ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

লালপুরে ফুটবলের হারানো উৎসবের দিনে বড়াইগ্রামের জয়

লালপুরে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

রাশিদুল ইসলাম রাশেদ:

 

দীর্ঘদিন ধরে নীরব পড়ে থাকা লালপুর উপজেলা স্টেডিয়াম রোববার বিকেলে যেন আবারও প্রাণ ফিরে পেল। যে মাঠে বহুদিন কোনো বড় খেলার আয়োজন হয়নি, সেখানে আবারও ভিড় জমল শত শত দর্শকের। মুখর হয়ে উঠল গ্যালারি, বেজে উঠল বাঁশি আর করতালির ঢেউ। খেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের একরাশ হতাশা এদিন উবে গেল উচ্ছ্বাসে—রূপ নিল এক মহা উৎসবে।

 

নকআউট পর্বের খেলায় মুখোমুখি হয়েছিল লালপুর উপজেলা দল ও বড়াইগ্রাম উপজেলা দল। শুরু থেকেই খেলা ছিল উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিপূর্ণ। প্রথমার্ধেই বড়াইগ্রাম এক গোলে এগিয়ে যায়। গ্যালারিতে তখন খানিকটা নীরবতা। তবে সেই নীরবতা ভেঙে যায় দ্বিতীয়ার্ধে লালপুরের সমতাসূচক গোলের সঙ্গে সঙ্গেই। সমর্থকদের চিৎকারে কেঁপে ওঠে গ্যালারি।

 

নির্ধারিত সময় শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১–১। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে—আর সেখানেই ভাগ্য হাসে বড়াইগ্রামের পক্ষে। তারা পরপর চারটি শট জালে জড়াতে সক্ষম হয়, যেখানে লালপুর সফল হয় মাত্র দুটি শটে। ফলে ৪–২ গোলের ব্যবধানে বড়াইগ্রাম মাঠ ছাড়ে বিজয়ী হয়ে।

 

তবে আসল জয়ের গল্প লেখা হচ্ছিল মাঠের বাইরে। দীর্ঘ বিরতির পর উপজেলা স্টেডিয়ামে খেলা ফেরায় স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে অদ্ভুত এক উচ্ছ্বাস।

 

অনেকে বলছিলেন, “এই মাঠে আরেকটু নিয়মিত খেলার আয়োজন হলে তরুণরা মাঠমুখী হবে, পড়বে না ভুল পথে, যাবে না মাদকের কাছে।”

 

খেলাকে ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবাই মেতে ওঠেছিল আনন্দে। মনে হচ্ছিল, লালপুর আবারও ফিরে পাচ্ছে তার হারানো ক্রীড়ারীতি।

 

মাঠে উপস্থিত ছিলেন: নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আরিফ হোসেন, লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবীর হোসেন।

 

তারা গ্যালারিতে বসেই খেলোয়াড়দের প্রাণপণ লড়াই উপভোগ করেছেন, দেখেছেন দর্শকদের উচ্ছ্বাস।

 

ফুটবলের জয়, মানুষের দাবি

খেলা শেষে দর্শকদের একটাই দাবি ছিল—

লালপুর স্টেডিয়ামে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করা হোক। খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন নিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। কারণ, খেলাধুলা শুধু আনন্দ দেয় না, সমাজকেও রাখে সুস্থ ও ঐক্যবদ্ধ।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আলফাডাঙ্গায় প্রকাশ্যে যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

error: Content is protected !!

লালপুরে ফুটবলের হারানো উৎসবের দিনে বড়াইগ্রামের জয়

লালপুরে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

আপডেট টাইম : ১০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি :

রাশিদুল ইসলাম রাশেদ:

 

দীর্ঘদিন ধরে নীরব পড়ে থাকা লালপুর উপজেলা স্টেডিয়াম রোববার বিকেলে যেন আবারও প্রাণ ফিরে পেল। যে মাঠে বহুদিন কোনো বড় খেলার আয়োজন হয়নি, সেখানে আবারও ভিড় জমল শত শত দর্শকের। মুখর হয়ে উঠল গ্যালারি, বেজে উঠল বাঁশি আর করতালির ঢেউ। খেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের একরাশ হতাশা এদিন উবে গেল উচ্ছ্বাসে—রূপ নিল এক মহা উৎসবে।

 

নকআউট পর্বের খেলায় মুখোমুখি হয়েছিল লালপুর উপজেলা দল ও বড়াইগ্রাম উপজেলা দল। শুরু থেকেই খেলা ছিল উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিপূর্ণ। প্রথমার্ধেই বড়াইগ্রাম এক গোলে এগিয়ে যায়। গ্যালারিতে তখন খানিকটা নীরবতা। তবে সেই নীরবতা ভেঙে যায় দ্বিতীয়ার্ধে লালপুরের সমতাসূচক গোলের সঙ্গে সঙ্গেই। সমর্থকদের চিৎকারে কেঁপে ওঠে গ্যালারি।

 

নির্ধারিত সময় শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১–১। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে—আর সেখানেই ভাগ্য হাসে বড়াইগ্রামের পক্ষে। তারা পরপর চারটি শট জালে জড়াতে সক্ষম হয়, যেখানে লালপুর সফল হয় মাত্র দুটি শটে। ফলে ৪–২ গোলের ব্যবধানে বড়াইগ্রাম মাঠ ছাড়ে বিজয়ী হয়ে।

 

তবে আসল জয়ের গল্প লেখা হচ্ছিল মাঠের বাইরে। দীর্ঘ বিরতির পর উপজেলা স্টেডিয়ামে খেলা ফেরায় স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে অদ্ভুত এক উচ্ছ্বাস।

 

অনেকে বলছিলেন, “এই মাঠে আরেকটু নিয়মিত খেলার আয়োজন হলে তরুণরা মাঠমুখী হবে, পড়বে না ভুল পথে, যাবে না মাদকের কাছে।”

 

খেলাকে ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবাই মেতে ওঠেছিল আনন্দে। মনে হচ্ছিল, লালপুর আবারও ফিরে পাচ্ছে তার হারানো ক্রীড়ারীতি।

 

মাঠে উপস্থিত ছিলেন: নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আরিফ হোসেন, লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবীর হোসেন।

 

তারা গ্যালারিতে বসেই খেলোয়াড়দের প্রাণপণ লড়াই উপভোগ করেছেন, দেখেছেন দর্শকদের উচ্ছ্বাস।

 

ফুটবলের জয়, মানুষের দাবি

খেলা শেষে দর্শকদের একটাই দাবি ছিল—

লালপুর স্টেডিয়ামে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করা হোক। খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন নিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। কারণ, খেলাধুলা শুধু আনন্দ দেয় না, সমাজকেও রাখে সুস্থ ও ঐক্যবদ্ধ।