ঢাকা , বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা

বিয়ের প্রলোভনে তিন বছর শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ

আদালতে বিচার চাইলেন আফসানা

এস. এম সালমান হৃদয়ঃ

বগুড়ার কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালশুন পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ আফসানা খাতুন (জহুরুল ইসলামের কন্যা) একই গ্রামের প্রাণী চিকিৎসক বাহারুল কালাম রুবেলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ তিন বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রতারণার অভিযোগ এনে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বাহারুল কালাম রুবেল (পিতা: আনসার আলী) বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে ভীতসন্ত্রস্ত রাখা হতো।

ভুক্তভোগীর দাবি, গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি জানতে পারেন যে, বাহারুল কালাম রুবেল তার পূর্বের স্ত্রীকে পুনরায় ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি জানার পর বিয়ের দাবিতে তিনি অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে, সেখানে রুবেল এবং তার ভাই জাকিরুল ইসলাম তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৬ জুন ২০২৬ তারিখে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হলেও অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হননি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আরও এক সপ্তাহ সময় দিয়ে ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে পুনরায় উপস্থিত হতে বলেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিনও তারা উপস্থিত না হয়ে উল্টো ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেন। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও একশ্রেণির নেতাকর্মী বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ভুক্তভোগী আফসানা খাতুনের ভাষ্য, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাহারুল কালাম রুবেল তাকে তার পূর্বের স্বামীর সংসার থেকে বের করে আনেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেও তার আগের স্ত্রীকে তালাক দেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি দৈনিক পীরগাছা সংবাদ-এ প্রকাশিত হওয়ার পর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে ভুক্তভোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান। তিনি আদালতের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন। আফসানা খাতুন বলেন, “সে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। তাই সে আমাকে বিয়ে করবে। অন্যথায় আমি আত্মহত্যা করব।”

এ বিষয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতের পরবর্তী আদেশ ও তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারীতে জমকালো দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, বড়নগর সাহা বাড়িতে থাকছে বর্ণাঢ্য আয়োজন

error: Content is protected !!

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা

বিয়ের প্রলোভনে তিন বছর শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
এস. এম সালমান হৃদয়, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :

এস. এম সালমান হৃদয়ঃ

বগুড়ার কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালশুন পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ আফসানা খাতুন (জহুরুল ইসলামের কন্যা) একই গ্রামের প্রাণী চিকিৎসক বাহারুল কালাম রুবেলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ তিন বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রতারণার অভিযোগ এনে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বাহারুল কালাম রুবেল (পিতা: আনসার আলী) বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে ভীতসন্ত্রস্ত রাখা হতো।

ভুক্তভোগীর দাবি, গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি জানতে পারেন যে, বাহারুল কালাম রুবেল তার পূর্বের স্ত্রীকে পুনরায় ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি জানার পর বিয়ের দাবিতে তিনি অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে, সেখানে রুবেল এবং তার ভাই জাকিরুল ইসলাম তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৬ জুন ২০২৬ তারিখে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হলেও অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হননি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আরও এক সপ্তাহ সময় দিয়ে ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে পুনরায় উপস্থিত হতে বলেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিনও তারা উপস্থিত না হয়ে উল্টো ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেন। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও একশ্রেণির নেতাকর্মী বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ভুক্তভোগী আফসানা খাতুনের ভাষ্য, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাহারুল কালাম রুবেল তাকে তার পূর্বের স্বামীর সংসার থেকে বের করে আনেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেও তার আগের স্ত্রীকে তালাক দেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি দৈনিক পীরগাছা সংবাদ-এ প্রকাশিত হওয়ার পর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে ভুক্তভোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান। তিনি আদালতের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন। আফসানা খাতুন বলেন, “সে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। তাই সে আমাকে বিয়ে করবে। অন্যথায় আমি আত্মহত্যা করব।”

এ বিষয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতের পরবর্তী আদেশ ও তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা হবে।