ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বাঘায় হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম, মামলা হলেও আসামি গ্রেপ্তার হয়নি

আব্দুল হামিদ মিঞা:

রাজশাহীর বাঘায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসার একদিন পর পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যার উদ্দেশ্যে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মামুন হক (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

আহত মামুন হক বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের গঙ্গারামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল সরকারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে গঙ্গারামপুর গ্রামের আশাদুলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মামুন হক মাটিতে পড়ে গেলে জিয়াউল হক লোহার শাবল এবং আশরাফুল ইসলাম বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ফোলা জখম করে।

এ সময় স্থানীয় মোখলেস, আসাদুল ইসলাম, জামাল আলীসহ আরও কয়েকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মামুন হককে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তার মাথার ডান পাশে গুরুতর কাটা জখমে ১১টি সেলাই দেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার দুই দিন আগে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মামলার ১ নম্বর আসামি জয়নাল আবেদিন পূর্ব শত্রুতার জেরে মনিগ্রাম বাজারে গরু জবাইয়ের ছুরি হাতে মামুন হককে হত্যার উদ্দেশ্যে খোঁজাখুঁজি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাকে বাধা দিয়ে ছুরিটি কেড়ে নিয়ে মনিগ্রাম বাজারের আমিনুর ডাক্তারের দোকানে রাখে।

পরদিন মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে মনিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ মুকুল হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

মীমাংসার পরদিনই এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন মামুন হক। এ ঘটনায় তিনি জয়নাল আবেদিন (২২), তার পিতা জিয়াউল হক (৪৮), আশরাফুল ইসলাম (৬০)সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বাঘা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামুন হক অভিযোগ করে বলেন, “মামলা দায়ের হলেও আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।”

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জামিল হোসেন বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনবাগ বাজারে ফুটপাত দখলের মহোৎসব, নিরাপদ চলাচল এখন স্বপ্ন

error: Content is protected !!

বাঘায় হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম, মামলা হলেও আসামি গ্রেপ্তার হয়নি

আপডেট টাইম : ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আব্দুল হামিদ মিঞা:

রাজশাহীর বাঘায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসার একদিন পর পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যার উদ্দেশ্যে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মামুন হক (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

আহত মামুন হক বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের গঙ্গারামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল সরকারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে গঙ্গারামপুর গ্রামের আশাদুলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মামুন হক মাটিতে পড়ে গেলে জিয়াউল হক লোহার শাবল এবং আশরাফুল ইসলাম বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ফোলা জখম করে।

এ সময় স্থানীয় মোখলেস, আসাদুল ইসলাম, জামাল আলীসহ আরও কয়েকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মামুন হককে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তার মাথার ডান পাশে গুরুতর কাটা জখমে ১১টি সেলাই দেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার দুই দিন আগে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মামলার ১ নম্বর আসামি জয়নাল আবেদিন পূর্ব শত্রুতার জেরে মনিগ্রাম বাজারে গরু জবাইয়ের ছুরি হাতে মামুন হককে হত্যার উদ্দেশ্যে খোঁজাখুঁজি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাকে বাধা দিয়ে ছুরিটি কেড়ে নিয়ে মনিগ্রাম বাজারের আমিনুর ডাক্তারের দোকানে রাখে।

পরদিন মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে মনিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ মুকুল হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

মীমাংসার পরদিনই এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন মামুন হক। এ ঘটনায় তিনি জয়নাল আবেদিন (২২), তার পিতা জিয়াউল হক (৪৮), আশরাফুল ইসলাম (৬০)সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বাঘা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামুন হক অভিযোগ করে বলেন, “মামলা দায়ের হলেও আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।”

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জামিল হোসেন বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”