিত হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ ও দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। ইট পোড়ানোর কাজ শুরু হলেই ভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা।

 

সরেজমিন দেখা গেছে, নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে মান্দার সাবাইহাট এলাকার ঝাঁঝরের মোড়ে ‘যমুনা ব্রিকস’ নামে ইটভাটাটি স্থাপন করা হয়েছে। ইটভাটার মাত্র ২৫০ মিটার দূরে রয়েছে একরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একরুখী উচ্চ বিদ্যালয়। আশপাশে রয়েছে আবাসিক এলাকা ও দুটি আমবাগান। গোসাইপুর গ্রামের কার্তিক চন্দ্র মন্ডল ইটভাটাটি পরিচালনা করেন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ফিক্সড চিমনির মাধ্যমে ইট পোড়ানো হচ্ছে। নামমাত্র
কয়লার পাশাপাশি কাঠের খড়ি ব্যবহার করায় ধোঁয়ার মাত্রা আরও বেড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে বসে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

 

জানা গেছে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (২০১৩ সালের সংশোধনী) অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা ও বাগানের এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। তবে এই আইন অমান্য করেই প্রায় ২০ বছর ধরে ইটভাটাটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

একরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, গত বছর ভাটা চালু হওয়ার পর তার এক সহপাঠী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা নিতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে ভোগে বলেও জানায় সে।

 

এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

 

এবিষয়ে তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান কামরুল বলেন, ইটভাটাটি নিয়ে তেমন কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কিছুদিন আগে ভাটা মালিক ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে ভাটা মালিক কার্তিক চন্দ্র মণ্ডল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই ভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আগামী বছর থেকে আর ব্যবসা করবেন না বলেও জানান তিনি।

 

এবিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, যমুনা ব্রিকসের পরিবেশ ছাড়পত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে লাইসেন্সবিহীন সব ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনবাগ বাজারে ফুটপাত দখলের মহোৎসব, নিরাপদ চলাচল এখন স্বপ্ন

error: Content is protected !!

স্কুলের পাশে ইটভাটা; স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

আপডেট টাইম : ০৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেনঃ

রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মান্দা উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের (ইউপি) সাবাইহাট ঝাঁঝরের মোড়ে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন ও লোকালয় হুমকিতে ফেলে গড়ে উঠেছে “যমুনা ব্রিকস”নামের অবৈধ ইটভাটা বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান,দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটা পরিচালিত হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ ও দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। ইট পোড়ানোর কাজ শুরু হলেই ভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা।

 

সরেজমিন দেখা গেছে, নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে মান্দার সাবাইহাট এলাকার ঝাঁঝরের মোড়ে ‘যমুনা ব্রিকস’ নামে ইটভাটাটি স্থাপন করা হয়েছে। ইটভাটার মাত্র ২৫০ মিটার দূরে রয়েছে একরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একরুখী উচ্চ বিদ্যালয়। আশপাশে রয়েছে আবাসিক এলাকা ও দুটি আমবাগান। গোসাইপুর গ্রামের কার্তিক চন্দ্র মন্ডল ইটভাটাটি পরিচালনা করেন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ফিক্সড চিমনির মাধ্যমে ইট পোড়ানো হচ্ছে। নামমাত্র
কয়লার পাশাপাশি কাঠের খড়ি ব্যবহার করায় ধোঁয়ার মাত্রা আরও বেড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে বসে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

 

জানা গেছে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (২০১৩ সালের সংশোধনী) অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা ও বাগানের এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। তবে এই আইন অমান্য করেই প্রায় ২০ বছর ধরে ইটভাটাটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

একরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, গত বছর ভাটা চালু হওয়ার পর তার এক সহপাঠী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা নিতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে ভোগে বলেও জানায় সে।

 

এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

 

এবিষয়ে তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান কামরুল বলেন, ইটভাটাটি নিয়ে তেমন কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কিছুদিন আগে ভাটা মালিক ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে ভাটা মালিক কার্তিক চন্দ্র মণ্ডল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই ভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আগামী বছর থেকে আর ব্যবসা করবেন না বলেও জানান তিনি।

 

এবিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, যমুনা ব্রিকসের পরিবেশ ছাড়পত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে লাইসেন্সবিহীন সব ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।