বাদশাহ মিয়া:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এমপিও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় মুকসুদপুর মডেল মহিলা ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে অনলাইনে আলিম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যবহার করে ২৪ জনের আবেদন করা হয়েছে বলে অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে ২৫ জন শিক্ষার্থীর আবেদন করার কথা জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।
জানা গেছে, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের লোহাচুড়া গ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন নেছার নামে শেখ ফজিলাতুন নেছা মহিলা মডেল মাদ্রাসাটি ১৯৯৬ সালে খ.ম. শাহাদৎ হোসেন মিজান নামে এক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে দাখিল মাদ্রাসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে আলিম ও ফাজিল পর্যায়ে উন্নীত করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে মুকসুদপুর মহিলা ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা করা হয়।
প্রতিবছরই মাদ্রাসাটি থেকে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের তাদের মতামত না নিয়ে আলিম শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষুব্ধ এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, চলতি বছর মাদ্রাসা থেকে ৩১ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের অধিকাংশই মাদ্রাসার আলিম শ্রেণিতে ভর্তি না হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার পরিকল্পনা করছিল। গত বুধবার ওই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থী মুকসুদপুর সদর বাজারের একটি দোকানে অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে গেলে জানতে পারেন, তার নামে ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বিষয়টি মাদ্রাসার একজন শিক্ষককে জানানো হলে তিনি নিশ্চিত করেন যে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এ বছর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আবেদন করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তারা নিজেরা আর নতুন করে আবেদন করতে পারছে না। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের না জানিয়েই ভর্তি আবেদন করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিবছরই দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমনটি করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খন্দকার দেলোয়ার হোসেন বলেন, দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হলে তারা যেন এই মাদ্রাসাতেই আলিম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে, সে চেষ্টা করা হয়। এ কারণেই অনলাইনে ভর্তি আবেদন শুরু হওয়ার পর তাদের সবার আবেদন করে দেওয়া হয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাফুজা বেগম বলেন, অনলাইনে ভর্তির আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাই সিদ্ধান্ত নেবেন, শিক্ষার্থী কোথায় পড়াশোনা করবে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যদি শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এমন কাজ করে থাকে, তাহলে সেটি অবশ্যই অন্যায়। তবে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই সেখানে পড়তে চাইলে বিষয়টি ভিন্ন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ তাদের কাছে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদ আশিক কবির বলেন, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা কোথায় ভর্তির আবেদন করবে, সেটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব বিষয়। ঘটনাটি সত্য কি না, তা তদন্ত করে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে 
বাদশাহ মিয়া, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি 



















